ঢাকা, শনিবার, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৭ নভেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

সেই ইডেনে ফিরে রোমাঞ্চিত স্টয়নিস

আবু হোসেন পরাগ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০২-১৪ ১০:৫৫:৩৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০২-১৪ ১১:০২:০৬ পিএম
খুদে ভক্তদের অটোগ্রাফ দিতে ব্যস্ত মার্কাস স্টয়নিস

ক্রীড়া ডেস্ক : ট্রান্স-তাসমান ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম তিন ম্যাচ জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া। আগামী শুক্রবার অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে অসিরা। বছর খানেক আগে এই মাঠেই ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক ইনিংস খেলেছিলেন মার্কাস স্টয়নিস। সেই ইডেন পার্কে ফিরে রোমাঞ্চিত অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার।

ঘটনাটা ২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারি। নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। স্টয়নিস ৭ নম্বরে যখন ব্যাট করতে নামলেন, দল বিপদে। ৫৪ রানে ৫ উইকেট নেই। ৬৭ রানে ৬ উইকেটের পতন।

খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা দলের দায়িত্বটা স্টয়নিস নিজের কাঁধে নিলেন। প্রথমে সপ্তম উইকেটে জেমস ফকনারকে সঙ্গে নিয়ে গড়লেন ৮১ রানের জুটি। এরপর প্যাট কামিন্সকে নিয়ে ৪৮ ও মিচেল স্টার্ককে নিয়ে ৩০ রানের আরো দুটি জুটি। স্টার্ক যখন নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরলেন, তখনো জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দরকার ৬১ রান।

শেষ উইকেটে জশ হ্যাজেলউডকে সঙ্গে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে প্রায় জিতিয়েই দিচ্ছিলেন স্টয়নিস। শেষ ৪ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ১৯ রান। কিন্তু বিপত্তিটা হয় ৪৭তম ওভারে। টিম সাউদির করা এই ওভারের প্রথম তিন বলে কোনো রান নিতে পারেননি স্টয়নিস। পরের দুই বলে হাঁকান দুটি ছক্কা।

স্টয়নিস শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে পরের ওভারে স্ট্রাইক নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সাউদির ইয়র্কারে শুধু ব্যাট ছোঁয়াতে পারলেন, বল সরাসরি শর্ট মিড উইকেটে কেন উইলিয়ামসনের হাতে। অসম্ভব একটা সিঙ্গেল নিতে গিয়ে রান আউট হলেন হ্যাজেলউড। ৬ রানে হেরে যায় অস্ট্রেলিয়া।

 



শেষ উইকেট জুটি ছিল ৫৪ রানের। মজার বিষয়, ১১ নম্বরে নামা হ্যাজেলউড একটি বলও খেলেননি! ১১৭ বলে ১১ ছক্কা ও ৯ চারে ১৪৬ রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন স্টয়নিস। নিউজিল্যান্ডের দর্শকরা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডারকে। যেটিকে তিনি বলছেন ক্যারিয়ারের বিশেষ মুহূর্ত।

বুধবার স্টয়নিস বলেছেন, ‘এখানে (ইডেন পার্ক) ভালো কিছু স্মৃতি আছে। আমার ক্যারিয়ার ভালোভাবে শুরু হয়েছিল এখানে। সুতরাং এখানে ফিরে আমি রোমাঞ্চিত। ওটা (স্ট্যান্ডিং ওভেশন) ছিল আমার জন্য দারুণ কিছু, দর্শকদের কাছ থেকে বড় সম্মান। আমি পরে এর মূল্য অনুধাবন করতে পেরেছি। ওটা আমার জন্য বিশেষ মুহূর্ত।’

অথচ তার আগের ১৮ মাস অস্ট্রেলিয়ার সীমিত ওভারের দলের বাইরে ছিলেন স্টয়নিস। ২০১৫ সালে সীমিত ওভারের দুই ফরম্যাটে অভিষেক হলেও সেদিন ছিল তার মাত্র দ্বিতীয় ওয়ানডে ইনিংস। তাও আবার মিচেল মার্শের চোটের কারণে সুযোগ পেয়েছিলেন। ’১৮ মাস পরে দলে ফেরা এবং ভালো খেলে দলকে সাহায্য করা, ‘সৃষ্টিকর্তা নিজ হাতে সাজিয়ে রেখেছিলেন’ এটি। আমি আবার এখানে ফিরে এসেছি এবং কিছু ম্যাচ খেলতে পারব’- বলেন স্টয়নিস।

দেশের মাটিতে জয়ের হ্যাটট্রিক করে অস্ট্রেলিয়া টুর্নামেন্টের ফাইনাল নিশ্চিত করেই নিউজিল্যান্ডে পা রেখেছে। প্রতিবেশী দেশের মাটিতেও অস্ট্রেলিয়া ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলবে বলে জানালেন স্টয়নিস, ‘আমরা ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে চাই। আমরা ফাইনালে উঠেছি। জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই আমরা।’



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/পরাগ

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC