সেরা সময় এখানো আসেনি, অপেক্ষা করছে: তাসনিম জারা
নিজম্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
তাসনিম জারা।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব হন ডা. তাসনিম জারা। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি জোট করায় অসন্তুষ্ট হয়ে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসনে নির্বাচনে অংশ নেন তাসনিম।
পেশায় চিকিৎসক, গবেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার তাসনিমের এই সিদ্ধান্ত স্বাগত জানিয়েছেন অনেকে। কিন্তু ব্যালটে সেই বিপ্লব হয়নি। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে তাসনিমের ফুটবল মার্কা ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট পেয়েছে। তাসনিম হয়েছেন তৃতীয়।
নিজের পরাজয় মেনে নিয়েছেন। তবে জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার তার। ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পাওয়াকে শক্তি হিসেবে দেখছেন তিনি। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজের ফেসবুকে দীর্ঘ স্টাটাস দিয়েছেন তিনি। যেখানে নির্বাচনের ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন।
তার আসনে ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে ধানের শীষ প্রতীকের হাবিবুর রশিদ হাবিব বিজয়ী হয়েছেন। একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাসনিম বলেছেন, ‘‘ঢাকা-৯ আসনের বিজয়ী প্রার্থী হাবিবুর রশীদ হাবিবকে আমার শুভেচ্ছা। গত রাতে আমি তাকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছি। ঢাকা-৯ এর জনগণ এবং বাংলাদেশের স্বার্থে, আমি তাদের আগামীর সফলতা কামনা করি। আমরা একটি গঠনমূলক শক্তি হিসেবে কাজ করব, যেসব উদ্যোগ জনগণের উপকারে আসবে, সেগুলোকে সমর্থন করব এবং যেগুলো নয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে সতর্ক ও নীতিনিষ্ঠ বিরোধী কণ্ঠস্বর হয়ে থাকব।’’
তাসনিম বলেছেন, ‘‘যদিও আমরা প্রথম হয়ে ফিনিশ লাইন পার হতে পারিনি, তবুও আমরা এমন কিছু অর্জন করেছি, যা অনেকে অসম্ভব বলে মনে করেছিলেন। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ একটি এমন প্রচারের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যেখানে ছিল না লাউডস্পিকার, না ছিল শক্তির প্রদর্শন, না ছিল বিদ্বেষ। আপনারা বেছে নিয়েছেন সম্মান ও সততার একটি মডেল।’’
তার বিশ্বাস স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণে নতুন প্রজন্মের নারীর নেতৃত্ব অনুপ্রাণিত হবে বলে মনে করেন তাসনিম জারা। তিনি বলেন, ‘‘এই প্রচারে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল নজিরবিহীন। আমরা সাহসের একটি বীজ রোপণ করেছি, যা নতুন প্রজন্মের নারী নেতৃত্বকে অনুপ্রাণিত করবে।’’
গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল নির্বাচনে হারলে তাসনিম যুক্তরাজ্রে ফেরত যাবেন! সেই গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘‘আমি এটি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমার শিকড় এখানে, আমার কাজও এখানে। আমি কোথাও যাচ্ছি না। আমরা এই আন্দোলন শুরু করিনি শুধু একটি নির্বাচনি রাতের জন্য; আমরা শুরু করেছি, আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের জন্য। এটি আজীবনের কাজ এবং আমি গর্বিত যে আপনাদের সঙ্গে নিয়ে এই পথ চলা অব্যাহত রাখব।’’
যারা সমর্থন করেছেন, স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছেন, রাত-দিন পরিশ্রম করেছেন, তাদের প্রতি তাসনিমের বার্তা, ‘’৪৪ হাজারের বেশি ভোট একটি শক্ত ভিত্তি। যদি তোমার মন খারাপ থাকে, তবে হতাশ হইও না। আমরা প্রমাণ করেছি, যে সততার জন্য মানুষের মধ্যে তীব্র আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। আমরা পুরনো ধ্যানধারণা ভেঙে দিয়েছি। আমরা এমন একটি ঢাকা-৯ এবং একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, যা আমাদের সবার। সেরা সময় এখনো আসেনি, সেটি সামনে অপেক্ষা করছে।’’
ঢাকা/ইয়াসিন/বকুল