জাভেদের সাফল্য, মদ্যপানের নেশা আমাদের বিচ্ছেদের কারণ: হানি ইরানি
জাভেদ আখতার, হানি ইরানি
হিন্দি চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব জাভেদ আখতার। অনেক সুপারহিট সিনেমার চিত্রনাট্য, কাহিনি ও সংলাপ রচনা করেছেন তিনি। ১ হাজারের বেশি গানের গীতিকার জাভেদ আখতার। তার লেখা অনেক গান এখনো শ্রোতাদের হৃদয়ে গেঁথে আছে।
ব্যক্তিগত জীবনে জাভেদ আখতার ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন অভিনেত্রী-লেখিকা হানি ইরানির সঙ্গে। ১৯৭২ সালে বিয়ে করেন তারা। এ সংসারে তাদের দুটো সন্তানও রয়েছে। কিন্তু ১৩ বছর পর ভেঙে যায় এই সংসার। জাভেদ আখতারের সঙ্গে প্রেম-বিয়ে-বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী হানি ইরানি।
১৯৭২ সালে ‘সীতা আউর গীতা’ সিনেমার শুটিং সেটে প্রথম দেখা হয় জাভেদ আখতার ও হানি ইরানির। এ তথ্য স্মরণ করে এই অভিনেত্রী বলেন, “শুটিং সেটে সংলাপ দিতে এসেছিল জাভেদ। প্রথমেই ওর রসবোধ আমার নজর কেড়েছিল। তাছাড়া ও খুব ভালো কথা বলতে পারে। ওর অগাধ জ্ঞান; যা অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিষয়।”
হানি ইরানিকে প্রথম প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন জাভেদ আখতার। একদিন তাস খেলার সময়ে হানিকে একটি তাস তুলতে বলেন জাভেদ। এই খেলায় গীতিকার জাভেদ জয়ী হয়েছিলেন। তারপর জাভেদ বলেছিলেন, “তুমি আমার জন্য খুব লাকি। চলো আমরা বিয়ে করি।” বিয়ের পরেই জাভেদের জীবনে সাফল্য আসে। তারপরই তার মধ্যে পরিবর্তন আসতে শুরু করে।
এ বিষয়ে হানি ইরানি বলেন, “সাফল্যই জাভেদকে বদলে দিয়েছিল। মদ্যপানের অভ্যাস বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ওর চারপাশের পরিবেশও বদলে গিয়েছিল। সারা সন্ধ্যা বাড়ির বাইরে থাকত। ফলে অনেক কিছু বদলে যেতে থাকে। আমার মনে হয়, আমি বিষয়টি সামলাতে পারিনি।”
বিচ্ছেদের বিষয়ে হানি ইরানি বলেন, “একটা সময় আমরা দুজনেই আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। কারণ এই সম্পর্কে আর কিছু ছিল না। আমরা যেটা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের মতো কাজ করেছিলাম তা হলো—আমরা একে অন্যের সঙ্গে ঝগড়ার পরিবর্তে আলাদা হয়ে গিয়েছিলাম। আমিও খুব ছোট ছিলাম। তাই আমি জাভেদকে পুরোপুরি দোষ দিচ্ছি না। আমরা খুব তাড়াতাড়ি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলাম। আমাদের হয়তো আরো কিছু সময় অপেক্ষা করা উচিত ছিল।”
১৯৮৫ সালে জাভেদ আখতারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে হানি ইরানির। এরপর বলিউডের বরেণ্য অভিনেত্রী শাবানা আজমির সঙ্গে সংসার বাঁধেন জাভেদ। শাবানার সঙ্গে এখনো হানি ইরানির খুব ভালো সম্পর্ক। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সম্পর্ক যখন ভেঙে গিয়েছে তখন তো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তাহলে কেনই বা রাগারাগি বা কান্নাকাটি করব?”
ঢাকা/শান্ত