ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১১ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২৮ ১৪৩৩ || ২৫ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বাজেট অনুমোদনে মন্ত্রিসভার বিশেষ সভা 

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৪৯, ১১ জুন ২০২৬   আপডেট: ১৩:১৭, ১১ জুন ২০২৬
বাজেট অনুমোদনে মন্ত্রিসভার বিশেষ সভা 

বৃহস্পতিবার বাজেট অনুমোদনের লক্ষ্যে মন্ত্রিসভার বিশেষ সভা হয়

২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট অনুমোদনের লক্ষ্যে মন্ত্রিসভার বিশেষ সভা চলছে। 

আরো পড়ুন:

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে এ সভা শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রীতি অনুযায়ী, জাতীয় বাজেট সংসদে উপস্থাপনের আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদন নেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের সভায় বাজেটের খসড়া ও চূড়ান্ত প্রস্তাব পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।

সভা শেষে বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী সংসদ অধিবেশনে যোগ দেবেন। এরপর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন।

এবারের বাজেটে দেশীয় শিল্পের বিকাশ, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলের জন্য ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) সহায়তায় ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকতে পারে।

নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নতুন ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যমান কর্মসূচির বরাদ্দও বাড়ানো হতে পারে।

যুবসমাজকে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে এবং মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এছাড়া, বিদেশে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আগামী অর্থবছরে জিডিপির আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ ঋণ ও বৈদেশিক সহায়তার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে। এতে বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমান।

ব্যবসা সহজ করতে ‘বাংলাবিজ’ নামে ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কার্যক্রম আরও ডিজিটাল করার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে অনলাইনে কর রিটার্ন, সরাসরি ব্যাংক হিসাবে কর ফেরত এবং দ্রুত কর বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং বেসরকারি বিনিয়োগে গতি আনা আগামী অর্থবছরের বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তবে এসব লক্ষ্য অর্জন করা গেলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব হবে।

ঢাকা/এএএম/ইভা 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়