ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৮ জুলাই ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

বেতন নিয়ে কথা বলবেন যেভাবে

আহমেদ শরীফ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০২-০৫ ৮:০১:৩৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০২-০৫ ৮:০১:৩৪ পিএম
বেতন নিয়ে কথা বলবেন যেভাবে
প্রতীকী ছবি
Voice Control HD Smart LED

আহমেদ শরীফ : আপনার কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাওয়া ও নামে মাত্র বেতন পাওয়া আর কাঙ্ক্ষিত চাকরির পাশাপাশি মাসে মোটা অংকের বেতন পাওয়া- এ দুই অবস্থার মাঝে ব্যাপক ফারাক রয়েছে। তাই বেতন নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলুন। তবে কিভাবে, কখন ও কেমন দাবি করবেন, সেজন্য কিছু টিপস জানতে হবে আপনাকে।

* আপনার অভিজ্ঞতার বিষয়টি আগে জানান : চাকরির ইন্টারভিউয়ের সময় প্রথমে আপনার অভিজ্ঞতার বিষয়টি নিয়োগদাতাদের জানান। তাদের বুঝতে দিন, কেন এই পদের জন্য যোগ্য আপনি।

* আপনার সাফল্যগুলোর কথা বলুন : আগে আপনি কোন প্রতিষ্ঠানে, কোন পদে কাজ করেছেন, সেটা জানানোই শেষ কথা নয়। নিয়োগদাতাদের জানান, কিভাবে প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বাড়িয়েছেন আপনি। যেমন: হয়তো আপনি ওই প্রতিষ্ঠানে ছয় মাস বা এক বছরে আপনি ২০ শতাংশ বিক্রি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছেন। অথবা ছয় মাস বা এক বছরে হয়তো উৎপাদন দ্বিগুণ করেছেন আপনি।

* বেতনের কথা প্রথমেই বলবেন না : চাকরি ক্ষেত্রে একটি সূক্ষ মৌলিক বিষয় হলো ইন্টারভিউয়ের সময় বেতনের কথা প্রথমেই না বলা। নিয়োগদাতাদের আগে এ বিষয়ে কথা বলতে দিন। পরে আপনি নিজের চাহিদা অনুযায়ী বেতনের কথা বলতে পারেন। কারণ যখন নিয়োগদাতা প্রথমে আপনাকে বেতনের কথা বলবেন, বুঝতে হবে চাকরিটা পেয়ে গেছেন আপনি। তাই চাকরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আগে বেতনের বিষয়ে প্রশ্ন করা ঠিক হবে না।

* নির্দিষ্ট পদের ব্যাপারে আগ্রহ দেখান : কাজের প্রতি একাগ্রতা ভালো উৎপাদনশীলতার চাবিকাঠি। তাই যে পদের জন্য আবেদন করেছেন আপনি, সেটার প্রতি আগ্রহ দেখান, মুখে হাসি বজায় রাখুন। এতে আপনার পেশাদারিত্ব উপলব্ধি করে নিয়োগদাতারা কাঙ্ক্ষিত বেতন নির্ধারণ করবেন।

* ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ টেনে আনবেন না : কোম্পানির নির্দিষ্ট বাজেট আর আপনার কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই বেতন নির্ধারণ করা হয়। তাই নিয়োগের সময় বা পরবর্তীতে ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ টেনে এনে বেতন বাড়ানোর চিন্তা করবেন না।

* সব কিছু জেনে ইন্টারভিউতে যান : যখন কোনো অফিসে ইন্টারভিউ  দিতে যাবেন, তখন আপনার আবেদন করা পদে বেতন কতো, দায়িত্ব কি কি, কোম্পানির কাজের ধরন কেমন সব কিছু বিস্তারিত জেনে তারপর যাবেন। এতে নিয়োগদাতা আপনাকে কোনো প্রশ্ন করলে আপনি সহজে উত্তর দিতে পারবেন। তাতে বেতন নিয়ে বাড়তি আলোচনাও হয়তো করতে হবে না।

* নিজের মূল্য বুঝুন : বেতন নিয়ে কথা বলতে গেলে আগে নিজের অভিজ্ঞতা, মূল্য বুঝুন। আপনি যে বেতনের দাবি করছেন তা কি পাওয়ার যোগ্য আপনি? যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে আগের বা বর্তমানে যে চাকরি করছেন, সেখানে কতো বেতন পান, তা জানান। নিয়োগদাতাদের এটা বুঝতে দিন আপনার দক্ষতা অনুযায়ী চাকরি বাজারের প্রেক্ষাপটেই যৌক্তিক বেতন দাবি করছেন আপনি। আর এক্ষেত্রে আপনার কোম্পানি ও কাজের ক্ষেত্র সম্পর্কে জানা বেশ জরুরি।

* আপনার সর্বনিম্ন বেতন চাহিদা কতো জানুন : নিয়োগদাতারা সাধারণত নতুন চাকরীজীবীদের সঙ্গে বেতন নিয়ে আলোচনা করেন। তাই আগে থেকেই ভেবে রাখুন সর্বনিম্ন কতো বেতন হলে চাকরি করবেন আপনি। নতুন চাকরীজীবী হলে যদি দেখেন নিয়োগদাতারা আপনার সর্বনিম্ন বেতন চাহিদার চেয়েও কম বেতন অফার করছেন আপনাকে, তাহলে অন্যান্য কি সুবিধা আছে তা জানুন। অথবা চাকরিটা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন আপনি।

* চাকরি প্রত্যাখ্যানের সাহস দেখান : যদি নিয়োগদাতা আপনাকে কাঙ্ক্ষিত বেতনে নিয়োগ দিতে না চান, তাহলে চাকরি প্রত্যাখানের সাহস দেখান। এটা বেতন নিয়ে সমঝোতার সর্বোত্তম উপায় হতে পারে। তাদের বুঝতে দিন এই চাকরিটা না করলেও আপনার জন্য অন্য পথ খোলা আছে এবং কাঙ্ক্ষিত বেতনে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেতে পারেন আপনি। আপনার দেহভাষায় বুঝিয়ে দিন ওই বেতনে কাজ করছেন না আপনি, এতে হয়তো আরো ভালো বেতনে কর্তৃপক্ষ নিয়োগ দিতে পারেন আপনাকে। তবে অবশ্যই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখবেন যে নিয়োগদাতারা হয়তো আপনাকে পুনরায় ডাকতে নাও পারেন।

* নিজেকে যোগ্যতর হিসেবে তুলে ধরুন : নিয়োগদাতারা একজন উপযুক্ত চাকরিজীবীকে ‘কিনে’ নেয়ার চেষ্টা করেন। যেমনটা আপনি মার্কেটে গিয়ে তুলনামূলক কম দামে ভালো কোনো পণ্য কিনতে চান। তাই নিজের সব দক্ষতাগুলো একে একে তাদের কাছে ফুটিয়ে তুলুন আপনি। আর সেসব কারণ উল্লেখ করুন কেন তারা আপনাকে যোগ্যতর বিবেচনা করবেন।

* নিয়োগদাতার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়াবেন না : বেতন সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে নিয়োগদাতাদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়াবেন না। এক্ষেত্রে আপনার কাঙ্ক্ষিত বেতন ‘না হলেই নয়’ এ ধরনের মানসিকতা ঝেরে ফেলুন। সুন্দর, বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে বেতন নিয়ে আলোচনা করুন। এতে নিয়োগদাতার দারুণ ব্যবহারে হয়তো আপনি নিজেই অবাক হয়ে যাবেন।

* স্থির ও নিয়ন্ত্রণে রাখুন নিজেকে : কয়েক বছর চাকরি করার পর ও নিজেকে বার বার প্রমাণ করার পরও যদি আপনি কাঙ্ক্ষিত বেতন না পান সেটা দুঃখজনক। এক্ষেত্রে নিজেকে স্থির ও নিয়ন্ত্রণে রাখুন। আবেগ দমন করুন। হয়তো আপনার এই আচরণের জন্যই বসের কাছে প্রিয় পাত্রে পরিণত হবেন আপনি। এতে বেতন বৃদ্ধির বিষয়টিও বিবেচনা করবেন তিনি।

* বেতনের প্রথম অফার রূঢ় ভাবে প্রত্যাখ্যান করবেন না : ইন্টারভিউয়ের সময় বা কাজে যোগ দেয়ার আগে নিয়োগদাতা আপনাকে যে বেতনের কথা প্রথম জানাবেন তা যদি আশানুরূপ না হয়, তাহলে রূঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করবেন না। চুপ থাকুন। তাকে বুঝতে দিন আপনি এ অফারে সন্তুষ্ট নন। তিনি নিজেই হয়তো নীরবতা ভেঙে আরো ভালো বেতনের কথা জানাবেন আপনাকে।

* বিকল্প পরিকল্পনা করতে পারেন : যদি দেখেন বেতন বিষয়ে আলোচনা আপনার মনের মতো হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে বিকল্প পরিকল্পনা করুন। আপনার ভালো পারফরম্যান্সের ব্যাপারে আগের অফিসের বস বা উর্ধ্বতন কর্মকর্তার রেফারেন্স লেটার দেখাতে পারেন নিয়োগদাতাকে। এছাড়া কোম্পানিটি খুব ভালো হলে এবং আপনার প্রত্যাশিত বেতনের কাছাকাছি বেতন অফার করা হলে চাকরিটা গ্রহণ করুন এই শর্তে যে অদূর ভবিষ্যতে কাজের ভিত্তিতে আপনার বেতন বাড়ানো হবে।

চাকরিক্ষেত্রে বেতন নিয়ে আলোচনা খুব গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলী একটি দিক। কারণ প্রত্যাশিত বেতনের জন্যই কাজ করছেন আপনি। তাই গুরুত্ব ও কৌশলের কথা বিবেচনা করে সব সময় নিয়োগদাতাদের সঙ্গে বেতন নিয়ে আলোচনা করুন।

পড়ুন : বেতন আলোচনায় যে কথাগুলো বলা উচিৎ নয়



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/ফিরোজ

Walton AC
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       

Walton AC
Marcel Fridge