ঢাকা     শনিবার   ২২ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ৮ ১৪২৮ ||  ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

গরু চুরির অভিযোগে মা-মেয়েকে এক রশিতে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

সুজাউদ্দিন রুবেল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৫৩, ২৩ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
গরু চুরির অভিযোগে মা-মেয়েকে এক রশিতে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের একটি গ্রামে গরু চুরির অভিযোগে মা, দুই মেয়ে, এক ছেলেসহ ৫ জনকে রশি দিয়ে বেঁধে এলাকায় ঘোরানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দুপুরে। তবে শনিবার রাত ১১টার দিকে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, কোমরে রশি বেঁধে দুই নারীকে (মা ও মেয়ে) প্রকাশ্য সড়কে ঘোরানো হচ্ছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) প্রত্যক্ষদর্শী জমির উদ্দিন ও আব্দু শুক্কুর বলেন, ‘শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ৫ যাত্রী নিয়ে রাস্তার ওপর ওঠার চেষ্টা করছিল। আর তাদের পেছন থেকে দৌড়ে একটি ছেলে বলছিল- এরা চোর, এদের ধর। হঠাৎ অটোরিকশা থেকে নেমে ৩ জন নারী ও ২ পুরুষ দৌড়ে পালাতে থাকে। আর তাদের পিছু নিতে থাকে কিছু লোকজন। শেষ পর্যন্ত ওই ৫ জনকে দৌড়ে ধরে ফেলে লোকজন। এরপর ছেলেটিসহ ধৃত ৫ জনকে নিয়ে অটোরিকশার কাছে যায়। তখন দেখে, অজ্ঞান একটি গরুর বাচ্চা ও একটি বোতল। পরে উপস্থিত লোকজন ৫ জনকে মারধর শুরু করে। তারা মারধর থেকে বাঁচার জন্য বার বার চিৎকার করে মেম্বর-চেয়ারম্যানকে খুঁজতে থাকে। এরপর স্থানীয় চেয়ারম্যানকে ফোনে খবর দেওয়া হলে তিনি গ্রাম পুলিশকে পাঠাচ্ছে বলে জানান।’

শহিদুল ইসলাম নামে আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘দুপুর আড়াইটার দিকে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। তারপর মা, দুই মেয়ে, এক ছেলেসহ ৫ জনকে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। আর সিএনজিতে গরুর বাচ্চা ও উদ্ধার হওয়ার সরঞ্জামসহ হারবাং ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ৫ জনকে রশিতে বেঁধে রাস্তায় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মারধর করে হাঁটিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়।’

ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ আহমেদ হোসেন বলেন, ‘শুক্রবার দুপুরে ইউপি চেয়ারম্যান ফোন দিয়ে বলে ডবলতলী গ্রামে গরু চোর ধরেছে, তাদের নিয়ে আস। তারপর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় শত শত মানুষ তাদের ধরে রেখেছে।  এর মধ্যে দুজন পুরুষ, ৩ জন নারী।  ৫ জনকে রশি বেঁধে হাটিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ে আসা হয়।

হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য আমিনা খাতুন বলেন, ‘গ্রাম পুলিশ ৫ জনকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসায় আমি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানাই। তবে চেয়ারম্যান কাজে হারবাং এর বাইরে থাকায় আসতে একটু দেরি হবে বলে জানান।  এ সময় আমরা ৫ জনকে ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে নারী ও পুরুষ আলাদা কক্ষে রাখি। তবে ইউনিয়ন পরিষদে আনার পর কেউ তাদের গায়ে হাত তোলেনি। সন্ধ্যায় ইউপি চেয়ারম্যান আসার পর তাদের সঙ্গে কথা বলে হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম বলেন, মা-মেয়েদের রশি দিয়ে বেঁধে হারবাং ইউনিয়ন পরিষদে মারধর করার বিষয়টি সত্য নয়। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি পক্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি চকরিয়া থানা পুলিশ। তবে পুলিশ জানিয়েছে, গরুর মালিক মাহবুবুল হক বাদী হয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করলে শনিবার আদালত তাদের কারাগারে পাঠায়।

সুজাউদ্দিন/সাইফ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়