RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ৬ ১৪২৭ ||  ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

লেখা পাঠাগার, মূলত ভাগাড়

সুজাউদ্দিন রুবেল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৪৫, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ০৪:৫৮, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
লেখা পাঠাগার, মূলত ভাগাড়

পরিত্যক্ত ভবনের বাইরে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। সন্ধ্যা নামলেই ভবনের ছাদে বসে জুয়া এবং মাদকের আসর। জরাজীর্ণ ভবনের ভেতরে রুমগুলোতে জেঁকে বসেছে অন্ধকার, যেন বহুকাল সেখানে পড়েনি মানুষের পায়ের ছাপ। তবে মশা-মাছি, ইঁদুর আছে বিস্তর। তাদেরই দখলে ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগার’!

ভবনের সামনে দাঁড়ালে যে কোনো মানুষের প্রথম দেখায় এমন মনে হবে। কারণ ভবনের কপালে লাল কালিতে জ্বলজ্বল করছে পাঠাগারের নাম। ওই নামই এখন বদনামের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকায় নতুন যারা আসেন তারা ভ্রু কুঁচকে জানতে চান- জাতির জনকের নামে একটি পাঠাগারের এমন দুর্দশা কেন? এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিত্যক্ত এই ভবনের ছবি ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই ক্ষোভ, বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

সেই সূত্র ধরে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একতলা ভবনটি এক সময় কক্সবাজারের চকোরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ভবনটির অবস্থান চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে খুটাখালী বাস স্টেশনের জেলা পরিষদ নির্মিত যাত্রী ছাউনির পেছনে। ১৯৮৬ সালে স্থাপিত হয় খুটাখালী ইউনিয়ন পরিষদ। ২০১২ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হলে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভবনটি কখনও পাঠাগার হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি। বর্তমানে ভবনটির সামনের অংশে আবর্জনার ভাগাড়ের ওপর মাটি ফেলে সমান্তরাল করে কাঠের ব্যবসা করছেন স্থানীয় মোহাম্মদ ইউনুছ নামে এক কাঠ ব্যবসায়ী। জামায়াত সমর্থিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রহমানের কাছ থেকে জায়গাটি গত দু’মাস আগে ইউনুছ ভাড়া নিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় অনেকেই বলেছেন, প্রায় চারবছর আগে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক ভুট্টু ভবনের গায়ে ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগার’ লিখে দেন। যদিও পাঠাগারটিকে বাস্তব রূপ দেওয়ার জন্য পরে তার আর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। বিষয়টি অনেকের কাছেই এখনও রহস্য হয়ে আছে।

এ প্রসঙ্গে মনিরুল হক ভুট্টু বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের জনসমর্থন কম। তাই এখানে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগার করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদনও করেছিলাম। কিন্তু জায়গাটি ইউনিয়ন পরিষদের নামে হওয়ায় অনুমতি পাওয়া যায়নি। জায়গাটি যেভাবে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে, পাঠাগার হলে এটি রোধ করা যেত।’

খুটাখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হওয়া ইউনিয়ন পরিষদের পরিত্যক্ত ভবনের ছাদে সন্ধ্যা নামলেই এখন জুয়া, মাদকের আসর বসে। সেখানে ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগার’ লেখা থাকায় জাতির পিতার প্রতি চরম অসম্মান ও অশ্রদ্ধা প্রকাশ পাচ্ছে।’

দেশজুড়ে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ পালিত হচ্ছে। এমন একটি সময়ে পরিত্যক্ত ভবনের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর নাম জুড়ে দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি সমালোচিত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘কে বা কারা সাইন বোর্ড স্থাপন করেছে আমার জানা নেই। তবে এটি সরকার অনুমোদিত নয়। তাছাড়া সরকারি সম্পদ কেউ অন্যায়ভাবে ব্যবহার করতে পারবে না। যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঢাকা/তারা

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়