দৃষ্টিশক্তি তীক্ষ্ণ রাখতে সহায়তা দেয় যেসব খাবার
দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ছবি: সংগৃহীত
পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললে দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখা অনেকাংশে সম্ভব। অনেক ধরনের খাবার রয়েছে যা দৃষ্টিশক্তি তীক্ষ্ণ রাখতে সাহায্য করে এবং কিছু চোখের রোগ প্রতিরোধে সহায়তা দেয়। আবার আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদি শুষ্ক চোখের সমস্যায় বা ক্রনিক ড্রাই আই-এ ভুগে থাকেন, তাহলে নির্দিষ্ট ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাবার আপনার উপসর্গও কমাতে পারে। এই লেখায় এমন পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকা দেওয়া হয়েছে, যেগুলো চোখের জন্য উপকারী।
চোখের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ সবজি
বিভিন্ন ধরনের সবজিতে এমন পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা চোখের উপকার করে। উদাহরণস্বরূপ, লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চোখকে ক্ষতিকর আলো থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। শাকসবজি, ব্রকলি ও ব্রাসেলস স্প্রাউটস এসব উপাদানের ভালো উৎস।
যেসব সবজিতে বিটা ক্যারোটিন রয়েছে, সেগুলোও চোখের জন্য উপকারী। বিটা ক্যারোটিন শরীরে গিয়ে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয় এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। গাজর ও মিষ্টি আলু এর ভালো উদাহরণ।
চোখের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনগুলো কী?
- ভিটামিন এ
- ভিটামিন ই
- ভিটামিন সি ও বি-কমপ্লেক্স
- রিবোফ্লাভিন
- নিয়াসিন
- ক্যারোটিনয়েডস
- ওমেগা-৩
- থায়ামিন
চোখকে সুরক্ষা দেয় ও ক্ষতি কমায় এমন ফল
অনেক ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন থাকে, যা চোখের ক্ষতি কমাতে এবং সুরক্ষা দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ব্লুবেরিতে অ্যান্থোসায়ানিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা চোখকে সুরক্ষা দিতে পারে এবং দৃষ্টিশক্তিও উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে।
কমলা, জাম্বুরা ও লেবুর মতো সাইট্রাস ফলে রয়েছে ভিটামিন সি, যা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদান চোখ সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
কলা কি শুষ্ক চোখের জন্য ভালো?
কলায় থাকা পটাশিয়াম চোখের স্বাস্থ্যের জন্য, বিশেষ করে শুষ্ক চোখের সমস্যায়, উপকারী। কলা ভিটামিন এ-এরও ভালো উৎস, যা চোখের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মাছ ও মাংস
প্রদাহ কমায় ও ম্যাকুলার ডিজেনারেশন প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ মাছ চোখের ‘ডিজেনারেশন’ প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে। এটি এমন একটি চোখের রোগ যা দৃষ্টিশক্তি হারানোর কারণ হতে পারে।
মাংসের মধ্যে কলিজায় রয়েছে ভিটামিন এ। আর চর্বিহীন গরুর মাংস ও টার্কিতে রয়েছে জিঙ্ক, যা চোখকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
কোন ভিটামিনের ঘাটতিতে শুষ্ক চোখ হয়?
ভিটামিন এ-এর ঘাটতি শুষ্ক চোখের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন এ না থাকলে চোখ পর্যাপ্ত আর্দ্রতা তৈরি করতে পারে না, ফলে চোখ শুষ্ক হয়ে যায়।
চোখের জন্য উপকারী দুগ্ধজাত খাবার
অনেক দুগ্ধজাত খাবারে এমন ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে যা চোখের জন্য ভালো। দুধ ও দইয়ে রয়েছে ভিটামিন এ এবং জিঙ্ক। ডিমে রয়েছে লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন, যা শাকসবজিতেও পাওয়া যায়। কিছু চিজ, যেমন রিকোটা চিজে, ভিটামিন এ রয়েছে।
চোখের জন্য উপকারী অন্যান্য খাবার
রাজমা ও লিমা বিনের মতো ডালজাতীয় খাবারে জিঙ্ক রয়েছে, আর তিসির বীজে (ফ্ল্যাক্সসিড) রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এছাড়া গমের ভুসি (হুইট জার্ম) ভিটামিন ই-এর ভালো উৎস, যা সময়ের সঙ্গে চোখের ক্ষতি প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।
স্বাস্থ্যকর নাস্তা
দিনজুড়ে এমন কিছু নাস্তা খাওয়া যায় যা চোখের জন্য উপকারী। অনেক বাদামে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। আখরোটে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, আর কাঠবাদাম ও সূর্যমুখীর বীজে রয়েছে ভিটামিন ই।
পানীয়
গ্রিন টিতে ক্যাটেচিন নামের উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
শুষ্ক চোখের জন্য কোন সাপ্লিমেন্ট ভালো?
যদিও খাবার থেকেই ভিটামিন গ্রহণ করা সবচেয়ে ভালো, তবুও শুষ্ক চোখের জন্য উপকারী হতে পারে—
- ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড
- ভিটামিন ডি
- ভিটামিন এ
- ভিটামিন সি
তবে খাদ্যতালিকায় কোনো সাপ্লিমেন্ট যোগ করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, যাতে তা আপনার চলমান ওষুধের সঙ্গে কোনো সমস্যা সৃষ্টি না করে। এসব খাবার শুধু চোখকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে না, বরং শুষ্ক চোখের উপসর্গও কমাতে সাহায্য করতে পারে।
চোখের শুষ্কতা যদি আপনার দৈনন্দিন জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে উপযুক্ত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
সূত্র: হেলথলাইন
ঢাকা/লিপি
হাম ও এর উপসর্গে আরো ৭ জনের মৃত্যু