ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭, ০৯ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বিশ্বের প্রথম ও চলমান প্রসূতি হাসপাতাল

শাহরিয়ার পারভেজ, আয়ারল্যান্ড থেকে : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-৩১ ১:১৭:৫৯ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-৩১ ৯:২৩:৪৩ এএম

বিশ্বের প্রথম যেকোনো জিনিসের প্রতি মানুষের কৌতূহল থাকে। আমারও বাবা হওয়ার পর বিশ্বের প্রথম প্রসূতি হাসপাতাল কোনটি এ বিষয়ে কৌতূহল কাজ করছিলো। ইন্টারনেটে সার্চ করে কিছুটা অবাক হলাম! কারণ যে হাসপাতালের নাম এলো সেই হাসপাতালের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার প্রথম বাবা হওয়ার মধুর স্মৃতি।

চিন্তা করলাম এ বিষয়ে কিছু লিখব। হাসপাতালের নাম রোটুন্ডা হাসপাতাল। ডাবলিন সিটির কেন্দ্রে এই হাসপাতালের অবস্থান। ডাবলিন আয়ারল্যান্ডের রাজধানী। আইরিশ সার্জন এবং পুরুষ মিডওয়াইফ বার্থোলোমিউ মোসে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেন ১৭৪৫ সালে। তিনি সে সময় নানা রকম কনসার্ট, প্রদর্শনী, লটারির আয়োজন করে অর্জিত অর্থ খরচ করতেন হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা এবং পরিসর বাড়ানোর জন্য।

ইউরোপের মধ্যে অন্যতম ব্যস্ত প্রসূতি হাসপাতাল বলা হয় এই হাসপাতালকে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রসূতি বিষয়ক উন্নত সব রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি সবই আছে এই হাসপাতালে। হাসপাতালটি চলে সম্পূর্ণ সরকারি আর ডোনেশনের অর্থায়নে। আয়ারল্যান্ডের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকারও এই হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

এই দেশে চিকিৎসার নিয়ম হচ্ছে, আপনি যে এলাকায় থাকবেন সেই এলাকায় কোনো ডাক্তারের অধীনে থাকতে হবে। প্রাথমিক রোগ বিষয়ক যে কোনো আলোচনা তার সঙ্গেই করতে হবে এবং তিনিই আপনাকে কোথায় যেতে হবে বলে দেবেন। অথবা নিজেই ওষুধ দেবেন। নিয়ম অনুসারে আমার স্ত্রী শম্পার প্রেগন্যান্সির শেষের দিকে ডাক্তার আমাদের বাসার আশেপাশে কয়েকটি প্রসূতি হাসপাতালের অপশন দিয়ে জানতে চাইলেন- কোথায় আমাদের সুবিধা হয়? রোটুন্ডাও সেই অপশনের মধ্যে ছিল। কিন্তু আমাদের বাসা থেকে একটু দূরে। শম্পা আমার দিকে তাকিয়ে বলল, কোথায় হলে ভালো হয়? আমি বললাম, সিটি ঘুরতে গেলেই রোটুন্ডা হাসপাতাল চোখে পড়ে, তারপরও এই হাসপাতাল আমার শ্বশুর-শাশুড়ির বাসার খুব কাছে, তাদের সাপোর্ট পাওয়া যাবে। ফলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ডাক্তারকে আমাদের ইচ্ছার কথা জানালাম।

রোটুন্ডা হাসপাতালে যাওয়ার পর আমি আর শম্পা নানা রকম অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। যার মধ্যে ছিল আনন্দ, বেদনা আর মিশ্র এক অনুভূতি। কেমন ছিল হাসপাতালের সার্ভিস, নিয়ম কানুন এবং আমাদের অভিজ্ঞতা সে কথা লিখব পরের পর্বে।

 

ঢাকা/তারা