ঢাকা     শুক্রবার   ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ৩০ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

রংপুরে ছয় আসনের পাঁচটিতে জামায়াত, একটিতে এনসিপি জয়ী

রংপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৫:৫০, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  
রংপুরে ছয় আসনের পাঁচটিতে জামায়াত, একটিতে এনসিপি জয়ী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ছয়টি সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জামায়াত জোটের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছে। পাঁচটিতে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ও একটিতে তাদের সমর্থিত জাতীয় নাগিরক পার্টির (এনসিপির) প্রার্থী জয় পেয়েছে।  

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল আহসান।

ছয়টি আসনে জামায়াত জোট প্রার্থীদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে। ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীরা। এক সময়ের জাপার দুর্গখ্যাত রংপুরে এবারের নির্বাচনে দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরসহ অন্যান্য প্রার্থীদের শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত ফলাফল হতে জানা যায়, রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও সিটির আংশিক) আসনে রংপুর মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মো. রায়হান সিরাজী ১ লাখ ৫০ হাজার ৮৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৪০৭ ভোট। 

রংপুরের ছয়টি আসনের মধ্যে আলোচিত রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৮৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার ধানের শীষ প্রতীকে ৭৯ হাজার ৮৬২ ভোট পেয়েছেন। 

রংপুর-৩ (সদর ও সিটি করপোরেশন) আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলালকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। বেলাল ১৬৯টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭৮ হাজার ০৬৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির রংপুর মহানগর কমিটির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট। দীর্ঘদিন এ আসন ধরে রেখেছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তিনি ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। 

রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) ৮ হাজার ৩৩১ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী এদমদাদুল হক ভরসা ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট পেয়েছেন। 

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ও দলের জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রব্বানী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৫ হাজার ১১৬ ভোট পেয়েছেন। 

দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের দখলে থাকা রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনটিও এবার জামায়াতের দখলে। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক নুরুল আমিন বিএনপির জেলা আহ্বায়ক ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ২ হাজার ৪২৫ ভোটের ব্যবধানের বিজয়ী হন। নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট। বিএনপির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে পান ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট।

রংপুরে ৬টি সংসদীয় আসনে ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জন ভোটার ৮৭৩টি ভোট কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিভিন্ন রাজনৈতি দল ও স্বতন্ত্র মিলে ৪৪ জন প্রার্থী এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ঢাকা/আমিরুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়