ঢাকা     রোববার   ১০ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৭ ১৪৩৩ || ২৩ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মা-ছেলের বন্ধন নিয়ে বলিউডের আলোচিত পাঁচ সিনেমা

আমিনুল ইসলাম শান্ত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:২৩, ১০ মে ২০২৬   আপডেট: ১০:৫৪, ১০ মে ২০২৬
মা-ছেলের বন্ধন নিয়ে বলিউডের আলোচিত পাঁচ সিনেমা

সব্যসাচীর মতো দু-হাত উজার করে সন্তানদের ভালোবাসেন মা। একজন মায়ের ত্যাগ-ভালোবাসা ব্যাখ্যাতীত। মাকে কেন্দ্র করে বলিউডে অনেক সিনেমা নির্মিত হয়েছে। মা-ছেলের বন্ধন নিয়েও বেশ কিছু আইকনিক চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছে এই ইন্ডাস্ট্রি। আলোচিত এমন পাঁচ চলচ্চিত্র নিয়ে এই প্রতিবেদন—

মাদার ইন্ডিয়া
ভারতীয় সিনেমার অন্যতম ক্ল্যাসিক সিনেমা ‘মাদার ইন্ডিয়া’। মেহবুব খান নির্মিত সিনেমাটি ১৯৫৭ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। এ সিনেমায় ‘রাধা’ চরিত্রে অভিনয় করেন আইকনিক অভিনেত্রী নার্গিস। সিনেমার গল্পে রাধা তার গ্রামের মায়ের মতো একজন দৃঢ়চেতা নারী, যে সবসময় ন্যায়ের পথে চলতে চান। তবে তার দুই ছেলে একেবারেই ভিন্ন স্বভাবের। বিরজু (সুনীল দত্ত) রাগী ও বিদ্রোহী, আর রামু (রাজেন্দ্র কুমার) শান্ত ও বিচক্ষণ স্বভাবের। বিরজুর ক্রোধ যখন সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন রাধাকে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ১৯৫৮ সালে সিনেমাটি একাডেমি অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পাওয়া প্রথম ভারতীয় চলচ্চিত্র। কিন্তু মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে অস্কার পুরস্কার হারায় এটি।

আরো পড়ুন:

আরাধনা 
পরিচালক শক্তি সামন্তর ঐতিহাসিক ‘আরাধনা’ সিনেমায় বন্দনা ত্রিপাঠি চরিত্রে অভিনয় করেন শর্মিলা ঠাকুর। গল্পে পাইলট অরুণ ভার্মার (রাজেশ খান্না) প্রেমে পড়েন বন্দনা। তারা আনন্দময় প্রেমজীবন উপভোগ করেন। গোপনে বিয়েও করেন। কিন্তু বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান অরুণ। বন্দনা তখন অন্তঃসত্ত্বা। ফলে সুখের জীবনে হঠাৎ ট্র্যাজেডি নেমে আসে। শিশুপুত্রকে নিয়ে বন্দনা একা হয়ে পড়েন। তার ছেলে বড় হয়ে সুরাজ কুমার ভার্মা হয়। এ চরিত্রেও অভিনয় করেন রাজেশ খান্না। সিনেমাটির ‘চাঁদ হ্যায় তু’ গানে মা-ছেলের সম্পর্ককে দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন লতা মঙ্গেশকর। ১৯৬৯ সালে মুক্তি পায় সিনেমাটি। 

বেটা
মা-ছেলের গল্প নিয়ে নির্মিত মর্মস্পর্শী বলিউড সিনেমার মধ্যে অন্যতম ‘বেটা’। ইন্দ্র কুমার নির্মিত এ সিনেমার গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র রাজু। জন্মের সময়ই রাজু তার মাকে হারায়। রাজুর পঞ্চম জন্মদিনে উপহার হিসেবে নতুন মাকে নিয়ে আসেন তার বাবা। তার নতুন মায়ের নাম লক্ষ্মী। সৎমা লক্ষ্মীর মধ্যে মায়ের ভালোবাসা খুঁজে পায় রাজু। কিন্তু লক্ষ্মীর প্রতি তার অন্ধ বিশ্বাস তাকে ধীরে ধীরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। রাজু বড় হয়ে সরস্বতীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এ পরিস্থিতিতে রাজুকে এই অন্যায়ের হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে সে। সিনেমাটিতে রাজু, লক্ষ্মী, সরস্বতী চরিত্রে যথাক্রমে অভিনয় করেছেন—অনীল কাপুর, অরুণ ইরানি ও মাধুরী দীক্ষিত। ১৯৯২ সালে মুক্তি পায় সিনেমাটি। 
 
খলনায়ক
সুভাষ ঘাই নির্মিত আলোচিত সিনেমা ‘খলনায়ক’। দারিদ্রতার কারণে অপরাধের পথে হাঁটে বলরাম প্রসাদ বা বাল্লু। বলরামের মায়ের নাম আরতি প্রসাদ। শৈশবে মা আরতির অতিরিক্ত আদর-প্রশ্রয় তাকে ভুল পথে যেতে সাহায্য করে। সময়ের সঙ্গে বলরামের অপরাধের মাত্রা বাড়তে থাকে। অপ্রত্যাশিতভাবে ইন্সপেক্টর গঙ্গোত্রী বা গঙ্গা সিংয়ের সঙ্গে বলরামের বন্ধুত্ব তৈরি হয়। বলরাম প্রায়ই গঙ্গার সঙ্গে তার মায়ের স্মৃতিগুলো ভাগ করে নেয়। একটি উদারণ দেওয়া যাক—গঙ্গা যখন বলরামকে তার অগোছালো দাড়ি কামাতে রাজি করায়, তখন সে বলে, “জানো, ১৫ বছর বয়সে প্রথমবার যখন দাড়ি কামিয়েছিলাম, আমার মা ভীষণ হেসেছিল।” 

এতসবের পরও বলরাম নিজের স্বার্থে মাকে কষ্ট দিতে পিছপা হয় না। ফলে আরতি তার পুত্র বলরামকে ত্যাজ্য করে। আর ইন্সপেক্টর রাম কুমার সিনহাকে ছেলে হিসেবে মেনে নেয়। যদিও মা-ছেলের বন্ধনটি ভেতরে ভেতরে ঠিকই অটুট থাকে। অপরাধ কীভাবে সম্পর্ক ধ্বংস করে তার একটি চিরায়ত গল্প ‘খলনায়ক’। সিনেমাটিতে বলরাম, গঙ্গা, রাম কুমার চরিত্রে যথাক্রমে রূপায়ন করেছেন—সঞ্জয় দত্ত, মাধুরী দীক্ষিত, জ্যাকি শ্রফ। ১৯৯৩ সালে মুক্তি পায় সিনেমাটি। 

করন অর্জুন
রাকেশ রোশান নির্মিত ‘করন অর্জুন’ সিনেমায় মাতৃস্নেহের সঙ্গে পুনর্জন্মের ধারণাকে যুক্ত করা হয়েছে। করণ সিং (সালমান খান) এবং অর্জুন সিং (শাহরুখ খান) দুই ভাই, যারা তাদের মা দুর্গা সিংয়ের (রাখী) সঙ্গে সুখে-শান্তিতে বসবাস করেন। কিন্তু নিষ্ঠুর দুর্জন সিং (অমরিশ পুরি) দুই ভাইকে খুন করার পর মা দুর্গার জীবনে ট্র্যাজেডি নেমে আসে; সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। 

দুর্গা তার ছেলেদের মৃত্যু মেনে নিতে পারে না; বরং সৃষ্টিকর্তার কাছে ছেলেদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করেন। তিনি ঘোষণা করেন—“আমার করন-অর্জুন ফিরে আসবে। তারা পৃথিবীকে ছিন্নভিন্ন করে দেবে।” মা দুর্গার প্রার্থনা ও বিশ্বাসের ফল মেলে। করন ও অর্জুন যথাক্রমে অজয় ও বিজয় নামে পুনর্জন্ম লাভ করে। ভাগ্য তাদের দুর্গার সঙ্গে পুনরায় মিলিত করে। মা-ছেলের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধনটি চিরসবুজ; তা ‘ইয়ে বন্ধন তো’ গানের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মা-ছেলের গল্প নির্ভর অনন্য বলিউড সিনেমার মধ্যে অন্যতম এটি। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় সিনেমাটি।

ঢাকা/শান্ত/লিপি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়