ঢাকা     শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

এক বিঘা জমির দ্বন্দ্বে গ্রাম তছনছ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৬:৪৩, ২২ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
এক বিঘা জমির দ্বন্দ্বে গ্রাম তছনছ

মাত্র এক বিঘা জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব। তাই নিয়ে হামলা-মামলা। এতে পুরুষশুন্য হয়ে গেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা আড়িয়া ইউনিয়নের ছাতারপাড়া গ্রাম।

সেই ফাঁকে প্রতিপক্ষের লোকজন বাড়ি-ঘর লুট করছে। ক্ষেতের ফসল নষ্ট করছে। বসতবাড়ির চাল খুলে নিয়ে যাচ্ছে। টিউবওয়েল খুলে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে। এমনকী নারীদের ওপরও নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এক বিঘা জমি নিয়ে গাইন ও পিয়াদা গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে ছাতারপাড়া গ্রামের চিত্র বদলে গেছে। কৃষিপ্রধান হওয়ার পরও বাড়িঘর ছাড়া থাকতে হচ্ছে বিধায় আমন মৌসুমের ধান চাষ করতে পারছেন না গ্রামের কৃষকরা।

ছাতারপাড়া বেগুনবাড়ীয়া এলাকায় গত ১১জুন দুপুরে দু’পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলায় আহত হন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক গাইন গ্রুপের নওয়ার আলী ও পিয়াদা গ্রুপের কৃষক তায়েজ আলী। এ ঘটনায় নওয়াব আলী বাদি হয়ে প্রতিপক্ষের ১৫ জনের নামোল্লেখসহ মামলা করেন দৌলতপুর থানায়। এতে প্রতিপক্ষের সকল পুরুষ গ্রেপ্তারের ভয়ে বাড়িছাড়া হওয়ায় পুরুষশুন্য পরিবারগুলির মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

গত ২১ জুন পুলিশ মামলাটির তদন্তে গিয়ে এজাহারভুক্ত আসামিদের বাড়ি তল্লাশি করে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র উদ্ধার করে। জব্দ তালিকা প্রস্তুতসহ অবৈধ অস্ত্র আইনে একই মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলাও করে পুলিশ।

এতে গ্রেপ্তার আতঙ্ক আরও একধাপ বেড়ে যায়। পুরুষশুন্য পরিবারগুলি চরম শঙ্কার মধ‌্যে পড়ে।

ওই গ্রামের আজির উদ্দিন বলেন, ‘মাত্র এক বিঘা জমি নিয়ে গাইন গ্রুপ ও পিয়াদা গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিলো। সম্প্রতি এ বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এরই জের ধরে গাইন গ্রুপের নেতা নোয়াব আলীর নেতৃত্বে আব্দুল হামিদ, নজরুল ইসলাম নজু, আসমত গাইন, আব্দুল সালাম, মোতালেব, সাইফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রে শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রতিপক্ষ পিয়াদা গ্রুপের লোকজনের বাড়িতে হামলা চালায়।

হামলার সময় বাড়ির ঘরের দরজা, জানালা, খাট ও টিউবয়েলের মাথা পর্যন্ত খুলে নিয়ে গাইন গ্রুপের লোকজন। মাঠের পাট, কচু, মরিচ, ধইঞ্চা প্রভৃতি ফসল কেটে নিয়ে যাচ্ছে তারা। এছাড়া রাতের আঁধারে প্রতিপক্ষের বাড়িতে ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে ভয়ভীতিসহ নানাভাবে নির্যাতন করছে।

ছাতারপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদ বলেন, ‘নোয়াব আলীর নেতৃত্বে এ গ্রামের ১৩০টি পরিবার কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা বাড়ির বৈদ্যুতিক মিটার ভাংচুর ও ফসলের ক্ষতি করছে। মামলা ও হামলার ভয়ে বাড়ি যেতে পারছি না। মাঠে খাটা লোক আমরা, কাজ না করতে পারলে সংসার চালাব কী করে? মাঠে দুই বিঘা পাট ছিলো আমার। এর মধ্যে এক বিঘা জমির পাট কেটে নিয়ে গেছে তারা।’

মনো রদ্দিন বলেন, ‘আমার বাড়িতে প্রায় প্রতিদিন রাতেই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। আমার ঘরের দরজা, জানালা ও খাট জোর করে নিয়ে গেছে। ধইঞ্চা ও পাট কেটে নিয়ে গেছে। চার বিঘা জমির পাট কাটতে পারিনি। ওরা কেটে নিয়ে গেছে।’

শওকত পেয়াদা জানান, তার ১৫ কাঁঠা জমিতে কাঁচা মরিচ ছিলো। পুরো ক্ষেত কেটে তছনচ করে দিয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাতে নতুন করে আবার হামলার ঘটনা ঘটেছে ঐ গ্রামে। সর্বশেষ সবুজ, রনি, গনি, জিয়ারুল ও মনো রদ্দিনের বাড়িতে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

গ্রামবাসী সুমন আলী বলেন, ‘আমরা দৌলতপুর থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি। তবে সে অভিযোগ পুলিশ আমলে নেয়নি।’

আড়িয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক গাইন গ্রুপের নোয়াব আলী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে। তা সব মিথ্যা। তৃতীয় পক্ষের লোকজন এসব লুটপাট করছে।’

আড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ আনসারী বিপ্লব জানান, এলাকার শান্তি ফেরাতে জোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য পুলিশ সদস্যরা তৎপর রয়েছে।

পিপুলবাড়ীয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাবর আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিনই হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেই চলেছে। আমরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করেছি।’

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, পুলিশ ঐ এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

 

কাঞ্চন কুমার/সনি

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়