জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করলেন কূটনীতিকেরা
সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়ার আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) পরিদর্শন করেছেন ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তারা জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী কূটনীতিকদের জাদুঘরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখান এবং এর ধারণা, প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। পরিদর্শনের শুরুতে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনে নিহত প্রায় চার হাজার মানুষের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, “জুলাই জাদুঘর বিশ্বের অন্যান্য দেশের অনুরূপ স্মৃতি জাদুঘর ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার উদ্যোগ নেবে।”
তিনি বলেন, “এই জাদুঘরের মূল ভাবনা হলো—এ ধরনের দুঃশাসন ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে। এই বার্তা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সারা বিশ্বের জন্য প্রযোজ্য।”
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, “এই জাদুঘর শেখ হাসিনার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি।”
তিনি বলেন, “জুলাইয়ের ৩৬ দিনের গণ-অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায় এখানে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা দুঃশাসনের নানা উপাদানও এতে তুলে ধরা হয়েছে। ইতিহাসের প্রকৃত শিক্ষা হলো—যাতে একই ভুল আবার না ঘটে।”
জাদুঘরের প্রধান কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব কূটনীতিক ও অতিথিদের সামনে জাদুঘরের বিভিন্ন প্রদর্শনী, নথি, আলোকচিত্র ও মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার ব্যাখ্যা দেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশে ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, “জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন করে আমি আনন্দিত। এটি অনুপ্রেরণাদায়ক এবং ইতিহাস বোঝার গুরুত্বের একটি শক্তিশালী স্মারক। কীভাবে গণ-অভ্যুত্থান ঘটে এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি কী ছিল—তা বোঝার ক্ষেত্রে এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
পরিদর্শনে অংশ নেওয়া কূটনীতিকদের মধ্যে ছিলেন আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেলুয়াহাব সাইদানি, আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা, ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কার্মা হামু দর্জি, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, মিসরের রাষ্ট্রদূত ওমর মোহি এলদিন আহমেদ ফাহমি, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে, ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রহিমি জাহানাবাদি, ইরাকের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স উইসাম হুসেইন আল ইথাওয়ি, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা, লিবিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদুলমুতালিব এস এম সুলিমান, মরক্কোর চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বুশাইব এজ জাহরি, নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান, রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন, সিঙ্গাপুরের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিস্তিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রু, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেন, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পাবলিক ডিপ্লোমেসি কাউন্সেলর মনিকা ও কর্মকর্তা স্কট, চীনের দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিউ ইউইন, জাপানের দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব ও সাংস্কৃতিক শাখার প্রধান আওয়াগি ইউ এবং ব্রুনাই দারুসসালামের হাইকমিশনের প্রেস অ্যাটাশে।
পরিদর্শনে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের কূটনৈতিক প্রতিনিধি ফারুক আদাতিয়া, এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং, বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্র মণি পাণ্ডে, সিআইআরডিএপির মহাপরিচালক পি চন্দ্র শেখারা, এফএওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি শি জিয়াওছুন, আইএফডিসির কান্ট্রি ডিরেক্টর মুনতাসির সাকিব খান, আইওএমের চিফ অব মিশন ল্যান্স বনো, ইউনেসকোর ভারপ্রাপ্ত প্রধান ড. সুসান ভাইজ, ইউএনএইচসিআরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ ইফতেখার আলী, ডব্লিউএফপির আবাসিক প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা এবং ইউএনওপসের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরলিধরন উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার কার্ষালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থাণে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনকে সংরক্ষণ ও রূপান্তরের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। আগামী সপ্তাহে জাদুঘরটি সীমিত পরিসরে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। খবর বাসসের।
ঢাকা/এসবি