Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ১৬ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ১ ১৪২৮ ||  ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

যশোরে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর ধর্ষণ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:০৫, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১২:৩৯, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১
যশোরে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর ধর্ষণ মামলা

যশোরে তালাকনামা গোপন করে শারীরিক সম্পর্ক করায় স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেছেন এক নারী। সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন তিনি।

ওই আদালতের বিচারক মো. সাইফুদ্দীন হোসাইন অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আব্দুর রহমান। তিনি যশোর শহরের নাজির শংকরপুরের সাদেক দারোগার মোড় এলাকার আব্দুল ওহাবের ছেলে।

বাদী মামলার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, তিনি সদর উপজেলার একটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অফিস সহায়ক পদে কর্মরত। ২০০৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর আসামি আব্দুর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে তাকে নির্যাতন করতেন স্বামী। কিন্তু ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নির্যাতন সহ্য করে তিনি সংসার করতে থাকেন। আর স্বামীর চাহিদামতো যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় তাকে মারধরের পর তাড়িয়ে দেন। তার আশ্রয় হয় বাবার বাড়িতে। এদিকে, দ্বিতীয় বিয়ে করেন আব্দুর রহমান। এরপর ২০২০ সালে স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেন বাদী। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ওই মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে এসে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া হয়েছে বলে তালাকের কপি আদালতে উপস্থাপন করে আব্দুর রহমান।  

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই তালাকনামা অনুযায়ী ২০১৩ সালের ২০ জানুয়ারি তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে। অথচ তালাকের কোনো নোটিস বাদীকে বা সংশ্লিষ্ট পৌরসভায় দেওয়া হয়নি। তালাকনামা উপস্থাপনের পর ওইদিন বিকেল ৪টার দিকে আব্দুর রহমানকে বাদীর বাবা শহরের খড়কির বাড়িতে ডেকে নেন। এ সময় তার কাছে তালাকের বিষয় জানতে চাওয়া হলে সদুত্তর দিতে পারেননি। 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালের ২২ ডিসেম্বর, ২০১৯ সালের ১৬ জানুয়ারি ও ১৬ মার্চ বাদীকে চিকিৎসা করানোর জন্য ঢাকায় নিয়ে যান আব্দুর রহমান। ওই সময় ঢাকার নয়াপল্টনে একটি হোটেলে আব্দুর রহমান তার সঙ্গে রাতযাপন করেন। এছাড়াও ২০১৯ সালের ২৭ এপ্রিল ও ২৩ জুন ভারতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। সেখানেও তার সঙ্গে রাতযাপন করেন আব্দুর রহমান। ফলে 'ইচ্ছাকৃতভাবে তালাকনামা গোপন রেখে শারীরিক সম্পর্ক করা ধর্ষণের শামিল' উল্লেখ করে ন্যায়বিচার পেতে আদালতে মামলা করেন ওই নারী।  

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পেশকার আব্দুল হালিম বলেন, বিচারক মামলার অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআই-কে নির্দেশ দিয়েছেন।

রিটন/বকুল 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়