শবে বরাতে পুরান ঢাকায় হালুয়া-রুটির পসরা
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
আজ পবিত্র শবে বরাত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকিরসহ এবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে রাত কাটাবেন। এর বাইরেও শবে বরাতকে কেন্দ্র করে রয়েছে বেশকিছু সামাজিক রীতিনীতির প্রচলন। যদিও বহুদিন ধরে চলা এসব রীতিনীতির পক্ষে নেই কোনো ধর্মীয় নির্দেশনা।
শবে বরাতে হালুয়া-রুটি খাওয়া কিংবা প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বিতরণ করার বিষয়টি চলে আসছে বহু বছর ধরে। সে ধারাবাহিকতায় এ বছরও লাইলাতুল বরাতকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকায় হালুয়া-রুটি পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। যদিও অতীতের তুলনায় বেচা-বিক্রি কমেছে বলে দাবি করেছেন তারা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নাজিরাবাজার, রায়সাহেব বাজার, আরমানিটোলা, বংশাল, সূত্রাপুর লক্ষ্মীবাজার ঘুরে দেখা গেছে—ফুল, মাছ, হাঁস, প্রজাপতি, কুমির আকৃতির ফ্যান্সি রুটি বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি বুট, সুজি, গাজর ও পেঁপের হালুয়া, সেমাই এবং বিভিন্ন ধরনের পিঠাও পাওয়া যাচ্ছে।
দোকানিরা জানান, রুটির মূল উপকরণ ময়দা, দুধ, ডিম, ঘি, কিশমিশ, তিল ও কাজুবাদাম। হালুয়া তৈরিতে ব্যবহৃত হয় পেঁপে, চালকুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, ডাল ও সুজি। আকৃতি ও মান অনুযায়ী, রুটির দাম কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ৬০০ টাকা, আর হালুয়া বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৫০০ টাকায়।
নাজিরাবাজার মোড়ে ২০ বছর ধরে শবে বরাতে দোকান নিয়ে বসেন করিম মিয়া। তিনি বলেন, “আগে চারপাশে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকত। সবাই সবার বাড়িতে রুটি-হালুয়া পৌঁছে দিত। এখন তা চোখে পড়ে না। দোকান বেশি হওয়ায় বেচাকেনাও কম।”
স্থানীয় বাসিন্দা সানিয়া বেগম বলেন, “গ্রামে থাকলে সবাই মিলে রুটি-হালুয়া বানানো হয়। কিন্তু, শহরে সময়ের অভাবে দোকান থেকে কিনে আনতে হয়। ছেলে-মেয়েদের জন্য রুটি ও হালুয়া নিয়েছি।”
নয়াবাজারের বাসিন্দা জামান মিয়া বলেন, “শবে বরাত মানেই আমাদের এলাকায় হালুয়া-রুটির আনন্দ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রথা কমে যাচ্ছে। আশা করি, এই ঐতিহ্য পুরোপুরি হারাবে না।”
ইতিহাসবিদদের মতে, উনিশ শতকের শেষের দিকে ঢাকার নবাবদের হাত ধরে শবে বরাতে হালুয়া ও মিষ্টি বিতরণের রীতি জনপ্রিয় হয়। মুঘল আমল থেকে চলে আসা এই সংস্কৃতি ধীরে ধীরে ধর্মীয় সীমা ছাড়িয়ে একটি সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।
ঢাকা/এএএম/রাজীব