ঢাকা     শুক্রবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ২৪ ১৪২৯

করোনার মধ্যেও রুপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ৪০ শতাংশ সম্পন্ন 

পাবনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৪১, ২৭ জুলাই ২০২১  
করোনার মধ্যেও রুপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ৪০ শতাংশ সম্পন্ন 

করোনা মহামারির মধ্যেও শিডিউল অনুযায়ী এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশের অন্যতম মেগাপ্রকল্প পাবনার রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দের নির্মাণকাজ। এরই মধ্যে প্রকল্পের কাজ প্রায় ৪০ শতাংশ শেষ হয়েছে। 

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের মূল উপাদান পারমাণবিক চুল্লি, স্টিম জেনারেটর এবং রিআ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল গত বছরের ২০ অক্টোবর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরের ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রথম ইউনিটের বিল্ডিংয়ে নিউক্লিয়ার চুল্লি স্থাপন সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। 

সম্প্রতি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান রূপপুর প্রকল্প পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, গত এক বছরে মহামারির মধ্যেও রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের শিডিউল অনুসারে নির্মাণকাজের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। প্রথম ইউনিটের পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও সাবলীলভাবে এগিয়ে চলেছে। করোনা মহামারিতে একদিনের জন্যও কাজে বিঘ্ন ঘটেনি।

ইয়াফেস ওসমান বলেন, মহামারি শুরুর পর থেকে রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ স্বাস্থ্য নির্দেশিকা অনুসরণে চলছে। প্রকল্পের সমস্ত কর্মচারীকে টিকা কর্মসূচির আওতায় আনার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ার নাগরিকরা রাশিয়ান ভ্যাকসিন ‘স্ফুটনিক ভি’ পাচ্ছেন এবং বাংলাদেশি কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরাও রাশিয়ার সহায়তায় একই টিকা পাচ্ছেন।

রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. শওকত আকবর বলেছেন, প্রতিদিন ২৫ হাজার স্থানীয়সহ ৩০ হাজার শ্রমিক এই প্রকল্পে কাজ করছেন। কর্তৃপক্ষ তাদের সবার জন্য স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করছে। শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য প্রকল্পের সাইটে পর্যবেক্ষণ এবং আইসোলেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিয়মিতভাবে প্রতিটি কর্মীর দিনে দুইবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছি। যদি কেউ সংক্রমিত হয় বা কোনো উপসর্গ দেখা যায়, তবে তাদের এবং আশপাশের লোকজনকে পর্যবেক্ষণ ও আইসোলেশন সেন্টারে নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়।’

ড. শওকত আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সর্বোচ্চ নিরপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ায় মহামারির অবস্থা ক্রমে খারাপ হলেও প্রকল্পের কাজ থামছে না। আমরা ইতিমধ্যে দেশের বৃহত্তম উন্নয়ন প্রকল্পের ৩৮ থেকে ৪০ শতাংশ কাজ শেষ করেছি এবং শিডিউল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার প্রত্যাশা করছি।’

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিয়ে রুশ নকশার আওতায় রুপপুরে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার দুটি ইউনিট তৈরি হবে। শিডিউল অনুসারে ২০২৩ সালে ইউনিট-১ এবং ২০২৪ সালের ইউনিট-২ চালু হবে। 

২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন রোসাটোম পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রুপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে।

শাহীন/বকুল 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়