ঢাকা, রবিবার, ৪ ভাদ্র ১৪২৫, ১৯ আগস্ট ২০১৮
Risingbd
শোকাবহ অগাস্ট
সর্বশেষ:

বিস্ময়কর সহোদর কাহিনি (প্রথম পর্ব)

মাহমুদুল হাসান আসিফ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৪-১৯ ১০:৫৫:৩৭ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৪-১৯ ১:৪৫:২৬ পিএম

মাহমুদুল হাসান আসিফ : নিজেই নিজের যমজকে জন্ম দেয়া থেকে শুরু করে জন্মের সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা চারপাশে অহরহ ঘটে চলেছে। এগুলোর মধ্যে কিছু ঘটনা অত্যন্ত রহস্যময় যা দৈনন্দিন ভাই-বোনের মধ্যে ঘটা খুনসুটির মতো নয়। এসব কিছু অবিশ্বাস্য ঘটনা নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

নিজেই যখন নিজের যমজ
গল্পটি আমেরিকান গায়িকা ও মডেল টেইলর মুহুলের, যার দেহে দুইটি ভিন্ন ধরনের ডিএনএ বিদ্যমান। আসলে একইসঙ্গে দুইজন মানুষের সত্ত্বা থাকা অনেকটা অসম্ভব একটা ব্যাপার। মুহুলের এই বিরল পরিস্থিতির কারণ হচ্ছে, গর্ভে থাকা অবস্থায় নিজের যমজকে সন্নিবেশিত করে নেওয়া। এটি আসলে একটি জন্মসংক্রান্ত সমস্যা যাকে ডাক্তারি ভাষায় কাইমেরিজম বলে।

মুহুলের দেহে দুইধরনের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা আছে, এমনকি তার দেহে দুইধরনের রক্ত প্রবাহিত হয় এবং তার শরীর তার যমজের ডিএনএ প্রতিহত করে রাখে। এই কারণে সবসময় বিভিন্ন ধরনের এলার্জি সহ্য করতে হয়। তাছাড়া তার দেহের মাঝ বরাবর দেহ বিভক্তকারী অদ্ভুত ধরনের জন্মদাগ রয়েছে। মুহুল এটা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন এবং তিনি ডাক্তারি পরীক্ষাও করান। রিপোর্টে কোনো সমস্যা ছিল না এবং মুহুল অবশেষে এই বিষয়ে নিশ্চিন্ত হন।

* গুরু যখন আপন বোন
এই গল্পটি জেন ব্রিকার নামে একটি নারীর যার জন্মের সময় কোনো পা ছিল না। তাকে রোমানিয়ার একটি এতিমখানা থেকে ছোট্ট বয়সে দত্তক নেওয়া হয়। তার জিমন্যাস্টিকসের প্রতি প্রবল ঝোঁক ছিল, যদিও তিনি শারীরিকভাবে অক্ষম ছিলেন। অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী জিমন্যাস্ট ডোমিনিক মোকেনুকে জেন তার গুরু হিসেবে মানতেন। জেনের একমাত্র ইচ্ছা ছিল তার গুরু মোকেনুর মতো হওয়া। পরবর্তীতে ব্রিকার তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেন এবং একজন পুরস্কারপ্রাপ্ত জিমন্যাস্টে পরিণত হন।

২০০৩ সালে ব্রিকার আশ্চর্য এক সত্যের মুখোমুখি হন। ব্রিকার আবিষ্কার করেন, মোকেনু আসলে তার আপন বোন। তার জন্মদাতা পিতা এবং মাতা দুইজনই অলিম্পিক জিমন্যাস্ট ছিলেন। তারপর থেকে ব্রিকার, মোকেনু এবং তাদের তৃতীয় বোন ক্রিস্টিনা আপন বোন হিসেবে একসঙ্গে আছেন।

* একইরকম দেখতে যমজের মধ্যে বিস্ময়কর মিল
১৯৭৯ সালে জিম স্প্রিঙ্গার ও জিম লুইস নামে দুই যমজ ভাই ৩৯ বছর বয়সে পরস্পরকে খুঁজে পাওয়ার পর দেখলেন যে, তাদের দুজনের নামের প্রথম অংশই শুধু একই নয়, বরং তাদের স্ত্রীর নাম একই এবং তাদের কুকুরের নামও একই। এগুলো কেমন কাকতালীয় ব্যাপার বলে মনে হতে পারে কিন্তু এখানেই শেষ নয়। তাদের দুজনেরই দুশ্চিন্তার ফলে মাথাব্যথা করতো, তারা দুজনই দাঁত দিয়ে নখ কাটতেন এবং দুজনই সালেম নামের সিগারেটের নেশায় আসক্ত ছিলেন। তাছাড়া তারা উভয়েই ফ্লোরিডার সমুদ্র সৈকতে সময় কাটাতে পছন্দ করতেন।

আসলে এই ব্যাপারগুলোর ব্যাখ্যা একমাত্র জিনতত্ত্ব দিতে পারে। সাধারণত জিনগত প্রচুর মিল থাকার কারণে এরকম সামঞ্জস্য দেখা যায়।

* জন্মের সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া দুজন
অ্যালিস কলিন্স প্লিবুখ নামে একজন নারী তার আইরিশ অস্তিত্ব খুঁজে বের করার জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করান। পরীক্ষায় দেখা যায় তিনি অর্ধেক ইহুদী। তার পিতা-মাতা আইরিশ ছিল। তখন অ্যালিসের মাথায় চিন্তা ঢোকে যে, তার মায়ের অন্য কোনো সম্পর্ক ছিল কিনা। আসলে তার মায়ের অন্য কোনো সম্পর্ক ছিল না কিন্তু তার বাবা জিম কলিন্সের মধ্যে একটা কাহিনি লুকিয়ে ছিল। ১৯১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জিম কলিন্স ফোরডাম হসাপাতালে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি ইহুদী ছিলেন। সেই একই দিনে একই সময়ে ফিলিপ বেনসন নামে একজন ফোরডাম হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন। সেই সময়ে বাচ্চাদের শনাক্ত করার জন্য কোনো পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা ছিল না। এই কারণে জিম চলে যান এক আইরিশ পরিবারে এবং ফিলিপ চলে যান এক ইহুদী পরিবারে।

এই রহস্যের অবশেষে সমাধান পাওয়া যায় যখন ফিলিপের নাতনী জেসিকা তার ডিএনএ পরীক্ষা করান যা অ্যালিসের সঙ্গে আংশিক মিলে যায়। জিম এবং ফিলিপ জন্মের সময় বদলে যান।

* বোনের জীবন রক্ষার্থে যার জন্ম
ম্যারি এবং আব্রাহাম আয়ালা নামে এক দম্পতি তাদের ১৬ বছর বয়সি মেয়ে অ্যানিসার জীবন বাঁচাতে নতুন এক সন্তানের জন্ম দেন। তাদের প্রথম মেয়ের জন্মের ১৬ বছর পরে ১৯৯০ সালে ম্যারিসা নামে তাদের একটি মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়। অ্যানিসা লিউকোমিয়া রোগে আক্রান্ত ছিল এবং তার চিকিৎসার জন্য বোনম্যারু দরকার ছিল যা ম্যারিসার থেকে নেওয়া হয়। মূলত ম্যারিসার পৃথিবীর বুকে আসার এটাই আসল কারণ ছিল।

পরবর্তীতে ম্যারিসার বোনম্যারু অ্যানিসার দেহে প্রতিস্থাপন করা হয় এবং সে সুস্থ জীবনযাপন করতে থাকে। আয়ালা পরিবার মনে করেন তাদের এই ঘটনার মাধ্যমে মানুষের মাঝে বোনম্যারু দান করা নিয়ে সচেতনতা তৈরি হবে। পরবর্তীতে ম্যারিসা ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

* হিলটন বোনদ্বয়ের কাহিনি
১৯০৮ সালে ডেইজি এবং ভায়োলেট যমজ বোনের জন্ম হয়। তাদের মা তাদের চাননি। এই কারণে ধাত্রী ম্যারি হিল্টন তাদের নিয়ে নেন। আসলে ম্যারি যমজ বোনদুটিকে তাদের মায়ের কাছ থেকে কিনে নেন তার এবং তার স্বামীর মদের দোকানে নাচিয়ে হিসেবে কাজে লাগানোর জন্য। ম্যারি মেয়ে দুইটিকে নাচের এবং লোকরঞ্জনের নানান প্রশিক্ষণ দিয়ে বড় করেন এবং তারা পরবর্তীতে বেশ খ্যাতি অর্জন করে। কিন্তু তাদের এই কাজের মধ্যে দিয়ে কোনো ভবিষ্যৎ ছিল না, কেননা ম্যারি এবং তার স্বামী মেয়ে দুটির রোজগারের টাকা আত্মসাৎ করে ফেলতো।

পরবর্তীতে ডেইজি এবং ভায়োলেট তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে এবং শেষমেশ নর্থ ক্যারোলিনাতে বসবাস শুরু করেন। ১৯৬৮ সাল দুইবোন একইসঙ্গে ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায় এবং তাদেরকে একইসঙ্গে একটি কফিনে দাফন করা হয়।

(আগামী পর্বে সমাপ্য)




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৯ এপ্রিল ২০১৮/ফিরোজ

Walton Laptop
 
     
Walton