সরকারি বিজ্ঞাপন বণ্টনে প্রচলিত পদ্ধতি থেকে সরে আসার ঘোষণা
রবিবার সচিবালয়ে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তথ্যমন্ত্রী।
গণমাধ্যমে একটি স্বাধীন, দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য কমিশন গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। একইসঙ্গে মনগড়া টিআরপি ও প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে সরকারি বিজ্ঞাপন বণ্টনের প্রচলিত পদ্ধতি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (১৭ মে) সচিবালয়ে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের (টিইসি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, “গণমাধ্যম পরিচালনায় এখন আর শুধু নিয়ন্ত্রণ নয়, সব অংশীজনকে নিয়ে জবাবদিহিমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য সরকার সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে।”
তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনায় ধারণাগত ঘাটতি ছিল। মালিক, উদ্যোক্তা, সাংবাদিক ও সরকার কারও মধ্যে সমন্বিত চিন্তা ছিল না। ফলে খাতটি ব্যক্তি প্রভাব, বিনিয়োগ ও ক্ষমতার বলয়ে চলেছে।”
তথ্যমন্ত্রীর মতে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে একটি ‘কোয়াসি জুডিশিয়াল কমিশন’ বা স্বাধীন কর্তৃপক্ষ ছাড়া বিকল্প নেই। তবে সতর্ক করে দেন, সেই কমিশন যেন কোনো সরকারের রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত না হয়।
তিনি বলেন, “ভুয়া টিআরপি ও প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে বিজ্ঞাপন বণ্টনের দিন শেষ। মাত্র ৫০ জনের টিআরপি দিয়ে ৫ কোটি দর্শকের হিসাব দেখানো হয়। পত্রিকার ছাপাও মনগড়া সংখ্যায় দেখানো হয়। ডিজিটাল যুগে এটা চলতে পারে না।”
তিনি জানান, সঠিক ডিজিটাল টিআরপি ও প্রিন্ট কাউন্টিং সিস্টেম চালু হলে তার ভিত্তিতেই সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বণ্টন হবে। তবে সুযোগ-সুবিধা কম-বেশি নয়, তথ্যের সত্যতাই হবে মূল ভিত্তি।
টিইসির আহ্বায়ক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক বলেন, “অতীতে টেলিভিশন সম্পাদকদের নামে গঠিত পকেট সংগঠন অপতথ্য ও রাজনৈতিক অস্থিরতা ছাড়া কিছু দিতে পারেনি।” টিইসির সদস্যরা টেলিভিশন কর্মীদের জন্য বেতন কাঠামো ও বিজ্ঞাপন নীতিমালার দাবি জানান।
মন্ত্রী বলেন, “ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে গণমাধ্যমের চরিত্র বদলাচ্ছে। এই বাস্তবতায় খাতটিকে নতুনভাবে ভাবতে হবে। স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বের বিরোধ নেই, নৈরাজ্যপূর্ণ স্বাধীনতা সভ্যতাকেও ধ্বংস করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা/এএএম/ইভা