এক ভিডিওতে ইসরায়েলের ভালো সাজার কোটি ডলারের প্রকল্পে ধাক্কা
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের পোস্ট করা একটি ভিডিও তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে এবং ইসরায়েলের ‘হাসবারা’ নামে পরিচিত কোটি কোটি ডলারের জনসংযোগ প্রচারণায় বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। ভিডিওটিতে তাকে গাজার অবরোধ ভাঙতে চাওয়া অপহৃত নৌবহরের কর্মীদের উপহাস করতে দেখা যায়।
এক্স-এপোস্ট করা ফুটেজে দেখা গেছে, আশদোদ বন্দরে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার কর্মীদের চোখ বাঁধা ও হাত বাঁধা অবস্থায় মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখার সময় বেন-গভির উল্লাস করছেন।
ইসরায়েলি নৌবাহিনী সাইপ্রাস উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ফ্লোটিলার জাহাজগুলোকে আটক করে এবং অবৈধভাবে ৪৩০ জন অংশগ্রহণকারীকে অপহরণ করে। তাদের মধ্যে অন্তত ৮৭ জন ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ৯ হাজার ৫০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দীর প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশন ধর্মঘট শুরু করেছেন।
কর্মীদের মেঝেতে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার এই দৃশ্য ইতালি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, কানাডা এবং স্পেনসহ বেশ কয়েকটি দেশকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতদের তলব করতে এবং এই ‘অগ্রহণযোগ্য’ আচরণ ও মানবিক মর্যাদার লঙ্ঘনের নিন্দা জানাতে প্ররোচিত করেছে।
কয়েক দশক ধরে, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে তার নীতি ও সামরিক পদক্ষেপকে ন্যায্যতা দিতে ‘হাসবারা’ (হিব্রু শব্দ যার অর্থ ‘ব্যাখ্যা’) একটি প্রচারণামূলক অভিযানের উপর নির্ভর করে আসছে।
আল-শাবাকা: দ্য প্যালেস্টাইনিয়ান পলিসি নেটওয়ার্ক-এর প্যালেস্টাইন পলিসি ফেলো ফাথি নিমের আল জাজিরাকে জানান, হাসবারা মূলত রাষ্ট্রীয় প্রচারণা, যা বৈশ্বিক দর্শকদের জন্য নির্দিষ্ট আখ্যান তৈরি করে ‘দখলদারির ভাবমূর্তি সুন্দর করার’ উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত।
নিমের বলেন, “হাসবারার মূল ধারণা হলো, ইসরায়েল সবসময়ই সঠিক, কিন্তু বিশ্ব তা বোঝে না।”
তিনি জানান, গাজায় যুদ্ধের পর ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতার কারণে, রাষ্ট্রের হাসবারা বাজেট ২০২৩ সালের প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে নজিরবিহীনভাবে ৭০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবুও, বেন-গভিরের দুঃসাহসিক ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যে এই বিপুল অর্থায়নে নির্মিত আখ্যানটিকে ভেঙে দিয়েছে।
নিমের ব্যাখ্যা করেন, “ইসরায়েলি নেতৃত্ব এটিকে একটি জনসংযোগ সংকট হিসেবে দেখছে, নৈতিক সংকট হিসেবে নয়।”
নেতানিয়াহুর কাছে, আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন বা অপমান করাটা পাপ ছিল না; পাপ ছিল তা সারা বিশ্বে প্রচার করা। তবে, বেন-গভির ইসরায়েলের বাহ্যিক ভাবমূর্তি নিয়ে চিন্তিত নন; তিনি তার দেশের ডানপন্থী সমর্থকদের জন্য এই নির্যাতনগুলো চালান, এই আত্মবিশ্বাসে যে ইসরায়েলকে কোনো বাস্তব পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে না।
ইসরায়েল বিষয়ক শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞ মতানেস শেহাদেহ এই মূল্যায়নের প্রতিধ্বনি করেছেন। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, “ইসরায়েলের জন্য মূল সমস্যা হলো, এই ভিডিওটি তার আসল বাস্তবতা পুরো বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছে। এটি বিশ্বকে জীবন্ত, অকাট্য প্রমাণ দিয়েছে যে, কাঠামোগত সহিংসতা এবং মানবাধিকারের প্রতি অবজ্ঞা বর্তমান ইসরায়েলি প্রশাসনের ভিত্তি।”
ঢাকা/শাহেদ