ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৬ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২২ ১৪২৭ ||  ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

টাঙ্গাইলে তলিয়ে যাওয়া এলাকা বাড়ছে, দুর্ভোগে লাখো মানুষ

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:২৮, ৩ জুলাই ২০২০  

টাঙ্গাইল সংলগ্ন নদীগুলোতে পানি বেড়ে যাওয়ায় তলিয়ে যাচ্ছে নিচু এলাকার রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি। প্রতিদিনই তলিয়ে যাওয়া এলাকা বাড়ছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এসব এলাকার পানিবন্দি লাখো মানুষ। 

অপরদিকে তলিয়ে গেছে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি ফসলি জমি। এতে কৃষকরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন।

গত এক সপ্তাহ ধরেই যমুনা, ধলেশ্বরী ও ঝিনাই নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।  জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র মতে, শুক্রবারও (৩ জুলাই) পানির প্রবাহ ছিল যমুনা নদীতে আগের চেয়ে ৪ সে.মি. বেড়ে বিপৎসীমার ৪৫ সে.মি. উপরে। পাশাপাশি ধলেশ্বরীর পানির প্রবাহ ছিল বিপৎসীমার ৮৮ সে.মি উপরে এবং ঝিনাই নদীর পানির প্রবাহ ছিল বিপৎসীমার ৪৯ সে.মি উপরে। 

সূত্র মতে, জেলার ১২ টি উপজেলার মধ্যে ৬টি উপজেলার প্রায় ১৪৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভাঙ্গন হুমকিতে আছে জেলার নাগরপুর ও কালিহাতী উপজেলা। এছাড়াও টাঙ্গাইল সদর, ভূঞাপুর, গোপালপুর ও দেলদুয়ার উপজেলায় কিছু এলাকায় পানি প্রবেশ করে স্থানীয়দের ভোগান্তিতে ফেলেছে। এই সকল উপজেলার প্রায় ২১ টি ইউনিয়নে কমপক্ষে ১০১টি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। ফলে এই সকল এলাকার ১ লাখ ২৪ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিতে তলিয়ে গেছে দেড় হাজারেরও বেশি কাঁচা ঘরবাড়ি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র মতে, ইতোমধ্যেই জেলার টাঙ্গাইল সদর, বাসাইল, কালিহাতী, ভূঞাপুর, মির্জাপুর, নাগরপুর. দেলদুয়ার এই ৭টি উপজেলার প্রায় ৩ হাজার ৬৪৩ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (খামারবাড়ি) এর উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. শরীফুল ইসলাম জানান, গত ক'দিনে জেলার চারদিকে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ৭টি উপজেলার ৯৯২ হেক্টর বোনা আমন, ৯ হেক্টর রোপা আমন বীজতলা, ৪৬৭ হেক্টর পাট, ৭৯৬ হেক্টর আউশ, ১২২২ হেক্টর তিল ও ২১৭ হেক্টর সবজি ক্ষেত নিমজ্জিত হয়েছে। যদি এক-থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে পানি নেমে যায়, তবে এই সকল ফসলের প্রায় ৭০-৮০ ভাগ রিকোভারি করা সম্ভব হবে।

এদিকে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘টাঙ্গাইলের বন্যা পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। গত কয়েকদিনে ক্রমাগত পানি বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী সপ্তাহ নাগাদ এই পানিবৃদ্ধি অধিকহারে বাড়তে পারে। জেলার ১২টি উপজেলার পানি বৃদ্ধি পাওয়া ৬টি উপজেলার মধ্যে নাগরপুর ও কালিহাতী উপজেলার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। বিশেষ করে নাগরপুরে সীমানাধীন সিরাজগঞ্জের চৌহালী অংশ প্রায় বিলীনের পথে। পাশাপাশি নাগরপুরের এলাকাও ব্যাপক ভাঙনের মুখে। সাময়িক রক্ষণাবেক্ষণ দিয়ে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া ভূঞাপুর এলাকার বলারামপুরসহ বিভিন্ন অংশে ভাঙন ঠেকাতে কাজ চলছে।

এদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে বন্যা কবলিত এলাকাগুলোর বাসিন্দারা। টিওবয়েল ও চাপকলগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।

 

টাঙ্গাইল/সিফাত/টিপু

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়