ঢাকা     রোববার   ১৭ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৩ ১৪৩৩ || ২৯ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সংকট নিরসনে আশ্বাস নয়, কাজেই প্রমাণ দেব: ইবি উপাচার্য

ইবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৩০, ১৭ মে ২০২৬  
সংকট নিরসনে আশ্বাস নয়, কাজেই প্রমাণ দেব: ইবি উপাচার্য

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক এ কে এম মতিনুর রহমান বলেছেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান সংকট সম্পর্কে আমি জানি। এসব সমস্যা সমাধানে আশ্বাসের বাণী না শুনিয়ে কাজের মাধ্যমে তা প্রমাণ করার চেষ্টা করব।”

শনিবার (১৬ মে) বেলা ৩টার দিকে উপাচার্যের কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আরো পড়ুন:

চব্বিশের অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, “১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মৃতিসৌধ রয়েছে। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের জন্যও রয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভিত্তিপ্রস্তরও এখানে সংরক্ষিত আছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের মুক্তির স্মরণেও রয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ। এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই শহীদদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা শিগগিরই বাস্তবায়ন হবে।”

বিগত প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে শুনেছেন, তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দেখেননি। প্রয়োজন হলে কমিটিতে পরিবর্তন বা সংযোজন আনা হবে।” তদন্ত কার্যক্রমকে কার্যকর করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।

জুলাইবিরোধী শিক্ষক-কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, “শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিষয়ে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সে কারণে শিক্ষার্থীদের বিষয়েও পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।” তবে এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলতে চান না তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী সংস্থার সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে সন্তোষজনক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান উপাচার্য।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে উপাচার্যকেন্দ্রিক ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে ওঠার বিষয়ে তিনি বলেন, “উপাচার্যকে পরামর্শের জন্য বিভিন্নজনের সঙ্গে আলোচনা করতেই হয়। তবে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে কাউকে ব্যবহার করার সুযোগ নেই।” তার ভাষায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনই হবে তার প্রকৃত সিন্ডিকেট।

উপাচার্য হিসেবে শুভেচ্ছা ও ফুলেল সংবর্ধনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, “দায়িত্ব গ্রহণের সময় ফুল নিয়ে গর্ব করতে চান না। বরং দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন শেষে বিদায়ের সময় কেউ ফুল দিলে সেটিই তিনি গ্রহণ করতে চান।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নিজেদের সমস্যাগুলো নিজেদের মধ্যেই সমাধান করা গেলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ইতিবাচক হবে।”

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক এয়াকুব আলী, ট্রেজারার অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলমসহ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যরা।

ঢাকা/তানিম/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়