ঢাকা     শনিবার   ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

ছোটগল্প

উপেক্ষা

হরিশংকর জলদাস || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৫৯, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  
উপেক্ষা

রাজনন্দিনী আমি। জনক রাজার কন্যা। ঔরসজাত। নাম আমার ঊর্মিলা। আমার পিতার আরেক কন্যা আছে―সীতা। সীতা রাজা জনকের ঔরসজাত সন্তান নয়। জননী সুনয়না তাকে গর্ভে ধারণ করেননি। রাজার কুড়িয়ে পাওয়া মেয়ে দিদি সীতা।

এই কাহিনি সবারই জানা। একথা আরও বেশি করে প্রচারিত যে পিতা জনকের ভূমিকর্ষণের সময় লাঙ্গলের ফলায় উঠে হয়েছে সীতা। এই ঘটনা প্রচলিত, কিন্তু বিশ্বাস্য নয়। বিশ্বাসযোগ্য এটা যে দিদি সীতা বিসর্জিত এক কন্যা। তার প্রকৃত মা-বাবার সম্পর্কটা হয়তো বৈধ ছিল না। তাই অবৈধ সন্তানটিকে ওই অনুর্বর কৃষিভূমিতে বাবা বা মা ফেলে দিয়ে গিয়েছিল।

আরো পড়ুন:

সদ্যোজাত পরিত্যক্ত সন্তানটি বৈধ না অবৈধ তা বিবেচনা করার মানসিকতা ছিল না মিথিলা বিপত্তি জনকের। তিনি তখন সন্তান বুভুক্ষু। অন্যান্য রাজার মতো বহুপত্নীক নন জনক। একপত্নীক। রানি সুনয়না তাঁর একমাত্র পত্নী। তাঁদের বিয়ে হয়েছে দীর্ঘদিন। কিন্তু কোনো সন্তান জন্মেনি তাঁদের। এই দম্পতির যৌবনকাল যায় যায়। তার পরও ‘মা’ অথচ ‘বাবা’ সম্বোধন করার কেউ এলো না রাজপ্রাসাদে। আধো আধো বোলে ওই সম্বোধন শুনবার জন্য একটা সময়ে উন্মত্ত হয়ে উঠলেন দুজনে। ঠিক ওই সময়ে সীতা দিদিকে খুঁজে পেলেন রাজা জনক। জাত-গোত্র-উৎপত্তি-উৎস বিচার না করে বুকে জড়িয়ে নিলেন সীতাকে। 

মহিষী সুনয়নাও কম তৃষ্ণার্থ নন। সন্তানবাসনা তাঁরও হৃদয়জুড়ে। সীতাকে পেয়ে আমার মা সুনয়নাও তড়িৎ স্পর্শিত হলেন। অদ্ভুত অনির্বচনীয় এক শিহরণ তাঁর সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে পড়ল। সীতাকে কোলে নিয়ে তাঁর মনে হলো, তিনি সন্তানবর্তী হলেন।

এসব কথা আমি কীভাবে শুনেছি?

মা সুনয়না, আমার যখন বোধবুদ্ধি হয়েছে, একে একে খুলে বলেছেন আমাকে। তিনি আরও বলেছেন, সেদিন বাদ্যবাজনা সহযোগে সীতাদিকে কৃষিভূমি থেকে রাজপ্রাসাদে নিয়ে এসেছিলেন পিতা জনক। ও হ্যাঁ, ওই কৃষিভূমিতে দাঁড়িয়েই নাকি রাজা জনক সদ্য কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটির নাম রেখেছিলেন―সীতা এবং উচ্চৈঃস্বরে সমবেত সবার সামনে ঘোষণা করেছিলেন, এই শিশুটিকে এখন থেকেই আমি আমার কন্যার স্বীকৃতি দিচ্ছি। সেইদিনই সীতার সঙ্গে রাজর্ষি জনক জড়িয়ে গিয়েছিলেন, জড়িয়ে গিয়েছিল মিথিলা নগরীও।
পরের কোনো এক রাতে, রানির শয়ন কক্ষে, তখনো আমি জন্মাইনি, মা-সুনয়না পিতা-জনকের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ‘এই সীতার প্রতি আমাদের ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত অটুট থাকবে তো? আমাদের যেদিন সন্তান হবে...।’

সেরাতে নাকি বাবা মায়ের কথা শেষ করতে করতে দেননি। ঘোর লাগা কণ্ঠে বলে উঠেছিলেন, ‘তোমার কথা আমি বলতে পারব না সুনয়না। আমার কথা বলছি, আমাদের যদি দশটা সন্তানও জন্মে, সীতার প্রতি আমার ভালোবাসা অক্ষুণ্ন  থাকবে।’ তারপর নাকি রাজা জনক দীর্ঘ একটা শ্বাস ত্যাগ করে বলেছিলেন, ‘সীতা আমাকে পিতৃত্বের স্বাদ দিয়েছে।’

এই ঘটনার দু’বছরের বছরের মাথায় আমি জন্মেছি। না না! আমাকে কখনো কোনো অবহেলা দেখাননি রাজর্ষি জনক। আমাকে ভালোবাসা দিয়েছেন, রাজকীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলবার যথাযথ ব্যবস্থা করছেন। বড় হলাম যখন, বুঝতে শুরু করলাম―পিতার বাৎসল্যে অতি সূক্ষ্ম একটা বৈষম্য আছে। সেই বৈষম্য মা বুঝতে পারেন না, সীতাদি বুঝতে পারে কিনা জানি না। কিন্তু আমি বুঝতে পারি। আমার চেয়েও দিদির প্রতি যে বাবার স্নেহাধিক্য, তা টের পাই আমি। এই স্নেহ-পার্থক্যের কথা কাউকে বলি না আমি। কারও বিরুদ্ধে কিছু বলার স্বভাব নয় আমার। মূলত আমি চুপচাপ ধরনের। দেখে যাওয়া এবং সয়ে যাওয়াই আমার স্বভাব।

আস্তে আস্তে মিথিলার রাজপ্রাসাদ সীতাময় হয়ে উঠল। আমি যে তাঁর আরেকজন কন্যা আছি ভুলে গেলেন বাবা। সারাক্ষণ সীতা সীতা! যে মা আমার একদা সীতাকে বুকে টেনে নিয়েছিলেন, সেই মা ধীরে ধীরে পালটে যেতে থাকলেন। সীতার প্রতি অদ্ভুত রকমের এক ঈর্ষাবোধ করতে শুরু করলেন মা―সুনয়না। মুহূর্তে মুহূর্তে বুঝিয়ে দিতে লাগলেন সীতাদি এই প্রাসাদে বহিরাগত,  এই রাজপ্রাসাদের সকল মর্যাদা- বাৎসল্য শুধু ঊর্মিলারই প্রাপ্য।

সীতা ভীষণ বুদ্ধিমতী। এবং সর্বংসহা। সকল দুঃখ-কষ্ট-লাঞ্ছনা- অপমান সহ্য করার বিপুল এক শক্তি আছে সীতাদির মধ্যে। মায়ের জটিল-কুটিল ব্যবহার বুঝতে পেরেও চুপ থেকেছে সে।

এরই মধ্যে আশ্চর্যজনক এক ঘোষণা দিয়ে বসলেন মিথিলার নৃপতি জনক। তাঁর কাছে সুনাভ নামে একটি হরধনু গচ্ছিত ছিল। তিনি বললেন, যে সুনাভে জ্যা আরোপ করতে পারবে, তাকেই সীতাদির বর করবেন। অনেক রাজা, রাজপুত্র, যুবরাজ এলো গেলো। কেউ পারল না সুনাভ ধনুটিতে তিরযোজনা করতে। শেষে ব্রহ্মর্ষি বিশ্বামিত্রের সঙ্গে দশরথপুত্র রাম-লক্ষ্মণ এলো । হরধনুটিতে তীরযোজনা পরের কথা, রাম বামহাতে ধনুকটি তুলে নিতে গেলে মটমট করে ভেঙে গেল তা। খুশি হলেন রাজা জনক।

রামের সঙ্গে সীতার বিয়ে ঠিক হয়ে গেল। বিয়ের মধ্যস্থতা করলেন ঋষি বিশ্বামিত্র। বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে অযোধ্যায় দূত পাঠালেন জনক। সানন্দে প্রস্তাব গ্রহণ করলেন রাজা। রাজা দশরথ সপরিবারে মিথিলায় চলে এলেন। রাম-লক্ষ্মণ তো আগে থেকেই মিথিলায় ছিল, রাজা দশরথের সঙ্গে তাঁর অন্য দুই পুত্র, ভরত আর শত্রুঘ্নও মিথিলায় এসে পৌঁছাল। সাংকাশ্যা রাজা থেকে সপরিবারে আমার পিতৃক এলেন। তিনি এ রাজ্যের নরপতি।

উল্লেখ্য, পিতৃব্য কুশধনের সঙ্গে তাঁর দুই বিবাহযোগ্য কন্যা, মাণ্ডবী এবং শ্রুতকীর্তিও এলো। আনন্দোৎসবে গোটা রাজপ্রাসাদ ভেসে যেতে থাকল। রাজ্যজুড়ে গান-বাজনা-নৃত্যের জোয়ার বইল। রাজপ্রাসাদে বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই, সীতার ভবিষ্য-শ্বশুর সপুত্রে মিথিলায় পৌঁছালে, সেই প্রস্তুতিতে জোর-হাওয়া লাগল।

সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। ব্রহ্মর্ষি বিশ্বামিত্রের এক প্রস্তাবে ওলট-পালট হয়ে গেল সব। ব্রহ্মর্ষি রাজা জনককে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘শুনেছি, সীতা ছাড়া তোমার আরেকজন কন্যা আছে। নাম―ঊর্মিলা। লক্ষণের সঙ্গে ঊর্মিলার বিয়ে হোক, চাই আমি।’
‘আরেকটি কথা।’ বলে পিতৃব্য কুশধ্বজের দিকে ফিরেছিলেন ঋষিবর, ‘তোমারও নাকি দুটি কন্যা আছে। বিবাহযোগ্যা সুন্দরী। আমি রাজা দশরথের অন্য দুই পুত্র, ভরত আর শত্রুঘ্নের জন্য তোমার দুই কন্যা মাণ্ডবী আর শ্রুতকীর্তিকে চাইছি আশা করি আমার প্রস্তাব ফিরাবে না তুমি।’

বাবা এবং কাকা দুজনের কেউই ঋষি বিশ্বামিত্রের প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানাননি। রাজা দশরথের চার পুত্রের সঙ্গে আমার চার বোনের বিয়ে হয়ে গেল। বিয়ের আগের দিনের একটি ঘটনা মনে পড়ে গেল আমার। অপরা‎‎হ্ণ। রাজপ্রাসাদের অন্দর মহলের সামনের চত্বর। ভীষণ সুন্দরভাবে সাজানোগোছানো চত্বরটি। ফুলের বাগান। অসংখ্য নানারঙের ফুলের বাহার বাগানজুড়ে। দূরে-অদূরে নানা ধরনের বৃক্ষছায়া। ওই চত্বরে রাজবাড়ির ভবিষ্য-জামাতাদের জলখাবারের আয়োজন করা হয়েছে। রাম-লক্ষ্মণ-ভরত-শত্রুঘ্ন―এই চার রাজপুত্রের সঙ্গে তাদের অনেক স্তাবক, বন্ধু।

আমরা চার বোন তখন দোতলার অলিন্দে দাঁড়িয়েছি। সখি পরিবৃত ছিলাম আমরা। সখিদের মধ্যে হাস্য-পরিহাসের হুল্লোড় চলছিল। অবান্তর তর্কে সবাই উচ্ছ্বসিত। আমি আর সীতা দিদি পাশাপাশি দাঁড়িয়ে। দুজনেরই দৃষ্টি নিচের চত্বরে নিবদ্ধ। মা-বী, শ্রুতকীর্তিও দশরথপুত্রদের দিকে তাকাচ্ছে। তবে তাদের বয়স কম বলে ওদের লজ্জা বেশি।

সীতাদি খুঁটিয়ে খাঁটিয়ে রামকে দেখে যাচ্ছিল। আমি দেখছিলাম লক্ষ্মণকে। ইতোমধ্যে আমরা চার বোন জেনে গেছি কার সঙ্গে কার বিয়ে হবে। রামচন্দ্রের দেহরং শ্যামল, লক্ষ্মণ গৌরবর্ণী। হঠাৎ এক সখি জিজ্ঞেস করে বসল, রামচন্দ্র সুন্দর, না লক্ষ্মণ সুন্দর? আরেক সখি সীতাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলল, ‘আমাকে জিজ্ঞেস করছ কেন? আমি কী করে বলব, শ্যামল সুন্দর কি কাঞ্চনবর্ণ সুন্দর। আমার যে এখনো বিয়েই হয়নি রে! যার বিয়ে হচ্ছে, সেই সীতাকেই জিজ্ঞেস কর না!

সীতা দুজনের কথা শুনে গেল। শান্ত কণ্ঠে অতি মৃদু স্বরে সীতা বলল, ‘যা কিছু শ্যামল, তা শীতল ও স্নিগ্ধ। শীতলতায় অল্প জুড়ায়।’ দিদির কথা আমার গায়ে লাগল। আমার মনে হলো―কথাচ্ছলে দিদি লক্ষ্মণের গায়ের রঙের নিন্দা করল। আমি হাসতে হাসতে বললাম, ‘তোমরা ভুলে যেয়ো না সখিরা, যা কিছু স্বর্র্ণিল, দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়, মন ভরে ওঠে।’

সীতা উত্তর দেওয়ার আগে একজন সখি বলে উঠল, ‘কাঞ্চনবর্ণের রৌদ্রে শরীর তপ্ত হয়ে উঠলে মানুষ কিন্তু ওই শ্যামল বৃক্ষছায়াতেই আশ্রয় খোঁজে। বিদ্যুৎ-ঝলক সোনার বর্ণের হলেও মানুষ কিন্তু শ্যামল মেঘকে পছন্দ করে।’

সখিটি যথোপযুক্ত উত্তর দিয়েছে বলে সীতা চুপ করে থাকল। আমি কিন্তু আর চুপ থাকতে পারলাম না। কিছু বলতে যাব, অমনি পাশ থেকে অন্য এক সখি বলে উঠল, ‘সোনার বরণে বড্ড তারা। তা অঙ্গে রাখলে বড় জ্বালা ধরে। এর চেয়ে শ্যামল অনেক ভালো, সহনীয়।’ সীতাদির পক্ষে এত গুণগান ভালো লাগল না আমার। কিছুটা ক্ষিপ্ত কণ্ঠে বললাম, ‘সোনারঙে যদি এতই জ্বালা তোমার, তাহলে স্বর্ণালংকার পরো কেন সখি? ভূষণ না পরে বৃক্ষের শ্যামলপাতা দিয়ে অঙ্গ ঢেকে রেখো এখন থেকে। আমি সোনারঙের তাপে দেহমন তপ্ত করতে চাই।’ নির্লজ্জ্বের মতো কথাটা বলে ভীষণ লজ্জায় ডুবে গেলাম আমি।

সীতাদি বেশ বিচক্ষণ। আমাকে ভালোবাসে খুব সে। আমাকে জিতিয়ে দিয়ে সখিদের উদ্দেশে বলল, ‘মিছে তর্ক করছিস তোরা। কোথায় স্বর্ণবর্ণ আর কোথায় গ্যোড়মেড়ে শ্যামল রং! সোনার রঙের সঙ্গে মেঘরঙের তুলনা চলে নাকি? ওই দেখ, নিচে চেয়ে দেখ লক্ষ্মণের পাশে রামকে কীরকম খেলো দেখাচ্ছে!’ বুদ্ধি করে প্রসঙ্গটা পালটে দিল সীতাদি। 

রাজকুমারদের দিকে নজর ফেরাতে বাধ্য করল আমাদের। চেয়ে দেখলাম লক্ষ্মণের পাশে রাম নয়, বরং রামের পাশেই কুঁজো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে লক্ষ্মণ। অনেকটা দাসের ভঙ্গিতে। এমনভাবে নিবিষ্ট চোখে রামের দিকে তাকিয়ে আছে যে, রাম শোনো আদেশ করলে তখন তখনই তা তামিল করবে। দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেল আমার। লক্ষ্মণ রাজা দশরথের পুত্র তো! রাজপুত্র সে! অন্যান্য পুত্রের মতো তারও তো রাজকীয় মর্যাদা আছে! রাম, ভরত, শত্রুঘ্ন কী স্বচ্ছন্দে কথাবার্তা বলছে। তাদের চলাফেরা দেহভঙ্গিতে কোনোই জড়তা নেই! অথচ লক্ষ্মণ কেমন জড়সড়। ক্রীতদাসীয় দেহভাষা তার! হঠাৎ কেন জানি সংকোচ বোধ করতে শুরু করলাম আমি। ঠিক মানুষটির সঙ্গে বিয়ে হচ্ছে তো আমার? স্ত্রীর যথাযথ মর্যাদা পাব তো আমি লক্ষ্মণের কাছ থেকে? সন্দেহে কেঁপে উঠলাম আমি। এই সন্দেহের কথা, এই সংকোচের কথা কাউকে বললাম না।

তারপর তো বিয়ে হয়ে গেল আমার! শুভদৃষ্টির সময় আরেকটি ঘটনা ঘটল, যা আমার সংকোচকে আরও বাড়িয়ে দিল। শুভদৃষ্টির সময় লক্ষ্মণ আমার দিকে ভালোবাসাময় কোমল দৃষ্টিতে তাকাল না। তার দৃষ্টি কুঞ্চিত। বিপুল অহংকারের উত্তাপ যেন তার চাহনিতে! এরপর আমার কোমল হাতখানির ওপর লক্ষ্মণ তার ডান হাতখানি যখন রাখল, চমকে উঠলাম আমি―এ কী! এরকম তপ্ত কেন লক্ষ্মণের হাতখানি! পলকে মুখের দিকে চাইলাম আমি। দেখলাম লক্ষ্মণের মুখখানি নির্মোহ, নির্লিপ্ত। দ্বিতীয়বার চমকে উঠলাম আমি। দ্রুত মনকে সান্ত্বনা দিলাম― এ বোধহয় লক্ষ্মণের আগ্নেয় অহংকারের উত্তাপ।

মিথিলার রাজপ্রাসাদেই আমাদের চার বোনের বাসরশয্যা রচিত হয়েছিল। বাসরঘরে আমি অন্য এক লক্ষ্মণকে দেখলাম। বাসরঘরে, সে পুরুষ হোক বা নারী, রোমাঞ্চিত থাকে। চোখে থাকে ঘোরলাগা ভাব। কারও কোমল স্পর্শের জন্য দেহ থাকে কাতর। এগুলোর ছিটেফোঁটাও দেখলাম না লক্ষ্মণের মধ্যে! লক্ষ্মণের দিক থেকে কাতরতা না থাকলেও আমার দিক থেকে ছিল। আমি হাত বাড়িয়ে লক্ষ্মণের দেহটাকে স্পর্শ করলাম। মনে করেছিলাম, আমার এই বুভুক্ষু স্পর্শে লক্ষ্মণ সাড়া দেবে। লক্ষ্মণ কোনো সাড়া দিল না। উপরন্তু আমার উপর রুষ্ট হলো বলে মনে হলো। আমি আগাপাঁশতলা লক্ষ করে গেছি―লক্ষ্মণ একটু গম্ভীর প্রকৃতির। অন্যান্য দশরথপুত্রের মধ্যে লক্ষ্মণই সবচেয়ে মিষ্টভাষী, তেজস্বী এবং স্পষ্টবাদী। 

তা না হয় বোঝা গেল। তাই বলে এত অসহনীয়ভাবে গম্ভীর, এত আপত্তিকরভাবে মিতভাষী! মনটা আমার চুপসে যেতে শুরু করল। আমার শিহরণ, আমার প্রেমোন্মাদনা কোথায় যেন হারিয়ে যেতে থাকল। মনকে বোঝালাম― এরকম হতেই তো পারে! লক্ষ্মণের এই গাম্ভীর্য, এই নিস্পৃহতা সাময়িক একটা ব্যাপার! চেনা রাজবাড়ি থেকে ভিন্ন এক রাজপ্রাসাদে এসেছে। ভিন্ন পরিবেশে লক্ষ্মণ হয়তো নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছে না। অযোধ্যার রাজগৃহে ফিরে গেলে স্বাভাবিক এক তরুণমনের লক্ষ্মণকে পাব আমি―ভেবে নিজেকে আশ্বস্ত করলাম।

আমাদের সেদিনের বাসরঘর শুধু দেওয়া আর নেওয়াতে সীমাবদ্ধ হয়ে থাকল। আমার কুসুমিত সতেজ মনটি সেদিনই বুঝি মরতে শুরু করল। তবে দেহের খেলায় মত্ত থাকার কারণে সেই মৃত্যুঘণ্টা ভালো করে শুনতে পাইনি আমি। আমরা সবাই অযোধ্যার রাজপ্রাসাদে ফিরে এসেছিলাম। প্রত্যেক পুত্রবধূর জন্য আলাদা ভাবনের ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন শ্বশুর দশরথ। আমরা চার বোন নিজের নিজের সংসার-পসরা সাজিয়ে বসেছিলাম। যেহেতু রামচন্দ্র রাজা দশরথের জ্যেষ্ঠপুত্র, সেজন্য রামচন্দ্রকে ঘিরেই প্রাসাদীয় জীবন আবর্তিত হচ্ছে। বড় ছেলে বলে যুবরাজ বা পরবর্তী-রাজা রামচন্দ্রই হবে―এটা প্রথাগত সিদ্ধান্ত। তাই অযোধ্যায় রামচন্দ্রের গুরুত্ব ও মর্যাদা সর্বাধিক। তাতে অন্যদের আপত্তি ছিল না। আমারও নেই। আমার আপত্তি রামচন্দ্রের প্রতি লক্ষ্মণের বশংবদপনায়।

রামচন্দ্রের ভীষণ অনুগত লক্ষ্মণ। নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে সকালসন্ধ্যা শুধু রামের পেছন পেছন ঘোরে লক্ষ্মণ। তার ঘরে যে একজন নববধূ আছে, সেই বধূর যে দেহ আছে, সেই দেহেতে যে তপ্ত শিহরণ আছে, সেই শিহরণে যে মিলনবাসনা আছে―বেমালুম ভুলে থাকে সে। গভীর রাতে শয়নকক্ষে ফেরে। ফিরেই কীরকম মুখ করে গম্ভীরভাবে শুয়ে থাকে। এ নিস্পৃহতা কেন লক্ষ্মণের? একী আমার প্রতি অবহেলা নয়? 
একটা সন্দেহ মনে ছলকে ওঠে আমার। লক্ষ্মণের কোনো প্রেয়সী নেই তো? পিতার চাপে যাকে বিয়ে করতে পারেনি! খোঁজ নেওয়া শুরু করলাম। নাহ! সেরকম কোনো তথ্য পেলাম না আমি। তাহলে! তাহলে এতো নিরাসক্ত কেন লক্ষণ? 

এর মধ্যে বেশ কিছুটা বছর কেটে গেল। লক্ষ্মণের স্বভাবে কোনো পরিবর্তন দেখা গেল না। যথা-অভ্যাসে সে রামচন্দ্রের সেবা করে যেতে লাগল। রামচন্দ্রই যেন তার ধ্যান-জ্ঞান, জীবনের গন্তব্য। লক্ষ্মণ আমার কাছে আসে, শুধু দেহক্ষুধা নির্বপিত করার জন্য। আমাদের নৈশমিলন হাহাকারে ব্যর্থ হতে থাকে।

রামচন্দ্রের কাজ তো লক্ষ্মণের চেয়ে বহু গুণে বড়! সেও তো গোটা দিনমান নানা রাজকার্যে ব্যাপৃত থাকে। কিন্তু শয়নকক্ষে ফিরে, যখন, সমস্ত ঘরটি সোহাগসিক্ত হয়ে ওঠে। পাকা খবর আছে আমার কাছে। সীতাদির খাসদাসী অমলা এসে আমাকে বলে গেছে তা। প্রেমালাপের ফুল ঝরে পড়তে থাকে নাকি রামের মুখ থেকে! রাম-সীতার নৈশমহূর্তগুলো নিবিড় সান্নিধ্যে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। কিন্তু লক্ষ্মণ আর আমার নিবিড় নৈশমুহূর্তগুলো! কী রকম তেতো তেতো যেন! কেন এরকম হলো আমার জীবনে? আমার তো এরকম অভাগী হবার কথা নয়! আমিও তো রাজকন্যা! বরং সীতার চেয়ে অধিক রাজকন্যা। তাহলে সীতাদি যা পেল, আমি তা পেলাম না কেন? মরমে মরতে থাকি আমি। কাকে বোঝালে হৃদয়ের ভাব কমবে আমার? এ যে কাউকে বোঝাবার নয়; কাউকে বোঝালে যে নিজেই তার কাছে খেলো হয়ে যাব!

ধীরে ধীরে মুখের কথা ফুরাতে থাকে আমার। আমার উচ্ছ্বাস কমতে থাকে। কীরকম অদ্ভুত এক রূপান্তর ঘটতে থাকে আমার মধ্যে। কারও সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করে না আমার, এমনকি লক্ষ্মণের সঙ্গেও। লক্ষ্মণের সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। রামের প্রতি দাসগিরি অব্যাহত রাখে সে। 

সীতাদি একদিন লক্ষ করে তা। আমাকে জিজ্ঞেস করে, ‘তুমি এরকম চুপচাপ হয়ে গেছ কেন ঊর্মিলা। তোমার মধ্যে আগের সেই উচ্ছ্বলতা কই! তোমার সেই স্বভাব চাঞ্চল্য কোথায় গেল ঊমিলা?’

কপট হাসিতে বেদনা ঢাকি আমি। মনে মনে বলি, আমার এই স্মিতমুখের অন্তরালে কী গাঢ় বিষাদকে যে আমি গোপন করে রেখেছি দিদি, তা তো তোমাকে বলতে পারব না। আমার ভেতরের অতৃপ্তি আর সংক্ষোভ তোমার কাছে প্রকাশ করি কী করে দিদি!

কী ভেবে সীতাদি হঠাৎ বলে ফেলে, ‘লক্ষ্মণ তোমাকে ভালোবাসে তো ঊর্মিলা?’ আমি হইহই করে উঠি, ‘বাসে তো, ভালোবাসে তো লক্ষ্মণ আমায়।’ নিজের অজান্তে বুক চিড়ে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। বলি, ‘আমাদের দুইজের মধ্যে বড্ড মিল দিদি। লক্ষ্মণ আমাকে প্রেমে-অনুরাগে ভরিয়ে রাখে।’ মনে মনে সীতাদির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিই মিথ্যে বলার জন্য আমাকে ক্ষমা কর দিদি। লক্ষ্মণ যে আমাকে অবহেলা করে! বোন হয়ে সেই অবহেলার কথা তোমাকে বলি কী করে দিদি! তাহলে যে তুমি বড় ব্যথা পাবে দিদি!

কেউ কেউ ধরে নিতে পারেন― সেই প্রথম থেকেই আমি লক্ষ্মণের দুর্নাম গেয়ে যাচ্ছি। তা কিন্তু নয়। একদিন লক্ষ্মণের তেজ দেখে সত্যিই আমি তাজ্জব বনে গেছি। অযোধ্যার রাজপ্রাসাদীয় ষড়যন্ত্র তখন ভীষণ ঘোলাটে হয়ে উঠেছে। রাজা দশরথ রামচন্দ্রকে যুবরাজ বলে ঘোষণা করেছেন। পরদিন রামকে যৌবরাজ্যে অভিষিক্ত করবেন। রাজা দশরথের তৃতীয় পত্নী কৈকেয়ী বেঁকে বসেছেন। তিনি রামের যৌবরাজ্যে আপত্তি করলেন এবং রাজার কাছে পূর্বতন দুটি বর চাইলেন। একটি বরে রামচন্দ্র চৌদ্দ বছরের বনবাসে যাবে, দ্বিতীয় বরে ভরত অযোধ্যার যুবরাজ হবে। মূর্ছিত হলেন দশরথ। তাতেও কৈকেয়ী রাজাকে ছাড় দিলেন না।

রামচন্দ্র মা কৈকেয়ীর চাওয়া মেনে নিল। লক্ষ্মণ কিন্তু মানল না। ক্রোধে অগ্নিমূর্তি ধারণ করল সে, পিতার বিরুদ্ধে নানা কটূক্তি করতে শুরু করল লক্ষ্মণ। এমনকি রাজা দশরথকে বন্দি করে স্থানান্তরে নিয়ে যেতে চাইল সে। বহু কষ্টে রামচন্দ্র আর জননী সুমিত্রা মিলে লক্ষ্মণকে থামাতে পেরেছিল সেদিন।

রামচন্দ্র চৌদ্দ বছরের জন্য বনবাসে যেতে স্থির-প্রতিজ্ঞ থাকল। সীতাদিও সঙ্গে যেতে রামচন্দ্রকে রাজি করাল। আমার বুকটা প্রবল বেগে কেঁপে উঠল, লক্ষ্মণ যখন বলল, ‘আমিও তোমার সঙ্গে যাব দাদা। আমি না থাকলে ওই বনে-অরণ্যে তোমার সেবা করবে কে?’ যথার্থ এক সেবাদাসেরই উক্তি এটা। রামচন্দ্র চেষ্টা করেছে লক্ষ্মণকে তার সংকল্প থেকে সরাতে এবং রামচন্দ্রের চেষ্টা যথার্থই আন্তরিক ছিল। লক্ষ্মণ কিন্তু তার সংকল্প থেকে সরে আসেনি। এর পেছনে লক্ষ্মণ জননী সুমিত্রারও পরোক্ষ ইন্ধন ছিল।

জোর করে, হাহাকার করে, মাতৃত্বের দোহাই দিয়ে এবং আমার নিঃসঙ্গতার অজুহাত দেখিয়ে শাশুড়িমা একবারের জন্যও বলেননি, ‘তুই ঊর্মিলাকে একাকী ফেলে এভাবে রামের সঙ্গে যাস না বাবা! ভেবে দেখ, তোকে ছাড়া ঊর্মিলা দুঃসহ একাকীত্বে ভুগবে! কেন শুধু শুধু জনক নন্দিনীকে এরকম করে কষ্ট দিবি লক্ষণ? তুই যে রামচন্দ্রের সঙ্গে যেতে চাইছিস, তার সঙ্গে তো সীতা আছেরে বাছা! ঊর্মিলার সঙ্গে কে থাকবে বল। আচ্ছা, তুই এক কাজ কর, রাম যেমন সীতাকে নিয়ে যাচ্ছে, তুইও ঊর্মিলাকে তোর সঙ্গে করে নিয়ে যা। তাতে মেয়েটি শান্তি পাবে, তোকে নিত্যদিন কাছে পেয়ে স্বস্তি পাবে।’ এর কিছুই করলেন না শাশুড়িমাতা। উপরন্তু লক্ষ্মণকে বললেন, ‘এই চৌদ্দ বছরের বনবাসজীবনে রামচন্দ্রকে রাজা দশরথ বলে জানবি আর সীতাকে মানবি আমি বলে।’

লক্ষ্মণ যখন মায়ের পদধূলি নিয়ে বিদায় নিচ্ছে, শাশুড়িমায়ের পাশে আমিও দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমাকে সান্ত্বনা দেওয়া তো দূরের কথা, এক পলকের জন্যও আমার দিকে তাকাল না লক্ষ্মণ। আহ, ঈশ্বর, এত অবহেলা আমি সহ্য করি কী করে! তুমি আমার মনে জোর দাও প্রভু― আমি যেন জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণ হয়ে না উঠি।’

অল্পক্ষণের মধ্যে মন শক্ত করে ফেলেছিলাম আমি। দ্রুত পায়ে শয়নকক্ষের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলাম। তারপর তো অনন্ত প্রতীক্ষা। দিন-মাস-বছর করে করে চৌদ্দ বছর কেটে গেল। রামচন্দ্র ফিরল, সীতা দিদি ফিরল। লক্ষ্মণও ফিরে এলো। রাম-সীতার জীবন পালটে গেল। রামচন্দ্র অযোধ্যার রাজা হলো। সীতাদি হলো রাজমহিষী। সবারই স্বভাবে-আচরণে পরিবর্তন দেখা গেল। শুধু বদলালো না লক্ষ্মণ। সে পূর্ববৎ আমার প্রতি নিস্পৃহ থাকল, রামের থাকল দাসানুদাস হয়ে। জীবনের প্রতি বীতস্পৃহ হয়ে উঠতে লাগলাম আমি।  

লক্ষ্মণ আমার শয়নকক্ষে আসে, প্রয়োজন মিটায়। রাত্রিশেষে রামের চরণতলে ফিরে যায়। শুনেছি অরণ্যবাসে সীতার প্রতি ভীষণ যত্নবান ছিল লক্ষ্মণ, মাতৃবৎ সেবা করেছে সীতাকে। সীতা-উদ্ধারে গিয়ে রাবণের শক্তিশেলে প্রাণ পর্যন্ত নাকি যেতে বসেছিল লক্ষ্মণের। উদ্ধার শেষে রাম যখন সীতার অগ্নিপরীক্ষার আয়োজন করেছিল প্রচণ্ড ক্ষেপে উঠেছিল লক্ষ্মণ। সীতা-অনুরাগী এই লক্ষ্মণ যেদিন সীতার সঙ্গে অন্যায় আচরণ করে বসল, সেদিনই লক্ষ্মণকে মনে মনে ত্যাগ করলাম আমি।

অযোধ্যার কুৎসিত মানুষেরা সীতাদিদির সন্তানসম্ভাবনার ব্যাপারটা নিয়ে রাবণকে জড়িয়ে কুৎসা ছড়াতে শুরু করল। ক্রমে তা রামচন্দ্রের কানে এলো। কোনো বিচার-যুক্তির ধার না ধরে জঘন্য মনের প্রজাদের কথা বিশ্বাস করে বসল রাম। গর্ভবতী স্ত্রীকে অনন্ত কালের জন্য বনবাসে পাঠাল। সীতাকে বনবাসে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দিল কাকে? কেন দাসানুদাস লক্ষ্মণ আছে না! সবকিছু জেনেও লক্ষ্মণ সীতাদির সঙ্গে অভিনয় করে গেছে। সীতাদিকে বলেছে, ‘তোমাকে ঋষিদের তপস্যাশ্রম দেখাতে নিয়ে যাব বউদি। চল।’

সীতাদি তো বোকাসোকা একজন নারী! লক্ষ্মণের কথা বিশ্বাস করে রথে চড়ে বসেছিল সেদিন। লক্ষ্মণ আমার প্রাণের দিদি সীতাকে অরণ্যে বিসর্জন দিয়ে ফিরে এসেছিল। এই কুকর্মটি করে লক্ষ্মণ আমার কক্ষে এসেছিল। সেদিনও বড় নির্বিকার দেখেছিলাম আমি তাকে! সেইদিনই ঠিক করেছিলাম―আমার আর বেঁচে থাকার মানে নেই। তারপরও বেঁচে ছিলাম আমি। আমি বড় ভীরু মেয়ে যে!

এরপর বেশ ক’বছর কেটে গিয়েছিল। হঠাৎ একদিন শুনলাম, রামচন্দ্র অশ্বমেধ যজ্ঞ করবেন। রাজপ্রাসাদ থেকে দূরে গোমতী নদীর তীরে অশ্বমেধ যজ্ঞের আয়োজন হলো। কয়েক দিন ধরে অশ্বমেধ যজ্ঞানুষ্ঠান চলল। আবার একদিন শুনলাম―সীতাদি আসবে সেই যজ্ঞানুষ্ঠানে। বহু বছর পর দিদিকে আবার দেখতে পাব বলে বহুদিন আগে আমার মরে যাওয়া মনটি আবার স্পন্দিত হলো।

তারপর এক সকালে শুনলাম, সীতাদি আত্মহত্যা করেছে। ঋষি বাল্মীকি দিদিকে নিয়ে এসেছিলেন জন্মভূমিতে কিন্তু রাম নাকি দিদিকে এমন অপমান করেছে, গোমতীজলে আত্মবিসর্জন দিয়ে সেই অপমানের জ্বালা মিটিয়েছে জনকনন্দিনী।

আমারও আর বেঁচে থাকার প্রয়োজন নেই। অনেক আগেই অহিফেন জোগাড় করে রেখেছি আমি। লক্ষ্মণ যজ্ঞভূমি থেকে রাজপ্রাসাদে ফিরে আসার আগেই একদলা অহিফেন খেয়ে শুয়ে পড়ব। লক্ষ্মণ শয়নকক্ষে ঢুকে আমাকে পাবে না, আমার দেহকে পাবে। সেই দেহ তখন তার ব্যবহারের অনেক ঊর্ধ্বে।

ঢাকা/তারা//

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়