ঢাকা, সোমবার, ১১ চৈত্র ১৪২৫, ২৫ মার্চ ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

করসেবা ও আওতা বৃদ্ধিতে জেলায় জেলায় রাজস্ব ভবন

এম এ রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১২-২৯ ৮:৫৮:৪৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০১-০৯ ৯:১৩:১৩ পিএম

এম এ রহমান মাসুম : করদাতাদের সেবা পৌঁছে দিতে এবং আয়কর ও মূল্য সংযোজন করের আওতা আরো বৃদ্ধি করতে জেলায় জেলায় নিজস্ব রাজস্ব ভবন নির্মাণ করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)।

এ উদ্যোগের আওতায় রাজস্ব ভবন-১ ও রাজস্ব ভবন-২ নির্মাণ প্রকল্প নামের দুই ধরনের প্রকল্প কাজের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে রাজস্ব ভবন-১ নির্মাণ কাজের জন্য টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর চলছে যাচাই-বাছায়ের কাজ। এগিয়ে চলছে রাজস্ব ভবন-২ এর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরির কাজ।

চলতি বছরের নভেম্বরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হওয়া বোর্ড সভা সূত্র থেকে রাজস্ব ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়ার এমন অগ্রগতির বিষয়টি জানা গেছে। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় উপস্থিত এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সভা সূত্র জানায়, সভায় এনবিআরের লিগ্যাল অ্যান্ড অ্যানফোর্সমেন্ট থেকে জানানো হয়, রাজস্ব ভবন-১ নির্মাণ কাজের জন্য টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ৩টি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার দাখিল করেছে। এখন চলছে টেন্ডার যাচাই-বাছায়ের কাজ। অন্যদিকে কাস্টমস ও ভ্যাটের জন্য নিজস্ব ভবন নির্মাণের বিষয়ে সভায় এনবিআর সদস্য (মূসক নীতি) মো. রেজাউল হাসান জানিয়েছেন, রাজস্ব ভবন-২ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনার (ডিপিপি) কাজ শুরু করার জন্য প্রকল্প পরিচালককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এনবিআরের মাঠ পর্যায়ের অফিস ও দপ্তর নির্মাণে ডিপিপি প্রস্তুতিতে ভ্যাট অনলাইন কারিগরি সহায়তা প্রদানে আগ্রহী।

সভা শেষে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্তগুলো হলো-এনবিআরের জেলা পর্যায়ে নিজস্ব জমি থাকলে সে ভূমিতে ভবন নির্মাণের জন্য প্রজেক্ট গ্রহণ করতে হবে। যে জেলায় কর ও ভ্যাট অফিস নাই তা চিহ্নিত করে সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে ভ্যাট অনলাইন সহায়তা করবে। আর যেসব জেলা পর্যায়ে অফিস নির্মাণের জন্য ডিপিপি প্রস্তুত করা হয়েছে তা অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে প্রেরণ করতে হবে। অন্যদিকে রাজস্ব ভবন-২ নির্মাণে কাজ শুরু করার জন্য প্রকল্প পরিচালককে পত্র দিতে হবে।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এনডিসি বলেন, সারা দেশে ভবন নির্মাণ সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ এবং ডিপিপি প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালককে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

রাজস্ব আদায়ে বাজেটের ৮৫ শতাংশ রাজস্ব যোগান দেয় এনবিআর। রাজস্ব সংগ্রহে জেলায় প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন রাজস্ব ক্ষেত্র। সে সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্যই এ উদ্যোগ। কিন্তু এনবিআরের নেই নিজস্ব ভবন। ফলে, স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে। মামলা জটিলতার পর আগারগাঁও এনবিআরের নতুন ভবন নির্মাণকাজ এগিয়ে চলেছে।

কর সেবা করদাতাদের পৌঁছে দিতে এরই মধ্যে আরো নতুন ১২টি কর অঞ্চল স্থাপন করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৩১টি কর অঞ্চলের অধীনে ৬৪৯টি সার্কেল অফিস কর সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।

এনবিআর সূত্র বলছে, বর্তমানে রাজধানী ছাড়াও জেলা শহর, গ্রাম এলাকায় গড়ে উঠছে কলকারখানা। অর্থনৈতিক সমতায় শহর আর গ্রামের দূরত্ব কমে আসছে। রাজস্ব আয়ে জেলাসমূহ দিন দিন সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। তাই নতুন, জন ও রাজস্ববান্ধব এনবিআর গঠন ও রূপকল্প বাস্তবায়নে জেলা ও উপজেলায় করজাল বিস্তার করছে এনবিআর। তবে জেলা, উপজেলায় করের নিজস্ব ভবন ও জনবল কম থাকায় বিস্তারের গতি অনেকটাই মন্থর হয়ে রয়েছে। তাই জেলা-উপজেলায় করজাল বিস্তারে করদাতা এবং সম্ভাবনাময় রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে জরিপের ওপর জোর দিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় প্রযুক্তি সংবলিত, আধুনিক নিজস্ব কর ভবন নির্মাণে সিদ্ধান্ত নেয়।

এনবিআর নানামুখী উদ্যোগে করদাতা সংগ্রহে বড় ধরনের সাফল্য অব্যাহত রেখেছে। আয়কর মেলা, বিকেন্দ্রীকরণ আয়কর মেলা ও কর সপ্তাহসহ নানা আয়োজনে করদাতাদের কাছ পেয়েছে বিপুল সাড়া। এরই মধ্যে করদাতা সনাক্তকরণ নম্বর বা ই-টিআইএনধারীর সংখ্যা ৩৮ লাখ ছাড়িয়েছে। মাত্র ৪ বছরে করদাতার সংখ্যা তিনগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ই-টিআইএনধারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ লাখ ১৬ হাজার। বেড়েছে রিটার্ন দাখিলের সংখ্যাও। ইতোমধ্যে রিটার্ন দাখিল ১৭ লাখ ছাড়িয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেছেন চলতি অর্থবছরে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২২ থেকে ২৪ লাখ হতে পারে। অন্যদিকে অনলাইনে ইলেকট্রনিক বিজনেস আইডেনটিফিকেশন নম্বর বা ই-বিআইএন অনলাইন ভ্যাট নিবন্ধন দেড় লাখ ছাড়িয়েছে।

২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটে জাতীয় রাজস্ব র্বোডকে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। যা জিডিপির ১১.৭ শতাংশ। এর মধ্যে সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে মূল্য সংযোজন করে (মূসক/ভ্যাট) ১ লাখ ১০ হাজার ৫৪৩ কোটি টাকা। এরপর আয়কর ও অন্যান্য প্রত্যক্ষ করে ১ লাখ দুই হাজার ২০১ কোটি টাকা ও আমদানি-রপ্তানি শুল্কে ৮৩ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা। আর বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। কর-বহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আদায় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। যা জিডিপির ১.৩ শতাংশ। এনবিআরের জন্য তার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে এনবিআরের বর্তমান কাঠামোতে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ অসম্ভব। আর এজন্যই কর অফিস আরো সম্প্রসারণের পথে হাঁটছে এনবিআর।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৯ ডিসেম্বর ২০১৮/এম এ রহমান/সাইফ

Walton Laptop
 
     
Walton AC