অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে গোবিপ্রবির লেকপাড়ের সৌন্দর্য
গোবিপ্রবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) উপাচার্যের বাসভবন ও কফি হাউজের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র লেক এখন অযত্ন ও অবহেলার প্রতিচ্ছবিতে পরিণত হয়েছে। একসময় ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যবর্ধনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত এই লেকটি বর্তমানে কচুরিপানা, জলজ আগাছা ও ময়লা-আবর্জনায় ভরে গিয়ে হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য।
একসময় স্বচ্ছ পানিতে ঝলমল করা এই লেকের চারপাশে বসে শিক্ষার্থীরা অবসর সময় কাটাতেন। কিন্তু এখন কচুরিপানার দখলে প্রায় পানিই দেখা যায় না। নান্দনিক এই স্থানটি যেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দীর্ঘদিনের অবহেলার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শিক্ষা শুধু ক্লাস, পরীক্ষা ও পাঠচর্চার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মানসিক প্রশান্তি ও সুস্থ জীবনযাপনের জন্য ক্যাম্পাসের পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিযোগিতামূলক জীবনে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বস্তি ও বিনোদনের জন্য এমন উন্মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। অথচ ক্যাম্পাসের অন্যতম প্রশান্তির এই জায়গাটি দিন দিন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিণত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পুরো লেকজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে কচুরিপানা ও আগাছা। বিভিন্ন স্থানে জমে আছে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের ময়লা পানির কারণে মশা, পোকামাকড় ও বিষাক্ত সাপের উপদ্রব বাড়ছে। হুমকির মুখে পড়ছে লেকের মাছসহ নানা জলজ জীববৈচিত্র্যও।
কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী শামীমা বলেন, “সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে একটু মুক্তভাবে শ্বাস নেওয়ার জায়গা এই লেকপাড়। এটি আমাদের ক্যাম্পাসের অন্যতম সুন্দর স্থান হলেও বর্তমানে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। স্বচ্ছ পানি তো দূরের কথা, কচুরিপানার কারণে পানিই দেখা যায় না। প্রশাসনের উচিত দ্রুত লেকটি পরিষ্কার করে এর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা।”
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাবরুল শেখ বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সুন্দর স্থান হলো লেকপাড়। সকাল-বিকেল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে এটি পছন্দের জায়গা। এখানে বসে আমরা মানসিক প্রশান্তি খুঁজি। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলায় লেকপাড়ের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। লেকে পর্যাপ্ত পানি নেই, পরিবেশও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নয়। পুরো লেকজুড়ে কচুরিপানা ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত লেকপাড়ের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে সহকারী রেজিস্ট্রার নিজামুল হক চৌধুরী বলেন, “কিছুদিন আগে লেকপাড়ের চারপাশের ময়লা পরিষ্কার করা হয়েছে। তবে লেকের ভেতরের অংশ এখনো পরিষ্কার করা হয়নি। কারণ সেখানে বেশ কিছু পদ্মফুল রয়েছে, যা সামনে ফুটবে। এছাড়া লেকের পানিও বর্তমানে অনেক বেশি অপরিষ্কার ও নোংরা। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিরা পানিতে নেমে পরিষ্কার করতে চায়না।”
তিনি আরো জানান, লেকটি পরিষ্কারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে বাজেট চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই বাজেট পাওয়া গেলে বাইরে থেকে শ্রমিক এনে দ্রুত লেকটি পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে পদ্মফুল গুলো রেখে বাকি অতিরিক্ত ময়লা পরিষ্কার করার চেষ্টা করা হবে।
ঢাকা/মুছাদ্দিক/জান্নাত
হাম ও এর উপসর্গে আরো ৭ জনের মৃত্যু