নজরুলের হাসির গানের প্রেক্ষাপট
সৌমিত্র শেখর || রাইজিংবিডি.কম
মানব জীবনচক্রের অপরিহার্য ও স্বাভাবিক প্রকাশ হলো কান্না, হাসি, ক্রোধ ইত্যাদি। মানবমনে ও যাপিতজীবনে এর ব্যবহার নিয়ে মনোবিজ্ঞানীদের প্রচুর গবেষণা আছে। ‘হাসি’ বাংলায় বহুমাত্রিক শব্দ। অনেক অর্থ প্রকাশ পায় শব্দটি দিয়ে। অর্থগুলোও প্রেক্ষাপট তৈরি করে আলাদা আলাদা। ইংরেজিতে বরং পৃথক শব্দ দিয়ে নানা রকমের হাসি প্রকাশ করা হয়ে থাকে। ফলে, ইংরেজিতে ব্যাপারটি অনুধাবন করা যতটা সহজ, বাংলায় শুধু ‘হাসি’ শব্দ ব্যবহার করে তা ততটা সহজ হয়ে ওঠে না। যেমন, Smile বললে বোঝায় মৃদুহাসি; Laugh দিয়ে বোঝায় শব্দ করে উচ্চহাসি। এছাড়া গলার স্বর বা হাসির ধরন অনুযায়ী Giggle (খিলখিল হাসি), Chuckle (মুখ টিপে হাসি), Grin (দাঁত বের করে হাসি), Titter (মুচকি হাসি), Simper/ Smirk (বোকার হাসি), Mockery/ Ridicule (উপহাস বা ব্যঙ্গ) হাসি শব্দের প্রাসঙ্গিক ইংরেজি অনুবাদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অর্থাৎ হাসির প্রক্ষেপণ ও ধরন অনুসারে ইংরেজিতে এর ভিন্ন ভিন্ন নাম আছে, বাংলায় যেটি নেই। হাস্যরস বা রসবোধ বোঝাতে ইংরেজিতে বিভিন্ন ধরনের শব্দ বা অভিব্যক্তি ব্যবহৃত হয়। যেমন, সাধারণ হাস্যরস বোঝাতে Humor, তীক্ষ্ম বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক বোঝাতে Wit, সাধারণ কৌতুক বোঝাতে Comedy, অতিসাধারণ কৌতুক বোঝাতে Joke, রসিকতা বোঝাতে Witty, উচ্চহাস্যকর বোঝাতে Hilarious, মজাদার বোঝাতে Amusing, ব্যঙ্গ বোঝাতে Satire, ভাঁড়ামি বোঝাতে Burlesque, কৌতুকপ্রিয়তা বোঝাতে Drollery সহ আরও বেশ কিছু ইংরেজি শব্দ আছে, যা দিয়ে বাংলায় হাস্যরস বোঝানো যেতে পারে। ‘হাস্যরস’ বাংলায় একটি বহুমাত্রিক শব্দ। তবে সাধারণত ব্যঙ্গ বা হালকা মন-বিনোদনমূলকতা প্রকাশে এর ব্যবহার বহুচর্চিত।
মধ্যযুগের বাংলা গান ও সাহিত্যে হাসি, কৌতুক এবং লঘু রসের উপস্থিতি রয়েছে, যদিও তা প্রধানত ভক্তি বা প্রেমের আড়ালে ঢাকা থাকত। বৈষ্ণব পদাবলিতে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলায় পরিহাস, মঙ্গলকাব্যগুলোতে লৌকিক দেবদেবীর মানবিক আচরণ এবং লোকসংগীত বা বাউল গানে দৈনন্দিন জীবনের নানা হাসি-কান্না ও ব্যঙ্গচিত্র ফুটে উঠত। যেমন, লৌকিক মঙ্গলকাব্য শিবায়ন বা অন্নদামঙ্গল কাব্যে শিবের জরাজীর্ণ অবস্থা বা দৈনন্দিন জীবনের সাংসারিক অভাব নিয়ে কৌতুক ও হাস্যরসাত্মক বর্ণনা পাওয়া যায়; বৈষ্ণব পদাবলিতে রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমের সম্পর্কের মধ্যে চটুলতা, অভিমান ও পরিহাসের লঘু সুর অনেক পদে ফুটে ওঠে; লোকসংগীত বিশেষ করে বাউল, মুর্শিদি বা সাধারণ লোকগানেও সমাজের অসঙ্গতি, সাধারণ মানুষের হাসি-ঠাট্টা ও আনন্দ-বেদনা ফুটে উঠতে দেখা যায়। গম্ভীরা, আলকাপ ইত্যাদির মতো লোকসংগীতেও হাস্যরস ব্যাপকভাবে লক্ষণীয়। এমন কি প্রাচীনগ্রন্থ চর্যাপদ, যদিও এগুলো মূলত সাধনসংগীত, তবুও এগুলোর প্রতীকী ভাষা এবং লৌকিক জীবনের বর্ণনায় অনেক সময় কৌতুকের ইঙ্গিত মেলে। তবে কী চর্যাপদাবলি, কী মধ্যযুগের গান- এগুলোর মূল সুর যেহেতু ছিল গুরুসাধনা, দেব-ভক্তি বা আধ্যাত্মিকতা, তাই আধুনিক যুগের মতো সরাসরি কৌতুক বা হাসি প্রয়োগের ব্যাপারটি এখানে ছিল, তা বলা যায় না।
কবিতা, প্রহসন ইত্যাদিতে আগেই ঘটেছে- তবু, বাংলা হাসির গানের ইতিহাস মূলত বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের হাত ধরেই বিকশিত। বিশেষ করে তিনি নাটকে এমন হাসির গান ব্যবহার করেছেন, যা মঞ্চায়নের সময় দর্শকের মধ্যে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় ও আগ্রহোদ্দীপক হয়ে উঠেছিল। ধীরে ধীরে হাসির গান দ্বিজেন্দ্র-সংগীতে বিশেষ মাত্রা নিয়ে আসে। তাঁকে আধুনিক সামাজিক ব্যঙ্গ ও কৌতুকমিশ্রিত গানের জনক, বলা যায়। পরে কাজী নজরুল ইসলামসহ অনেকে হাসির গান- এই ধারাটি জনপ্রিয় করেন। আধুনিক যুগে ব্যঙ্গাত্মক ও রম্যগানের মাধ্যমে এই ধারা সমৃদ্ধতর হয়েছে।
লেটোদলে সংযুক্তি ও গান লেখাকে মনে রেখেও কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিজীবনে ১৯২০ সাল থেকে ১৯৩০-পূর্ব এবং ১৯৩০ থেকে পরবর্তী সময় অবধি দুটো ভাগ করা যায়। ১৯৩০ সালের পর নজরুলের জীবনে যেন গান রচনার জোয়ার সৃষ্টি হয়। এর বড়ো কারণ, রেডিয়ো ও গ্রামোফোন কোম্পানির মাধ্যমে তখন গান অপেক্ষাকৃত দ্রুততার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছিল। আর যন্ত্রের মধ্য দিয়ে মানুষহীন মানুষের কণ্ঠ- ব্যাপারটা বাঙালিকে বেশ আগ্রহোদ্দীপকও করেছিল। নজরুলের গান রচনার দক্ষতাকে এসময় রেডিয়ো ও গ্রামোফোন কোম্পানি কাজে লাগায় এবং তাঁকে দিয়ে অনেক ফরমায়েশি গানও লিখিয়ে নেয়। শুধু গান লিখিয়েই নেয় না, সুর করায়; কণ্ঠও দিতে হয়। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত নজরুল কতগুলো গান লিখেছেন, এর হিসেব আজও মেলেনি। করুণাময় গোস্বামী নজরুলের গানের ওপর উচ্চতর গবেষণা করার সময় আবদুল আজিজ আল আমানের সূত্র ধরে নজরুলের ২,২১১টি গান বিশ্লেষণ করেছেন। কল্পতরু সেনগুপ্ত নজরুলের ৩ হাজার ৯২টি গানের সহায়ক তথ্য দিয়েছেন। কল্যাণী কাজী সম্পূর্ণ গানের সন্ধান পাওয়া না-পাওয়া প্রসঙ্গ দিয়ে ৩ হাজার ১৭২টি গানের কথা আমাদের সামনে এনেছেন। কোনো প্রতিষ্ঠিত বহুমাত্রিক লেখকের এত বিপুল সংখ্যক গান রচনার দৃষ্টান্ত হয়তো পৃথিবীতেই আর নেই। তবে, নজরুলের গানের শ্রেণিবিভাগ-সমস্যা থেকেই গেছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতবিতান’-এ যেমন পূজা, স্বদেশ, প্রেম, প্রকৃতি, বিচিত্র, আনুষ্ঠানিক পর্যায় সুস্পষ্টভাবে বিন্যস্ত। এদের মধ্যে আবার উপ-পর্যায়ও আছে। নজরুলের ঠিক এতটা গোছানো গানের বই, তাঁর জীবদ্দশায় বের হয়নি। তবে, যেগুলো বের হয়েছিল, তার মধ্যে ‘নজরুল-গীতিকা’ উল্লেখযোগ্য। ১৯৩০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এই বইয়ে নজরুল তাঁর গানগুলোর একটি শ্রেণিবিভাগ করেছেন। যদিও মাত্র ১২৭টি গানকে সামনে রেখে নজরুলকৃত এই বিন্যাস, তবু এর মধ্য দিয়ে রচয়িতার মানসিক বিন্যাসও স্পষ্টতর হয়। এখানে বিন্যাসটি তুলে ধরা হলো: ক. জাতীয় সংগীত; খ. ঠুংরী; গ. হাসির গান; ঘ. গজল; ঙ. ধ্রুপদ; চ. কীর্তন; ছ. বাউল-ভাটিয়ালি; জ. টপ্পা; ঝ. খেয়াল। জাতীয় সংগীত শ্রেণিটির মধ্যে উদ্দীপনাধারী গানগুলো রাখা হয়েেেছ। এই বইয়ের পর নজরুল আরও অনেক গান লিখেছেন; বিচিত্র ধারার গান। তবে, ‘হাসির গান’ বলে যে একটি বিশেষ শ্রেণি নজরুল তাঁর ‘নজরুল-গীতিকা’য় উল্লেখ করেছিলেন, সেই হাসির গান রচনা তিনি বন্ধ করেননি; লিখে গেছেন।
১৯১৩ সালে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের মৃত্যু হলে বাঙালির হাসির গান রচনায় যে স্থবিরতা নেমে এসেছিল, নজরুল সেই ধারা আবার বেগবান করেন। তাঁর রচিত কয়েকটি হাসির গান বিশ্লেষণ করে, নজরুল যেগুলো হাসির গান হিসেবে নিজে নির্বাচন কওে ‘নজরুল-গীতিকা’ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন- এর প্রেক্ষাপট ও হাসির মাত্রাটুকু বুঝবার চেষ্টা করা হবে।
নজরুল ইসলাম কীর্তন গান ‘আমি তুরগ ভাবিয়া মোরগে চড়িনু’কে হাসির গান হিসেবে নিজেই নির্বাচন করেছেন। এটি ‘চন্দ্রবিন্দু’ গ্রন্থভুক্ত এবং এর শিরোনাম নজরুল দিয়েছেন ‘হিতে বিপরীত’। চন্দ্রবিন্দুতে ‘কমিক গান’ বলে একটি পর্বই আছে, যে গানগুলো মূলত হাসির কিন্তু এখানে আছে সমকালীন ধর্ম, সমাজ, রাজনীতি ইত্যাদির অসঙ্গতির বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তোলা বা অসঙ্গতি নিয়ে তীব্র বিদ্রূপ। চন্দ্রবিন্দু ১৯৩১-এর সেপ্টেম্বরে বের হলে পরের মাসেই (অক্টোবর) তৎকালীন বঙ্গীয় সরকার নিষিদ্ধ করে। কারণ হিসেবে বলা হয়, বইটিতে তৎকালীন সরকারের নানা দিক নিয়ে বিদ্রূপ ও সমালোচনা ছিল। উল্লিখিত গানে নজরুল বলেছেন, ঠিকঠাক কাজ না করলে হিতে বিপরীত ফল আসবে। যেমন, ঘোড়া ভেবে যদি কেউ মোরগে চড়ে তবে সেই মোরগ তাকে মিঞার ঘরে নিয়ে যাবে। এর ফলে, দেবভক্তি নষ্ট হয়ে ধর্মান্তর হওয়ার বিপদ এসে উপস্থিত হতে পারে। এরপর তিনি গানে ‘আঁখর’ যুক্ত করেছেন। আঁখর হলো, কীর্তন গানে অলংকার হিসেবে প্রযুক্ত অতিরিক্ত কথা। এতে নানা কিছু ব্যাখ্যা ও বিবরণ থাকে। সেখানে নজরুল বলেছেন: সেই মোরগের কারণে মিঞার ঘরে প্রবেশ করার ফলে ‘গোস্ত’ খাইয়ে তার টিকি-কর্তন হতে পারে।
শুধু তাই নয়, তার জবেহ হওয়ার আশঙ্কা আছে এবং তখন গোরস্থানে যেতে হবে আর পরিণতিতে হবে মামদো ভূত। আবার নজরুল বলেছেন, যদি দেবরাজ ইন্দ্র ভেবে কেউ গাধা পূজা করে এবং ভাবে গাধা তাকে সোজা স্বর্গে নিয়ে যাবে, তবে ভুল হবে। সেই গাধা তাকে বরং স্যাঁতসেঁতে ও অপরিচ্ছন্ন ঘাটে এনে ধোপার বোঝার মতো ফেলে দেবে। আবার নজরুল বলেছেন, দেবী দুর্গা ভেবে প্রণাম করতেই দেখা যেতে পারে কোনো নারীমূর্তি জেদি বাগ্দীকন্যা। মনে প্রশান্তি পেতে চাইলে ধীরস্থির হতে হবে। তা না হলে চলে আসতে পারে শীতলা-বাহন অর্থাৎ গাধার পৃষ্ঠে ধোপিণী। শিবের বাহন বলে একটি ষাঁড়ের লেজকে কপালে ঠেকানোর পরে দেখা গেল, সেই প্রণাম ষাঁড় গ্রহণই করল না, উল্টো শিং দিয়ে গুঁতিয়ে ঠেলে ফেলল খালে।
নজরুল উল্লেখ করেছেন: কপাল মন্দ হলে যা হয়! জগন্নাথ দর্শনের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয় না, দেখা হয় ধবল-কুষ্ঠীর বিকলাঙ্গকে। আর বাঁকা অঙ্গ দেখে বৈষ্ণব ভাবে তাকে জড়ায়ে ধরতেই দেখা যায়, সেটি প্রকৃতপক্ষে একটি ত্রিভঙ্গ খুঁটি। নিজের স্ত্রী খুশি হবে ভেবে একটি মোষ কিনে আনার পর দেখা গেল, সেই মোষের ত্রাসে ভীতিকর অবস্থা! তাই বলা হয়েছে: এমন বিপরীত অবস্থা হলে জীবন ধারণ করাই বিপদের। তখন ‘হরি বোল’ বলতে মুখ দিয়ে ‘বল হরি’ বেরিয়ে যায়!
উল্লেখ্য, ‘হরি বোল’ ধ্বনি শুভসূচক আর ‘বল হরি’ ধ্বনি হিন্দুদের শবযাত্রায় ব্যবহার করা হয়। এই সম্পূর্ণ গানই হাস্যরসে ভরপুর। এখানে আছে শব্দের খেলা আর মারপ্যাঁচ। কাছাকাছি উচ্চারণের প্রায় বিপরীত শব্দকে নজরুল এই গানে শব্দধানুকীর মতো ব্যবহার করেছেন। শব্দে স্বচ্ছন্দ্য অধিকার না থাকলে এমন হাসির পরিবেশ সৃষ্টি করা যায় না। যেমন, তুরগ/মোরগ; কালি মা/কলেমা; আস্ত/গোস্ত; কর গো/গোর গো; বাসব/রাসভ; মহিষী/মহিষ; হরি বোল/বল হরি ইত্যাদি প্রায় কাছাকাছি উচ্চারিত শব্দে হাসির গানটি খুবই হৃদয়গ্রাহী হয়েছে।
নজরুলের একটি গান আছে: ‘ডুবু-ডুবু ধর্ম-তরী, ফাটল মাইন সর্দার/ সামাল সামাল পড়ল সাড়া ব-মাল মেয়ে মর্দার।’ এটি ‘নজরুল-গীতিকা’য় আছে। ‘নজরুল রচনাবলি’তে এর খানিকটা পাঠান্তর পাওয়া যায়, এভাবে: ‘ডুবলো ফুটো ধর্ম-তরী, ফাটল মাইন সর্দার।/ উঠল মাতম সামাল সামাল, ব-মাল মেয়ে-মর্দার।’
পাঠান্তর যা-ই হোক, গানটির অর্থ ও চেতনার কিন্তু পরিবর্তন নেই। এই গানের প্রেক্ষাপট কী? ১৯২৯ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ ভারতে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন পাস করা হয়। এটি কেন্দ্রীয় আইনসভার সদস্য রায়সাহেব হরবিলাস সারদার পৃষ্ঠপোষকতায় প্রণীত হয়েছিল বলে আইনটি ‘সারদা আইন’ নামেও পরিচিতি পায়। এই সারদারকেই নজরুল গানে ‘সর্দার’ ব্যবহার করেছেন। এই আইনে মেয়েদের জন্য ন্যূনতম বিয়ের বয়স ১৪ এবং ছেলেদের জন্য ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়। ফলে, অতিবাল্য বিয়ে থেকে মেয়েরা আইনগতভাবে পরিত্রাণ পায়।
আইন পাস হলেও এর বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে। বিশেষ করে, ব্রিটিশ ভারতীয় সরকার রক্ষণশীল হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়ার ভয়ে এটিকে জোরালোভাবে প্রয়োগ করতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। উল্লেখ্য, পরে এই আইনের ওপর ভিত্তি করেই ১৯৪৯ সালে মেয়েদের জন্য বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৫ এবং পরে ১৯৭৮ সালে মেয়েদের জন্য ১৮ এবং ছেলেদের জন্য ২১ বছর করা হয়। কাজী নজরুল ইসলাম সামাজিক কুসংস্কার এবং বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সোচ্চার ছিলেন বলে ‘সারদা আইন’-এর পক্ষে জনমত গঠন করেন এবং যারা এই আইনের বিরোধী ছিলেন তাদের নানাভাবে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করেন। ‘সর্দা-বিল’ বা ‘র্সদা-আইন’ শিরোনামে গানটি, যে গান কবির ‘চন্দ্রবিন্দু’ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত- নজরুল এই পরিপ্রেক্ষিতেই রচনা করেন। এই গানে বলা হয়েছে: যারা ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি করে, তাদের ধর্মতরী ফুটো হয়ে গেছে। সেখানে থাকা নারী-পুরুষ, যারা ধর্মকে ব্যবহার করে- তাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। তারা পালাতে চাইছে। গাছের তলায় মেছো কুমির, শেয়াল; কাকের মুখে সন্দেশ। তারা শংকিত। মেয়ের বিয়ের বয়স চৌদ্দ বছর নির্ধারিত হওয়ায় নিকটাত্মীয়রাও দ্বিধান্বিত।
সমাজে অল্প বয়সী মেয়েকে বিয়ে দিয়ে ও বিয়ে করে, উভয় পক্ষই পুণ্য অর্জন করত বলে বিশ্বাস ছিল। গৌরীদান বা আট বছরের নাতনি বুড়ো শিবের মাগনের কথা নানা কথকতায় ছড়িয়ে আছে। এর বাইরে গিয়ে চৌদ্দ বছরের মুক্তকেশীকে বিয়ে দেওয়া বা বিয়ে করা বেশ বিপদই মনে করে সমাজের লোক। এই বয়সের মেয়ে যেন ‘সিঙ্গি চড়া ধিঙ্গি মেয়ে’ আর এই বয়সের মেয়ে প্রথম সম্ভাষণেই হয়ত থাপড়ে দেবে। এই বয়সের মেয়ে সে তো বধূ নয়, যেন যদুর পিসি! এরা ভাসুর-শ্বশুর কোনো কিছুই মানবে না। নিজের ইচ্ছেতে যা খুশি রান্না করবে এবং তা মুরগির মাংসও হতে পারে! এর চেয়ে বড়ো কথা, এই মেয়েরা পানের জর্দা, শেমিজ, বডিস্ ইত্যাদি সময় মতো না পেলে মারমুখো হয়ে উঠবে এবং এতে চিন্তা ও লজ্জায় গৃহকর্তার মাথায় টাক পড়তে পারে। তাই গৃহকর্তা গৃহত্যাগী হয়ে হরিদ্বারও যেতে পারে এবং তখন দোক্তা বা পান-জর্দা ফেলে সেই গৃহিণী কাঁদবে। অর্থাৎ সংসার শান্তিময় হবে না, চির অশান্তিতে কাটবে। নারীর বিয়ের বয়স ন্যূনপক্ষে ১৪ বছর নির্ধারণ করায় যারা ক্ষেপেছিলেন, তাদের ব্যঙ্গ করে লেখা এই গানে মূলত ‘সারদা আইন’কে সমর্থন করা হয়েছে।
নজরুল ইসলাম লিখেছেন ‘থাকিতে চরণ মরণে কি ভয়,/ নিমেষে যোজন ফরসা’ গানটি। এর নামকরণ করেছেন, ‘শ্রীচরণ ভরসা’। গানটি ‘চন্দ্রবিন্দু’ গ্রন্থভুক্ত। গানটিকে আপাতত ভক্তিমার্গের মনে হলেও এটি ছিল ইংরেজদের সঙ্গে সদ্ভাব রেখে যারা দাবি আদায়ের পথে ছিলেন, তাদের উদ্দেশে ব্যঙ্গ। প্রকৃত ঘটনা হলো: ১৯২৮ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতীয় কংগ্রেস মতিলাল নেহেরুর নেতৃত্বে একটি খসড়া সংবিধান (নেহেরু রিপোর্ট) তৈরি করে, যাতে ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতে ‘ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস’ বা স্বায়ত্তশাসনের দাবি ছিল। কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে এই দাবির উপর ভিত্তি করেই ‘পূর্ণ স্বরাজ’ বা পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। লাহোর অধিবেশনে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৩০ সালের ২৬শে জানুয়ারি সমগ্র ভারতে প্রথম ‘পূর্ণ স্বরাজ’ দিবস পালন করা হয়, যা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নতুন পর্যায় শুরু করে।
কিন্তু কংগ্রেসের একটি অংশ এর বিরোধিতা করে। শুধু তাই নয়, ইংরেজের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে আন্দোলনের পক্ষে মত দেয়। নজরুল মূলত এই সমঝোতাবাদীদের উদ্দেশেই ব্যঙ্গ করে লেখেন ‘থাকিতে চরণ মরণে কি ভয়’ গানটি। এই গানে তিনি বলেন: ইংরেজদের ফর্সা পা থাকতে আন্দোলন করে মৃত্যুর প্রয়োজন কী? ফর্সা পা-ই মরণ থামাতে পারে। সেই পা বন্দনা করা ভালো। ছোটো থেকে ইংরেজদের নামে তোশামোদ আর অন্য কিছুকে ‘কলা’ দেখানোই আমাদের শিক্ষা। ইংরেজ পুলিশের কাছে মার খেয়েও তাদের প্রণিপাত করাই যেন স্বভাবে পরিণত হয়েছে। ইংরেজ তোষণের কারণে আন্দোলনের নামে ব্যাঙের মতো বুক ফুলে ওঠে, রাবারের মতো পদযুগলও হ্রস্বদীর্ঘ হয়। এটি শুধু নির্দিষ্ট কোনো ধর্মের মানুষ করছে না, করছে হিন্দু-মুসলিম উভয় ধর্মের লোকই। নজরুল ব্যঙ্গ করে বলেছেন, ভারতে তখন লক্ষ্যহীন আন্দোলন চলছিল। যেন পেছনে ছুটে চলাকেই অনেকে সম্মুখে গমন বলে মনে করেছে। যারা এদের ভুল ধরিয়ে দিয়েছে, তাদেরই বরং পাগল সম্বোধন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এদের পেছনে ছুটে যমরাজের জিভ বের হয়ে আসবে, মৃত্যুও উঠবে হাঁপিয়ে। নিজেদের সম্পর্কে উচ্চধারণা পোষণকারী এরা নিজেদের ‘দেব-জাতি’ মনে করে এবং গগনপানে ছুটতে গিয়ে ধুতি পর্যন্ত উড়িয়ে ফেলে। এটি শুধু এ প্রজন্মের সমস্যা নয়। পিতা-পিতামহ পরম্পরায় এমন ধারণা এরা পোষণ করে এবং মনে করে এ পথেই ইষ্ট মিলবে। এরা মনে করে: আন্দোলন করে মৃত্যুবরণ করলে চিরতরেই প্রাণ যাবে। এর চেয়ে বরং চরণ ধরে মরণ এড়াও এবং পা ধরেই বেঁচে থাকো। এমন আপোসকামীদের বিরুদ্ধে নজরুল হাস্যরসাত্মক এই গানটি লিখেছেন এবং এতে ব্যঙ্গের তীব্র কশাঘাত আছে।
কাজী নজরুল ইসলামের হাসির গান ‘নাচে মাড়োওয়ার লালা/ নাচে তাকিয়া’ মূলত তৎকালীন সমাজ-ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং ভণ্ডামির ওপর করা একটি ব্যঙ্গাত্মক গান। এই হাস্যরসাত্মক গানে মাড়োয়ারি ব্যবসায়ী বা লালাজিদের আচরণ এবং ধার্মিকতার ভণ্ডামিকে উপহাস করা হয়েছে। বাঙালিদের মধ্যে যেমন সরকার, চক্রবর্তী, দত্ত পদবি, মাড়োয়ারিদের অন্যতম পদবি হলো লালা। এমন একজন অবাঙালি ব্যবসায়ীর লোভ ও লাভকে গান ও নাচের ছলে অদ্ভুতুড়ে ও অবাস্তব পরিস্থিতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নজরুল এখানে সস্তা ধর্মীয় লোক দেখানো আচার-আচরণ হাসির ছলে আক্রমণ করেছেন। ‘মাড়োওয়ার লালা’ বা ব্যবসায়ী শ্রেণিকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে তাদের লোভ ও ভণ্ডামিকে হাস্যরসাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। গানটিতে অদ্ভুত সব দৃশ্যকল্প, লঘু শব্দ ও রসে হাসির পরিস্থিতির মাধ্যমে শ্রোতাকে আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক অসঙ্গতি তুলে ধরায় নজরুলের তুলনা নেই। গানটি আয়তনে ছোটো কিন্তু হাসির ঝরনাধারায় গতিপ্রাপ্ত। নজরুল সেই গানে বলেছেন: ‘মাড়োওয়ার লালা’ নাচছে, তার গদিতে থাকা কোল বালিশটাও নাচছে, ভোঁদড় ঝোপে থেকে নাচছে। পায়জামা পরে গণ্ডার নাচে, পাণ্ডার সাড়ে পাঁচ মণ ওজনের ভুঁড়ি নাচে, গঙ্গার ঢেউও নাচে। গামা, ধামা, ভল্লুক এমন কি ঝগরেটে নারীরাও নাচছে। আবার কোলা ব্যাঙ বৃষ্টিতে আমোদিত হয়ে নাচছে, গুজরাতি হাতিও কাদা মেখে নাচছে। মূলত একটি ফ্যান্টাসির জগৎ তৈরি করেছেন নজরুল এই গানের মধ্য দিয়ে; খানিকটা বড়োদের উপকথা।
কাজী নজরুল ইসলামের ‘যদি শালের বন হত শালার বোন’ গানটি একটি কৌতুক বা হাসির গান যেখানে তিনি ছন্দের খেলা ও শব্দের নান্দনিক ব্যবহারিক বৈপরীত্যের মাধ্যমে হাস্যরস সৃষ্টি করেছেন। যেমন, ‘শালের বন’ আর ‘শালার বোন’; ‘কনে’ (বিয়ের পাত্রী) আর গৃহ ‘কোণ’; ‘কুন্দ-বালা’ আর ‘দাড়ীওয়ালা’; ‘বাবলা-কাঁটা’ আর ‘খ্যাংরা ঝাঁটা’; ‘শালী’ আর ‘মা কালী’ ইত্যাদি। এই গানে কোনো গভীর রাজনৈতিক বা সামাজিক বার্তা নয় বরং হালকা কল্পনার আশ্রয় নিয়ে প্রিয়তমার সান্নিধ্য পাওয়ার আকুলতা ও খেয়ালি মন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গানটির মূল লক্ষ্য পাঠক বা শ্রোতাকে আনন্দ দেওয়া। লঘুরসে এই গানে স্ত্রী ও শ্যালিকা, বিশেষ করে শ্যালিকাকে নিয়ে নজরুল আনন্দময় উপস্থাপনা করেছেন। তিনি ‘শালী’কে বলেছেন, সে আসলে ‘শালী’ নয় ‘বিশালী’।
কেন? কারণ, তার বিশাল দেহ। এমন দেহধারিণীকে ‘শালী’ বলা মানায় না! এটি কীর্তন-আঙ্গিকে লেখা। গানে নজরুল বলেছেন: শালের বন যদি শালার বোন অর্থাৎ শ্যালিকা হতো, যদি গৃহকোণ হতো কনে বৌ, তাহলে তিনি ঐ বনে হারিয়ে যেতেন। দাড়ি-গোঁফ কম ওঠা (মাকুন্দ) কোনো পুরুষ যদি কুন্দ-বালা হতো, দাড়িওয়ালা যদি দাড়িম্ব-সুন্দরী হতো তাহলে তিনি দুর্গানাম নিয়ে তার গলায় ঝুলে পড়তেন। বাবলা-কাঁটা শালির চিমটি বা শর-বন খ্যাংরা ঝাঁটা হতো তাহলেও সমাদর করতেন কবি। কিন্তু কবির পোড়া কপাল! তাঁর একজনই শ্যালিকা, তা-ও আবার বিশাল তাঁর দেহ। নজরুল তাই বলেছেন: তিনি একে ‘শালী’ না বলে ‘বিশালী’ বলবেন। এমন হাস্য-কৌতুকের মধ্যেই গানটি সমাপ্ত।
১৯২৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর চিত্তরঞ্জন দাশ বাংলার হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক ঐক্যের জন্য এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এটি ‘বেঙ্গল প্যাক্ট’ নামে পরিচিত। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে মুসলিমদের ন্যায্য অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা। এই চুক্তিতে আইনসভাসমূহে (Legislative Council) জনসংখ্যার ভিত্তিতে হিন্দু ও মুসলিমদের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব ছিল। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা পৌরসভায় ৬০ শতাংশ আসন মূলত মুসলিম এবং ৪০ শতাংশ আসন হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য রাখার কথা বলা হয়। চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল, সরকারি চাকরিতে মুসলিমদের জন্য ৫৫ শতাংশ পদ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। যতক্ষণ না পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে মুসলমানরা ৫৫ শতাংশ কোটা পাচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত ৮০ শতাংশ নতুন নিয়োগে মুসলিমদের নেওয়ার বিধান ছিল। ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে মসজিদের সামনে বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। গরু জবাই সংক্রান্ত আইন সভার বাইরে উভয়ের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে হিন্দু আবেগ রক্ষার প্রচেষ্টা ছিল। চিত্তরঞ্জন দাশ বিশ্বাস করতেন ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে মুসলিমদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া সাফল্য সম্ভব নয়। তাই তিনি এই চুক্তি করেছিলেন। কিন্তু ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে এই চুক্তি প্রত্যাখ্যাত হয় এবং ১৯২৫ সালে চিত্তরঞ্জন দাশের মৃত্যুর পর প্যাক্টটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নজরুল ‘প্যাক্ট’ নামে গান লেখেন। এটি মূলত একটি স্যাটায়ার গান।
নজরুল ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের অনুরাগী। দেশবন্ধুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই ‘প্যাক্ট’ অকার্যকর হয়ে পড়লে তিনি ব্যথিত হন। এই গানে কংগ্রেসিদের অসহযোগিতার কথাও ফুটে উঠেছে। নজরুল এই গানে বদনা প্রতীকে মুসলিম আর গাড়ু প্রতীকে হিন্দুদের বুঝিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বেঙ্গল-প্যাক্টের কারণে মুসলিমদের হাতে ছুরি আর হিন্দুদের হাতে বাঁশ নেই অর্থাৎ পরস্পর বিরোধ ও বিদ্বেষ থেমে গেছে। অনেকে এই প্যাক্টের সমালোচনা করে বলেছিলেন যে, এটি দুর্বল বাঁধন। নজরুল এই গানেই বলেছেন, দুর্বল বাঁধন শক্ত হবে, যখন দুপক্ষই নিজের দিকে বাঁধন টানবে। নজরুল এই প্যাক্টের সমালোচনাকারীদের বলেছেন, এই প্যাক্টের কারণেই মুসলিমরা হিন্দুদের ‘দাদা’ আর হিন্দুরা মুসলিমদের ‘মিঞাভাই’ বলে সম্বোধন করছে। এরপর হিন্দু আর মুসলিমের কিছু চাহিদাকে হাস্যরসের সঙ্গে তুলে ধরেছেন নজরুল। যেমন, মুসলিমদের উদ্দেশে হিন্দুরা বলছে: সম্প্রীতির জন্য অনেক কিছুই তো ছাড়লে, এবার ‘ছেড়ে দাও খাওয়া বড়টা’। মুসলিমরা এবার বলছে, মুরগি খাওয়াও ছাড়লাম; তাহলে এটাও ছাড়তে হবে? তারা বলেছে, ‘কি দিয়া খাইব পরটা!’ কিন্তু হিন্দু-মুসলিমের চিরায়ত বিরোধ মেটাতে কার্যকর কেউ কিছু করেননি। তাই আবার বদনা আর গাড়ুতে ঠোকাঠুকি লাগে। নজরুল লিখেছেন: ‘আকাশে উঠিল চির-জিজ্ঞাসা,-/ করুণ চন্দ্রবিন্দু!’
প্রকৃতপক্ষে, হাসির গানে কাজী নজরুল ইসলাম নিছক কৌতুক করেননি। বাস্তবতার নিরিখে স্যাটায়ারসহ নানা মাত্রার হাসির সংযোজন করে তিনি গান লিখেছেন। নজরুলের হাসির গানে প্রায়ই একটি প্রেক্ষাপট আছে, যেগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অসীম।
ঢাকা/তারা//
চ্যালেঞ্জিং হলেও এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে: সড়কমন্ত্রী