বিএনপির বিজয় নিয়ে যা বলছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিবিদরা
|| রাইজিংবিডি.কম
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপি। নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশার পাহাড় জমেছে সীমান্তের ওপারের পশ্চিমবঙ্গ থেকে দিল্লি পর্যন্ত। তারেক রহমানের বিদেশী নীতি, সংখ্যালঘু নিরাপত্তাসহ একাধিক ইস্যুতে এভারেস্ট সমান প্রত্যাশা ভারতের। হাসিনা সরকারের পতনের পর এই প্রথম যেন বাংলাদেশ ইস্যুতে ভারতের সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে।
শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বাংলাদেশের গত কয়েকদিন ধরে হিন্দুদের উপর অত্যাচার হচ্ছে এবং এখনো তা চলছে। এমন অবস্থায় একটা অসাম্প্রদায়িক দল-যারা উন্নয়নের বার্তা দিয়ে মানুষের ভোটে জিতলো। এটা বিশ্বের কাছে এটা নজির।”
সীমান্ত এলাকায় জামায়াতের ভালো ফল ভারতের নিরাপত্তাহীনতার কারণ হবে কিনা এমন প্রসঙ্গে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এই সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার একটা পরিকল্পনা ছিল।”
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ যারা ওখানে রয়েছেন তারা অসাম্প্রদায়িক, আমি বাংলাদেশে গিয়েছিলাম আমাদের একটা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স হয়েছিল, তখন যিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তার সাথে আলোচনা হয়েছিল। আমি কথা বলে দেখেছি তারা চান বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে সম্প্রীতিতে বসবাস করুক। সারা বিশ্বের কাছে একটা বিশেষ বার্তা গেল। বিশেষ করে যারা সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলোকে যোগান দিচ্ছিল তাদের যে পরাজয় অনেক বড় ঘটনা। আমার মনে হয় বাংলাদেশের যে মানুষ রয়েছে তারা অসাম্প্রদায়িক তারা সাম্প্রদায়িকতা পছন্দ করেন না।”
তৃণমূল কংগ্রেসের মতই নির্বাচন প্রসঙ্গে একই অবস্থানে বিজেপি ও কংগ্রেস নেতৃত্ব।
বিজেপির রাজ্য সম্পাদক মন্ডলী সদস্য তাপস মিত্র বলেন, “বাংলাদেশের এই ফলাফলে আমরা আংশিক হলেও খুশি সেখানে গণতন্ত্র পুনঃ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যেভাবে একটা নির্বাচিত সরকারকে পদচ্যুত করা হলো, যেভাবে হাসিনা পেয়ে ক্ষমতাচ্যুত করা হলো সেটা গণতন্ত্রের জন্য লজ্জার। এরপর থেকেই বাংলাদেশজুড়ে অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো। হিন্দু সম্প্রদায় থেকে শুরু করে বিরোধী দলের রাজনীতিবিদদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তার নিন্দা করার ভাষা নেই। তা সত্ত্বেও বলব আংশিক হলেও এই ফলাফল আমরা খুশি। কারণ সেখানে মানুষেরনির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামের যারা বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ করছিল এবং বাংলাদেশকে অস্থির করে তুলেছিল ,কিছু যুব সমাজকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানের মদতে আইএইসাই এর মদতে সেটা থেকে বাংলাদেশ আজ বাঁচলো।”
তিনি বলেন, “আমরা চাইবো বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে থাকুক, তাদের আর্থিক সচ্ছলতা আসুক। তারা বিদেশি প্রভাবমুক্ত হয়ে নিজেরাই নিজেদের সরকার চালাক, দেশ চালাক, উন্নতি করুক। ভারত সরকার সব সময় সাহায্যের জন্য প্রস্তুত। বাংলাদেশ আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। তারেক রহমান সম্ভবত সেখানকার প্রধানমন্ত্রী হবেন। তার কাছে অনুরোধ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যেন আবার পুনরায় ভালো হয়।”
কংগ্রেস নেতা নীলাভ সরকার বলেন, “যাদের দুধের দাঁত ওঠেনি তারা বলছিল ভারতবর্ষ দখল করব। সেই সব নেতাদের পরাজয় প্রমাণ করে দিল বাংলাদেশের মানুষ এখনো শুভবুদ্ধি সম্পন্ন গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষ। তারা বাংলাদেশের মাটিতে অস্থিরতাকে দাঁড় করাতে চায় না। জঞ্জালমুক্ত করতে চায়। তাদের অভিনন্দন জানাই। বিএনপির হাত ধরে আগামীদিনে বাংলাদেশের উন্নতি হোক।ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক আবারো সুমধুর হোক এই আশা আমরা রাখছি।”
সুচরিতা/শাহেদ