ঢাকা     শুক্রবার   ২২ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৮ ১৪৩৩ || ৫ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

রামিসা হত্যা: শাস্তি চায় অভিযুক্ত সোহেলের পরিবারও

নাটোর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৫২, ২১ মে ২০২৬   আপডেট: ২২:৫৫, ২১ মে ২০২৬
রামিসা হত্যা: শাস্তি চায় অভিযুক্ত সোহেলের পরিবারও

সোহেল রানার বাবা জেকের আলী ও মা খদেজা বেগম

ঢাকার পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার হত্যা মামলার আসামি সোহেল রানার কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার বাবা-মা ও স্বজনরাও। তারা বলছেন, “যে অপরাধ সে করেছে, তার ক্ষমা নেই। আইন যে শাস্তি দেবে, আমরা তা মেনে নেব।”

সোহেল রানার বাড়ি নাটোরের মহেষচন্দ্রপুর গ্রাম। বৃহস্পতিবার (২১ মে) কথা হয় তার পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে। সেখানে দেখা যায়, পুরো এলাকায় নেমে এসেছে বিস্ময় ও নীরবতা। গ্রামের মানুষও মেনে নিতে পারছেন না এমন নির্মম ঘটনার খবর।

আরো পড়ুন:

স্থানীয়রা জানান, ছোটবেলায় সোহেল রানা শুধু ‘রানা’ নামে পরিচিত ছিল। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর আর স্কুলে যাওয়া হয়নি। পরে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে এলাকায় পরিচিতি পান। সময়ের সঙ্গে নিজের নামের আগে ‘এস এম’ যোগ করেন। ঢাকায় গিয়ে পরিচিত হন ‘সোহেল রানা’ নামে।

প্রতিবেশী আব্দুল আওয়াল বলেন, “ছোটবেলা থেকেই ও একটু উচ্ছৃঙ্খল স্বভাবের ছিল। তরুণ বয়সে স্থানীয় একটি সেতুর নির্মাণসামগ্রী চুরির মামলায় জেলও খেটেছে। পরে ঢাকায় চলে যাওয়ার পর গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যায়।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন সোহেল রানা। চার বছর আগে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় পাড়ি জমান। এর পর থেকে পরিবারের সঙ্গেও তার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

মহেষচন্দ্রপুর বাজারে গেলে কথা হয় রানার চাচা রেজাউল করিমের সঙ্গে। তিনি জানান, ঢাকায় যাওয়ার আগে বাজারে সাইকেল মেরামতের দোকান ছিল রানার।

রেজাউল করিম বলেন, “রানা আগে সাইকেল মেকার ছিল। প্রথম সংসার টেকেনি। পরে আবার বিয়ে করে ঢাকায় চলে যায়। শুনছি, সেখানে গিয়ে ভয়ঙ্কর অপরাধ করেছে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

সোহেল রানার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনের বেড়া ও টিনের ছাউনি দেওয়া ছোট ঘরজুড়ে নেমে এসেছে লজ্জার ছাপ। বাইরে থেকে ডাক দিলে বেরিয়ে আসেন তার মা খদেজা বেগম। 

ছেলের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “সব মা-বাবাই সন্তানের ভালো চায়। কিন্তু, রানা যা করেছে, এর পর আর তাকে ভালোবাসা যায় না। সে একটা নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করেছে। আমরা তার বিচার চাই। কঠিন শাস্তি চাই।”

বাবা জেকের আলী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমার ছেলে এমন কাজ করতে পারে, এটা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু, অপরাধ তো সে করেছে। আইন-আদালত যে বিচার করবে, আমরা সেটাই মেনে নেব।”

ওই এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, “ছোট শিশুকে হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা চাই, দ্রুত বিচার হোক এবং এমন শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।”

রামিসা হত্যার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ এই ঘটনার দ্রুত বিচার ও দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

ঢাকা/আরিফুল/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়