মার্কিন অবরোধের খেসারত দিচ্ছে কিউবার শিশুরা
মার্কিন অবরোধের কারণে জ্বালানি সবরাহ কমে যাওয়ায় কিউবার রাজধানী হাভানায় বেড়েছে লোডশেডিং
কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধে আরোপের কারণে দেশটিতে এক ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই ‘অবৈধ অবরোধের’ কারণে দ্বীপটির চিকিৎসা ভেঙে পড়েছে এবং শিশুরা মারা যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কিউবার সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশের সংস্থাকে শাস্তি দেওয়ার লক্ষ্যে তৈরি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও এই কঠোর অবরোধ- দেশটিতে এক ভয়াবহ জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। এর ফলে বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ধসের মুখে পড়েছে দ্বীপটি।
এই নিষেধাজ্ঞার কারণে দ্বীপটির বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে; পাশাপাশি খাদ্য, সুপেয় পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি রাজধানী হাভানার কিছু এলাকাসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বাসিন্দাদের টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, তিনি কিউবায় ‘শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন’ চান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশটির ৮৭ বছর বয়সী বর্তমান বামপন্থি সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই প্রতিবেশী দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যাবেন।
তবে, কিউবার ওপর এই ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের ফলস্বরূপ দেশটিতে শিশু মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলতি সপ্তাহে ভলকার তুর্ক বলেন, কিউবার ওপর চাপিয়ে দেওয়া অবৈধ নিষেধাজ্ঞাগুলো চিকিৎসা সেবাকে পঙ্গু করে দিয়েছে, যার ফলে দ্বীপে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কিউবার ওপর নেওয়া এই কঠোর পদক্ষেপগুলোর কারণে শিশু মৃত্যুর হার যেমন বেড়েছে, তেমনি ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুদের বেঁচে থাকার হারও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
পেশায় অস্ট্রিয়ান আইনজীবী তুর্ক গত সোমবার বলেন, “২০২৬ সালের শুরুর দিক থেকে আরোপিত জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা এবং সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক সীমার বাইরে গিয়ে কঠোর করা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো যৌথভাবে কিউবার সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে সবচেয়ে অসহায়দের সরাসরি ক্ষতি করছে।”
তিনি আরো যোগ করেন, “শিশুরা মারা যাচ্ছে কারণ ডাক্তারদের কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ওষুধ পৌঁছাচ্ছে না। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই নিষেধাজ্ঞাগুলো অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত।”
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করে, যার ফলে লাতিন আমেরিকার এই দেশটি থেকে কিউবায় তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
ভেনেজুয়েলাই ছিল কিউবার প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশ।
ঢাকা/ফিরোজ