চকলেট স্বাস্থ্যের জন্য কী সত্যিই উপকারী
ইউরোপীয়দের মাধ্যমে আমেরিকা আবিষ্কারের পর চকলেট বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং এর চাহিদা দ্রুত বেড়ে যায়।ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের তৃতীয় দিবস চকলেটকে আরও অনন্য বৈশিষ্ট্য এনে দিয়েছে, বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে চকলেট। বলা যায় চকলেট হয়ে উঠেছে ভালোবাসার প্রতীক। আজ চকলেট দিবসে, চলুন জেনে নেওয়া যাকে এই মিষ্টি খাবার স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী।
চকলেটে উচ্চমাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, চকলেট কোলেস্টেরল কমাতে ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস রোধে সাহায্য করতে পারে।
চকলেটের প্রধান উপাদান কোকো-তে রয়েছে ফেনোলিক যৌগ। এই উপাদান বার্ধক্য, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ধমনী শক্ত হওয়া (atherosclerosis)-এর উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
দ্য জার্নাল অব নিউট্রিশনে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, প্ল্যান্ট স্টেরল (PS) ও কোকো ফ্ল্যাভানল (CF) যুক্ত চকলেট খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক।নিয়মিত খেলে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত হতে পারে।চকলেট খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ৩৩% কমতে পারে পারে।
স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষণা অনুযায়ী, হট চকলেট স্মৃতিভ্রংশ কমাতে সাহায্য করতে পারে।এটি মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ উন্নত করে এবং আলঝেইমার রোগের ক্ষেত্রে এটি উপকারী হতে পারে।
স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস
কানাডার এক গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে ১ বার চকলেট খাওয়া ব্যক্তিদের স্ট্রোকের ঝুঁকি ২২% কম। এবং সপ্তাহে ২ আউন্স চকলেট খেলে স্ট্রোকে মৃত্যুঝুঁকি ৪৬% কমে যায়।
এছাড়াও শরীরে অক্সিজেন ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ায়। কম অক্সিজেনে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে সাহায্য করে চকলেট।
ডার্ক চকলেটে আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বেশি। অপরদিকে মিল্ক চকলেটে দুধ থাকার কারণে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।তবে তুলনামূলকভাবে ডার্ক চকলেট বেশি স্বাস্থ্যসম্মত।
উল্লেখ্য, চকলেটের উচ্চমাত্রার চর্বি ও চিনি রয়েছে।এই কারণে একে ব্রণ, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের জন্য দায়ী করা হয়। আবার চকলেটে ক্যালোরির পরিমাণ বেশি, যারা ওজন কমাতে বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের পরিমিত পরিমাণে চকলেট খাওয়া উচিত।
সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে
ঢাকা/লিপি