ঢাকা, বুধবার, ১১ বৈশাখ ১৪২৬, ২৪ এপ্রিল ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

নিজের ক্লান্তি ভুলে অন্যের ক্লান্তি দূর করেন তিনি

জুনাইদ আল হাবিব : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০১-২৪ ৩:৩৩:৩৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০১-২৪ ৩:৩৭:৩১ পিএম

জুনাইদ আল হাবিব: পিচঢালা সড়কের প্রান্ত ছুঁয়ে কেউ একজন হাঁটছেন। এক হাতে চায়ের ফ্লাক্স, আরেক হাতে বালতি। বালতিতে পানি ও চায়ের কাপ। যেন দু’হাতে বয়ে বেড়াচ্ছেন চায়ের দোকান। সড়কের দু’পাশেই সারি সারি দোকানপাট। দোকানের ভেতর থেকে একজনের কণ্ঠ শোনা গেল- ভাই, চা আছে?
দাঁড়ালেন তিনি। বালতির পানি দিয়ে কাপ পরিষ্কার করলেন যত্ন নিয়ে। তারপর ফ্লাক্স থেকে কাপে চা ঢেলে দিলেন সেই গ্রাহককে। চায়ে চুমুক দিয়েই তিনি স্বাদের খবরটা সবাইকে জানিয়ে দিলেন। ফলে তারাও চায়ের অর্ডার দিলো। মুহূর্তেই জমে গেল আড্ডা। এই ফাঁকে কথা হচ্ছিল ভ্রাম্যমাণ চা বিক্রেতা রুহুল আমিনের সঙ্গে। তাঁর বয়স ৭০ ছুঁয়েছে।

কৃষিকাজের অবসরে চা বিক্রি করেন রুহুল আমিন। সন্ধ্যা নামলেই বাড়ি থেকে চা বানিয়ে হাঁটতে থাকেন তিনি। হাঁটা পথেই চা বিক্রি করেন। গল্পের একপর্যায়ে তিনি বলছিলেন, ‘আমি জুট মিলের শ্রমিক ছিলাম। সেখানে কাজ শেষ হলে চা বিক্রি করতাম হেঁটে হেঁটে। ২০ বছর থেকে চা বিক্রি করি। আগে ঢাকাতে, পরে চট্টগ্রামে লাল চা বিক্রি করতাম। এরপর গ্রামে ফিরে আসি। কৃষিকাজ শুরু করি। দিনে ক্ষেতে কাজ করে সন্ধ্যায় অবসর মেলে। অবসর সময়টুকু চা বিক্রি করে কেটে যায়।’

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের তোরাবগঞ্জ বাজারে দেখা হয়ে যায় রুহুল আমিনের সঙ্গে। তার গ্রামের বাড়ি তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে। রুহুল বলেন, ‘মাঝখানে চা বিক্রি বন্ধ রেখেছিলাম। তখন অনেকেই বলত- আপনার চা খুব মিস করি। তাই আবার চা বিক্রি শুরু করেছি।’
এই অল্প সময়ে একশ’ টাকা খরচ করে চা বানান তিনি। প্রতিদিন বিক্রি হয় প্রায় দুইশ’ টাকা। বিক্রি শেষ হলে বাড়ি ফিরে যান। এতে মোটামুটি সংসারও ভালো চলে তাঁর। রুহুল আমিন আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার নিজের জায়গা-জমি নেই। অন্যের বাড়িতে থাকি। বাপ-দাদারও কোনো সম্পত্তি ছিল না। তাই অবসর সময়ে ক্লান্তি দূরে রেখে মানুষজনের সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে চায়ের ফ্লাক্স হাতে তুলে নেই।’




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৪ জানুয়ারি ২০১৯/ফিরোজ/তারা

Walton Laptop
     
Walton AC
Marcel Fridge