ঢাকা     রোববার   ১৭ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৩ ১৪৩৩ || ২৯ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সময় এখন যুক্তরাষ্ট্রের নয়, ইরানের পক্ষে রয়েছে: বিশ্লেষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৪৯, ১৭ মে ২০২৬   আপডেট: ১১:৫০, ১৭ মে ২০২৬
সময় এখন যুক্তরাষ্ট্রের নয়, ইরানের পক্ষে রয়েছে: বিশ্লেষক

তেহরানের রাস্তায় মার্কিন বিরোধী একটি বিলবোর্ড

২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তির মার্কিন আলোচনক দলের সদস্য অ্যালান আয়ার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর দরকষাকষিতে ‘সময়’ এখন ইরানের পক্ষে রয়েছে। নানা কারণে তেহরান সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

রবিবার (১৭ মে) আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ইঙ্গিত করে বলেন, “বিভিন্ন কারণে ইরানের পক্ষে সময় রয়েছে। প্রথমত, তাদের সামনে কোনো নির্বাচন বা রাজনৈতিক চাপ নেই।”

আরো পড়ুন:

তিনি আরো বলেন, “মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানে ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হলেও, যারা দেশ চালাচ্ছেন- যেমন সামরিক বাহিনী ও ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজি)- তারা তা অনুভব করছেন না। ফলে তাদের কষ্ট সহনশীলতার মাত্রা অনেক বেশি।”

এছাড়াও, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ কার্যকর হলেও এর প্রভাব পড়তে কয়েক মাস সময় লাগবে। কিন্তু ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার প্রভাব মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে দৃশ্যমান হবে।”, আয়ার যোগ করেন।

আয়ার বলেন, একটি চুক্তির মৌলিক কাঠামোটি আগে থেকেই তৈরি আছে।

তিনি বলেন, “ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা মেনে নিতে প্রস্তুত- যেমন কতগুলো সেন্ট্রিফিউজ থাকবে, সেন্ট্রিফিউজের মান কেমন হবে, তারা কী পরিমাণ ইউরেনিয়াম মজুত রাখবে ইত্যাদি… সুতরাং, ওবামা আমলের পারমাণবিক চুক্তির মূল কাঠামোটি এখনও একই রকম রয়েছে।”

তবে ইরানের ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত শর্তগুলো পরিবর্তিত হয়নি।

সাবেক এই মার্কিন আলোচক মনে করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আরো বেশি আস্থা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তি করা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, “ইরানিদের সঙ্গে আলোচনার কোনো গোপন বা জাদুকরী সূত্র নেই। তারা অন্য সবার মতোই। তারা তাদের কাজে খুবই দক্ষ। তারা নিজেদের কাজের ক্ষেত্র ও তার ইতিহাস খুব ভালো করে জানে। তারা খুঁটিনাটি সব বোঝে। এখানে মূল বিষয় হলো আলোচনার পেছনে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া।”

আয়ার বলেন, যেকোনো চুক্তির জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী আলোচনা’ প্রয়োজন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ‘হাতা গুটিয়ে, নিজেদের এক ঘরে বন্দি করে, একটি কার্যকর ও ব্যাপক পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে প্রস্তুত কি না’- সে বিষয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

তার মতে, আস্থা তৈরির পদক্ষেপগুলোও খুব জরুরি ছিল।

আলোচনার জন্য পূর্ণ আস্থার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে আয়ার যোগ করেন, “পূর্ণ আস্থা থাকলে তো আলোচনারই দরকার হতো না। আলোচনা কেবল শত্রুদের সাথেই হয়। তবে অন্তত কিছুটা আস্থা থাকতেই হবে।” 

তিনি বলেন, “ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব- যুদ্ধের আগের সরকারের চেয়ে অনেক বেশি কট্টরপন্থি ও সামরিকীকৃত। তারা মনে করে, ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল শেষ পর্যন্ত ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটাতে চায়। তারা আশঙ্কা করছে, যেকোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার বিরতিকে যুক্তরাষ্ট্র কেবল নতুন করে শক্তি সঞ্চয়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে, যা হয়তো মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরেই ঘটতে পারে।”

তার মতে, “উভয় পক্ষের মধ্যে এখন শূন্য শতাংশ আস্থা রয়েছে। তাই আলোচনার গতি ফিরিয়ে আনতে অন্তত কিছু ধরনের আস্থা তৈরির পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।”

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়