ঢাকা     রোববার   ১৭ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৩ ১৪৩৩ || ২৯ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা নির্মাতা গাইবান্ধার সাথী

গাইবান্ধা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:২১, ১৭ মে ২০২৬   আপডেট: ১৩:২৭, ১৭ মে ২০২৬
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা নির্মাতা গাইবান্ধার সাথী

সুরাইয়া তাছনিন সাথী (ডানে)

আন্তর্জাতিক কানেক্টহার চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার জিতেছে প্রামাণ্যচিত্র ‘রেশমা: আ স্ট্রাগল ফর আইডেন্টিটি’। এটি নির্মাণ করেছেন গাইবান্ধার তরুণ নির্মাতা সুরাইয়া তাছনিন সাথী।  

গত ১-২ মে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিন শহরে বসেছিল আন্তর্জাতিক কানেক্টহার চলচ্চিত্র উৎসবের ১৩তম আসর। এই উৎসবে বিশ্বের ২৬টি দেশের ১৮৪টি চলচ্চিত্র অংশ নেয়। সেখানে ‘ওমেন অ্যান্ড ওয়ার্ক’ ক্যাটাগরিতে সেরা পুরস্কার অর্জন করে সাথী নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রটি। 

আরো পড়ুন:

এই স্বীকৃতি সুরাইয়া তাছনিন সাথীকে ভীষণ অনুপ্রাণিত করেছে। তার ভাষায়—“ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্রের প্রতি আমার আলাদা আকর্ষণ ছিল। সেই ইচ্ছা থেকেই কানেক্টহার ফেলোশিপের মাধ্যমে চলচ্চিত্রবিষয়ক প্রশিক্ষণে অংশ নিই। প্রথম কাজেই এমন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতে আমি ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে পড়তে চাই।” 

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের শফিকুল ইসলামের মেয়ে সুরাইয়া তাছনিন সাথী। গাইবান্ধার আসাদুজ্জামান গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী সাথী। এটি তার নির্মিত প্রথম প্রামাণ্যচিত্র। 

বগুড়ার শেরপুরের নারী উদ্যোক্তা সুরাইয়া ফারহানা রেশমার জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে প্রামাণ্যচিত্রটি। একজন নারীর পরিচয়, প্রতিষ্ঠার লড়াই, সংগ্রাম ও আত্মবিশ্বাসের গল্প এতে তুলে ধরা হয়েছে।  

সুরাইয়া তাছনিন সাথীর বড় ভাই শুভ আকন্দ গাইবান্ধা সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী। বোনের সাফল্য নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা পাঁচ ভাইবোন। সাথী সেজ। ছোটবেলা থেকেই সে ভালো ছাত্রী। পঞ্চম শ্রেণির পিএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছিল। নাটক, চলচিত্র নির্মাণ নিয়ে ছোট থেকেই প্রবল আগ্রহ সাথীর। বোনের সাফল্যে ভাই হিসেবে আমি গর্বিত।” 

সাথীর সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তার বাবা শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমি চাই আমার মেয়ে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে আরো বড় বড় পুরস্কার জিতুক। আপনারা আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।” 

প্রথম কাজ দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন সাফল্যে খুশি এলাকার মানুষজন। কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সোহেল রানা সালু বলেন, “আমার ইউনিয়নের মেয়ের এমন কৃতিত্বে শুধু আমি কেন, গোটা জেলার মানুষ ভীষণ খুশি। তার বাবা সৌদি আরবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। ২০১৮ সালের দেশে ফিরে কঞ্চিপাড়া এলাকায় ব্যবসা করছেন। পুরস্কার জয়ী সাথী অত্যন্ত ভদ্র প্রকৃতির মেয়ে। আমি তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।”  

সাথীর অর্জনে গর্বিত গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ সরকার। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, “সাথীর এমন অর্জনে আমরা গাইবান্ধাবাসী গর্বিত। সেই সুদুর আমেরিকা থেকে এই বয়সের একটি মেয়ের পুরস্কার জয়, অনেক বড় ব্যাপার। মফস্বল শহরের একজন তরুণ শিক্ষার্থীর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন সাফল্য নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল কাজে আরো উৎসাহি করবে।” 

গাইবান্ধার নাট্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক অমিতাভ দাস হিমুন রাইজিংবিডিকে বলেন, “সাথীর এই অর্জনে বড় কোনো ক্যামেরা ট্রায়াল ছিল না। নাট্যমঞ্চের আধুনিক কোনো প্রশিক্ষণও না। অত্যন্ত মেধাবী সাথী প্রমাণ করেছে, সুযোগ ও প্রশিক্ষণ পেলে নতুনরাও বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিতে পারেন। সাথী ভবিষ্যতে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে বিশ্বাস করি।” 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নভেরা হাসান নিক্কনের তত্ত্বাবধানে গাইবান্ধা সরকারি কলেজে আয়োজিত চলচ্চিত্রবিষয়ক একটি ওয়ার্কশপে অংশ নেন সাথী। পরে ‘কানেক্টহার’ ফেলোশিপের মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাণের কারিগরি ও সৃজনশীল নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নির্মাণ করেন ‘রেশমা: আ স্ট্রাগল ফর আইডেন্টিটি’।

মাসুম/শান্ত

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়