ঢাকা     শুক্রবার   ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন, চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে সিলেট-৪ এ জয় আরিফের

সিলেট প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৫৭, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৮:৫৭, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন, চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে সিলেট-৪ এ জয় আরিফের

আরিফুল হক চৌধুরী

শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন, তাও নিজের রাজনৈতিক ঘাঁটির বাইরে। এমন সমীকরণ নিয়েই এবারের সংসদ নির্বাচনে মাঠে নামেন আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফ নগর ও সদর উপজেলা (সিলেট-১) ছেড়ে প্রার্থী হন সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ) আসনে। অনেকের কাছে এটি ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। দলীয় অন্দরে গুঞ্জন ছিল, তাকে এ আসনে পাঠিয়ে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা হয়েছে।

কিন্তু, সব হিসাব উল্টে দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয় পেয়েছেন তিনি। ঘোষিত ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীন পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৯১ ভোট।

আরো পড়ুন:

এই জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর সিলেট-৪ আসনটি বিএনপির ঘরে ফিরল। একই সঙ্গে ওয়ার্ড কমিশনার হিসেবে রাজনীতি শুরু করা আরিফুল হক চৌধুরী জাতীয় সংসদে প্রবেশ করলেন নতুন পরিচয়ে।

দলীয় সূত্র জানায়, শুরুতে তিনি সিলেট-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে সেখানে মনোনয়ন পান দলের আরেক উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর। পরে শেষ মুহূর্তে সিলেট-৪ আসনে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, তা নিয়েও কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার হাত থেকেই মনোনয়নপত্র নেন বলে জানা গেছে।

পাহাড়-হাওর অধ্যুষিত সিলেট-৪ আসনটি আরিফের জন্য পুরোপুরি অপরিচিত না হলেও ছিল ভিন্ন বাস্তবতা। তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীন। পাশাপাশি বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতেও কিছু প্রতিরোধ ছিল। বিশেষ করে নেতা হাকিম চৌধুরীর অবস্থান নিয়ে আলোচনা ছিল রাজনৈতিক মহলে। তবে নির্বাচনি প্রচারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন আরিফ। ঘন ঘন গণসংযোগ, পথসভা ও সাংগঠনিক তৎপরতায় দুই মাসের মধ্যেই মাঠে প্রভাব তৈরি করেন তিনি।

২০০৩ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। পরে নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রয়াত মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে হারিয়ে প্রথমবার সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র হন। তবে ২০২৩ সালের সিটি করপোরেশন  নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় তিনি প্রার্থী হননি।

নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “মাত্র দুই মাস কাজ করে জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জের মানুষ আমাকে যে আস্থা দিয়েছেন, তা আমি কল্পনাও করিনি। এখন আমার দায়িত্ব সেই আস্থা রক্ষা করা।”

তিনি আরো জানান, জনগণ তাদের কাজ করেছেন ভোট দিয়ে। এখন তার দায়িত্ব এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করা। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহযোগিতার আশ্বাসের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

ঢাকা/রাহাত/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়