হারিয়াকোনা : মন হারানোর গ্রাম
টিপু || রাইজিংবিডি.কম
হারিয়াকোনা : মন হারানোর গ্রাম
শাকিল শাহরিয়ার
শেরপুর, ৬ মার্চ : ঝরনার জল একটানা ঝরছে অঝোরে। ঝরনার বুকে জেগে ওঠা চরের বালু চকচক করছে। পাশেই উঁচু টিলা। ঝরনা আর সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি। এর কোল ঘেঁষে নানা কারুকার্যে সাজানো উপজাতি এলাকা। গ্রামটির নাম ‘হারিয়াকোনা’।
হারিয়াকোনা, গারো পাহাড়ের নিঝুম অরণ্য গ্রাম। উপজাতিদের বসবাস এ গ্রামে যোগ হয়েছে সৌন্দর্যের নতুন মাত্রা। যে গ্রামে পা রাখলে যে কারোরই মন চাইবে হারিয়ে যেতে।
ঝরনার দুই পাশে সবুজ বৃক্ষ আচ্ছাদিত অসংখ্য উঁচুনিচু পাহাড়। গভীর মমতা আর ভালোবাসায় গড়া উপজাতিদের বর্ণিল জীবনধারা। অপূর্ব সুন্দর প্রকৃতির আধার হারিয়াকোনা। ঠিক যেন তুলিতে আঁকা দৃশ্যপট।
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার গারো পাহাড়ের শেষ গ্রাম হারিয়াকোনা। আজও এখানে পৌঁছায়নি আধুনিকতার ছোঁয়া। এ গ্রামের ঘরবাড়িগুলো পাহাড়ি টিলার ওপর। দূর থেকে মনে হবে যেন আকাশছোঁয়া কুটির। ওদের জীবনযাত্রা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাদের চেহারা দেখলেই বোঝা যায় প্রকৃতির সঙ্গে লেনদেন যেন বহুদিনের।
ভারত থেকে নেমে আসা বন্য হাতির তাণ্ডবে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে ওদের জীবন-জীবিকা। এটাই যেন প্রকৃতির নিয়ম। গারো পাহাড়ের এ গ্রামটি প্রাকৃতিকভাবেই বৈচিত্র্যময়।
শ্রীবরদী শহর থেকে হারিয়াকোনার দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। এর ১৫ কিলোমিটার সড়ক পাকা। পাঁচ কিলোমিটার সড়ক কাঁচা। এর মধ্যে আড়াই কিলোমিটার দুই পায়ের পাহাড়ি পথ। এখানে কোনো যানবাহন চলে না।
প্রচলিত আছে, গ্রামটিতে কেউ একবার যে পথে এসেছে, সে পথে আর ফিরে যেতে পারেনি। এ কারণে এ গ্রামের নাম হয়েছে হারিয়াকোনা।
এ গ্রামের উত্তর ও পূর্বে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পোড়াকাশিয়া। দুই দেশের সীমানা পিলার নম্বর ১০৯৩-১০৯৪। পশ্চিমে দিঘলাকোনা। দক্ষিণে বাবেলাকোনা।
আড়াই কিলোমিটার ব্যাসার্ধের গ্রামটিতে রয়েছে প্রায় অর্ধশত টিলাভূমি। টিলার ওপর বসতবাড়ি। ১৫০টি উপজাতি পরিবারের বসবাস এখানে। এদের মধ্যে বেশির ভাগ গারো, কোচ, হাজংসহ খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী।
গ্রামের মাঝখানে একটি গির্জা, একটি জিবিসি পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি ফুটবল খেলার মাঠ ও কয়েকটি মুদি দোকানসহ রয়েছে চায়ের দোকান। প্রতি রোববার এখানে ছুটে আসেন গ্রামবাসীরা। উপাসনা ও ধর্মীয় কাজ সেরে তারা মেতে ওঠেন নানা আলোচনায়। এদিন যেন উপজাতিদের মিলনমেলা।
পশ্চিম থেকে পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত গ্রামের মাঝে সড়কটির দুই পাশ প্রাকৃতিকভাবেই গাছের লতাপাতায় ছাওয়া। গ্রামে প্রবেশ করতেই মনে হয় প্রকৃতি যেন আগন্তুককে স্বাগত জানাচ্ছে।
রাইজিংবিডি / টিপু / আবু মো.
রাইজিংবিডি.কম