ঢাকা, শনিবার, ৪ ভাদ্র ১৪২৪, ১৯ আগস্ট ২০১৭
Risingbd
শোকাবহ অগাস্ট
সর্বশেষ:

কাঠমান্ডুতে খাবার ও শপিং || শান্তা মারিয়া

শান্তা মারিয়া : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-০৬-০৬ ৫:২৯:৩৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৬-০৬ ৫:২৯:৩৯ পিএম

(লক্ষ্মণরেখার বাইরে ১৮)

শান্তা মারিয়া : কোথাও বেড়াতে গেলে প্রাকৃতিক দৃশ্য, ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখার পর আকর্ষণীয় বিষয় হলো খাবার দাবার ও শপিং। আবার কোথাও যাবার আগে খাবার দাবার কেমন পাওয়া যাবে, সে খোঁজও নিয়ে যাওয়া ভালো। কারণ অনেকে নিজের দেশীয় খাবার ছাড়া কিছুই খেতে চান না। আমি নিজে অবশ্য কোনো দেশে গেলে সে দেশের স্থানীয় খাবার খেতে বেশি আগ্রহ বোধ করি। আমার মতো মানুষের সংখ্যাই কিন্তু বেশি। লোকাল কুইজিন বা স্থানীয় খাবারের একটা আকর্ষণ সবসময়েই পর্যটকদের মন ভোলায়।

প্রথমেই বলে রাখা ভালো নেপালে প্রায় সব দেশের খাবারই পাওয়া যায়। মেক্সিকান, রাশান, জার্মান, ভারতীয়, মঙ্গোলীয়, চীনা, জাপানি এমন অনেক দেশের খাবারই এখানকার মাঝারিমানের রেস্টুরেন্টে পাবেন। এর কারণ হলো নেপাল টুরিস্ট কান্ট্রি। তাই টুরিস্টদের জন্য সব রকম খাবারের ব্যবস্থাই রাখা হয়েছে। থামেলের মতো টুরিস্ট এলাকাতে বাংলাদেশি খাবারও পাওয়া যায়। ভর্তা-ভাত, মাছসহ মোটামুটি জনপ্রিয় সব বাংলাদেশি ডিশ এখানে পাওয়া যাবে। বাংলাদেশি খাবারের একাধিক রেস্টুরেন্ট আছে থামেলে। আর নেপালের স্থানীয় খাবার এবং তিব্বতি খাবার পাবেন ছোটবড় সব রেস্টুরেন্টেই। নেপালের স্থানীয় খাবারের স্বাদ বেশ ভালো। ভাত বা রুটি যাই খান প্রথমে পরিবেশিত হবে পাঁপড়। পাঁপড়ের সঙ্গে থাকবে ঝাল আচার। পাঁপড়ের স্বাদ আমাদের পাঁপড়ের চেয়ে বেশি মুখরোচক। নেপালের জাতীয় খাবার হলো ডাল-ভাত। ডাল রান্না হয় ভারি মসলা দিয়ে। মুগডাল আলাদা করেও রান্না হয়। আবার পাঁচমিশালি ডালও পাবেন। ডাল অনেক ঘন। এটা দিয়ে রুটি খাওয়া চলে। ডাল ভাতের সঙ্গে পাবেন সবজি। এটাও পাঁচফোড়ন দিয়ে বেশ ঘন করে রান্না করা হয়। তার সঙ্গে থাকে পনিরের তরকারি। পনির চাকা চাকা করে কাটা। মসলা দিয়ে মাংসের মতো করে রান্না করা। দারুণ সুস্বাদু। এসব খাবার সাধারণ রেস্টুরেন্ট এমনকি রোডসাইড ধাবাতেও পাবেন। কাঠমান্ডুর সাধারণ এলাকার ছোটখাটো রেস্টুরেন্টে গরুর মাংস পাওয়া যায় না। থামেলের মতো টুরিস্ট এলাকাতে অবশ্য গরুসহ সব ধরনের মাংস ছোট রেস্টুরেন্টেও পাওয়া যায়। মাছ পাওয়া যাবে। তবে মাছের বৈচিত্র্য খুব বেশি নয়।

থামেলে মাঝারি ও বড় রেস্টুরেন্টে পাওয়া যায় গাধা, ওয়াইল্ড বোর, মহিষের মাংস। কাঠমান্ডুতে তিব্বতি খাবারের অনেক রেস্টুরেন্ট রয়েছে। অন্যান্য রেস্টুরেন্টেও আর কোনো তিব্বতি খাবার না পেলেও মোমো পাওয়া যাবেই যাবে। মোমো হলো এক ধরনের তিব্বতি পিঠা। ময়দার ছোট ছোট পিঠা। ভিতরে পুর দেওয়া। সেই পুর হতে পারে মাংস বা সবজির। আমার সবরকম মোমোই খুব মজা লেগেছে। ফ্রাইড রাইস পাবেন। এগুলো থাই ও নেপালি দুরকম ধরনেই তৈরি হতে পারে।



কাঠমান্ডু শহর প্রকৃতপক্ষে ৩টি শহর নিয়ে গড়ে উঠেছে। কাঠমান্ডু, ভক্তপুর ও পাটন বা ললিতপুর। ললিতপুর হল নেপালের প্রাচীন রাজবংশের আবাস স্থল। ১২শ’ শতকের রাজপ্রাসাদ ও অভিজাতদের প্রাসাদসহ পুরো এলাকাটি পর্যটকদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। এখানে কোনো আধুনিক স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ। এই এলাকার সঙ্গেই রয়েছে কেনাকাটার জন্য বাজার এলাকা।

কাঠমান্ডুর চেয়ে পাটনে জিনিসপত্রের দাম কিছুটা কম। এখানে পাবেন নেপালের বিখ্যাত পশমিনা শাল, নেপালি টুপি, আংগোরা সোয়েটার, শাড়ি, পাথরের মালা, দুল, চুড়িসহ হরেক রকম জিনিস।

পাথরের মালা নেপালের ঐতিহ্যবাহী গয়না। চীনের সামগ্রীতেও ভরপুর নেপালের বাজার। সানগ্লাস, জ্যাকেট, শার্ট, টাই, প্যান্টসহ সব রকম পোশাক সস্তায় মিলবে এখানে। নেপালের বিভিন্ন সুভ্যেনির যেমন, জপযন্ত্র, কাঠের বুদ্ধ মূর্তি, ছবির ফ্রেম পাবেন। কাঠের কাজের জন্য পাটন বিখ্যাত। কাঠের তৈরি সামগ্রীতে এই এলাকার বাজার ভরপুর। বিখ্যাত নেপালি ভুজালি, কুকরি, ছুরি মিলবে এখানে।

এখানে বলে রাখা ভালো- ভুজালি বা ছুরি জাতীয় কোনো কিছু বিমানে ফেরার সময় হ্যান্ড লাগেজে বা ক্যাবিন লাগেজে রাখবেন না। তাহলে বিমানবন্দরে তা ফেলে দেওয়া হবে। এগুলো মূল লাগেজে রাখবেন। আরো জানিয়ে রাখা ভালো এখানে ব্যাপক দরদাম চলে। দর কষাকষি চলে থামেল ও ঝামেলসহ যে কোনো শপিং কমপ্লেক্সে।



নেপালের হস্তশিল্পের মধ্যে বিখ্যাত হল মুখোশ ও থাংকা। কাঠের তৈরি বিভিন্ন মুখোশ শোপিস হিসেবে অনবদ্য। পেপার ম্যাশের তৈরি মুখোশও পাবেন। থাংকা কাপড়ে আঁকা ছবি। সিল্ক জাতীয় কাপড়ে আঁকা মূলত বৌদ্ধ ধর্মের বিভিন্ন দেবদেবীর ছবি থাকে থাংকায়। নকশা করা থাংকা বেশ দামি। কয়েক হাজার নেপালি রুপি দামের এসব থাংকা বিক্রি হয় বিভিন্ন কিওরিওশপ বা শিল্পকর্ম বিক্রি করে এরকম দোকানে। তিব্বতি থাংকার নাম বেশি। তিব্বতি হ্যান্ডি ক্রাফটসের দোকান রয়েছে থামেল, পাটন ও দরবার স্কয়ারে।

তবে কেনাকাটা করে সবচেয়ে আরাম হলো থামেলে। নেপালি শালের ছড়াছড়ি এখানে। আর নেপালি গয়নার দোকান তো থামেলে বলতে গেলে কয়েকশ। একটু দরাদরি করতে পারলে বেশ কম দামেই প্রচুর গয়নাগাটির মালিক হওয়া সম্ভব।

থামেল থেকে হেঁটে দরবার স্কোয়ারের দিকে যাবার পথেও পড়বে বিভিন্ন রকম দোকান।

২০১৬ সালে যখন নেপাল যাই তখন কেনাকাটা করেছি প্রচুর। আমি দরাদরি পারি। তবে বেশ লাভজনক দামে ভালো জিনিসটি বেছে নিতে দেখলাম সুবর্ণাকে। এ বিষয়ে সুবর্ণা আমাকে হারাতে পারেন অনায়াসে। রুহিনাজও দেখলাম ভালোই কেনাকাটা পারেন। শুধু গয়নাগাটি নয়, প্রিন্টের পায়জামা আর স্কার্টও পাওয়া যায় দেদার। এর মধ্যে কিছু আবার বাংলাদেশের তৈরি। আমরাও কিনলাম হাতি ঘোড়া মার্কা পায়জামা। নেপালি টুপিও আছে।

বাংলাদেশের টাকার চেয়ে নেপালের রুপির দাম কম। তাই শপিং করে বেশ শান্তি পাওয়া যায় একানে। আর কে না জানে যে, বেড়ানোর অনেক মজাই নির্ভর করে শপিংয়ের  ওপর। নেপালে ক্যাসিনো, বার ও ক্যাবারে সরকারিভাবে স্বীকৃত। এসব জায়গায় জমজমাট হয়ে ওঠে নেপালের রাত। তবে একটু সাবধানে থাকতে হয়। প্রতারকের অভাব নেই এসব জায়গায়।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৬ জুন ২০১৭/সাইফ

Walton Laptop