ঢাকা     সোমবার   ০৪ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ২০ ১৪২৯ ||  ০৩ জিলহজ ১৪৪৩

পদ্মা সেতু: সংবাদপত্রের জন্য সুখবর

আলী আকবর টুটুল, বাগেরহাট || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৫৮, ২৩ জুন ২০২২  
পদ্মা সেতু: সংবাদপত্রের জন্য সুখবর

দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার পত্রিকাপাঠক ও সাংবাদিকদের জন্য সুখবর নিয়ে আসছে পদ্মা সেতু। সকালে ঘুম থেকে উঠে পাঠকদের আর অপেক্ষায় থাকতে হবে না পত্রিকার জন্য। ২৫ জুনের পরে সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাঠকের বাড়িতে পৌঁছে যাবে জাতীয় সব পত্রিকা। দীর্ঘদিনের বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাবে পাঠকরা। চায়ের কাপে চুমুকের সঙ্গে পত্রিকা পড়ে খবরের তৃষ্ণাও মেটাতে পারবে পাঠকরা— এমনই মনে করছেন বাগেরহাটবাসী।

সোহেল রানা নামে এক পাঠক জানান, কোনো কোনো দিন সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও পত্রিকা হাতে পান না। কিন্তু ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর সেই বিড়ম্বনা চিরতরে দূর হবে। 

পত্রিকা বিক্রেতা (হকার) মামুন বলেন, ‘ঝড়-বৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস, কুয়াশা, স্রোত বিভিন্ন কারণে পত্রিকা আসতে দেরি হয়। আমরা এজেন্টদের কাছে তীর্থের কাকের মতো বসে থাকি কখন পত্রিকা আসবে। পাঠকরা ফোনের পরে ফোন দিতে থাকে। অবশেষে সেই দিনের অবসান হচ্ছে। এখন আর অপেক্ষা করতে হবে না। পাঠক ঘুম থেকে উঠেই পত্রিকা পড়তে পারবে।’  

বাগেরহাটের সাংবাদিক এসএস শোহান বলেন, ‘ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলে যেসব পত্রিকা আসে, এ সব পত্রিকার জন্য আমাদের সন্ধ্যা ৭টার আগেই নিউজের আপডেট পাঠাতে হয়। কারণ রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে পত্রিকা ছাপিয়ে তা দক্ষিণাঞ্চলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ জন্য অনেক ক্ষেত্রে সর্বশেষ আপডেট সংবাদ সম্বলিত পত্রিকা আমরা পাই না। এখন পদ্মা সেতু চালু হলে ঢাকায় যত রাতে পত্রিকা ছাপানো হোক না কেন, দক্ষিণাঞ্চলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছানো যাবে, তাই আপডেট নিউজ যেমন পত্রিকায় ধরানো যাবে, আবার ভোরেই পাঠকরা পত্রিকা হাতে পারে; এটা ভেবে ভালো লাগছে।’ 

বাগেরহাট সদর উপজেলার বৈটপুর এলাকার এনামুল আহমেদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় পত্রিকা পড়ার অভ্যাস। তাই ব্যস্ততার মধ্যেও বাসায় পত্রিকা রাখি পড়ার জন্য। কিন্তু কষ্টের বিষয় হচ্ছে, সকালের পত্রিকা পাই দুপুরে, কোনো কোনো দিন বিকেলও হয়ে যায়। কারণ জানতে চাইলে ফেরিঘাটে জ্যামে পত্রিকার গাড়ি আটকে থাকার কথা জানায় হকার। আশা করি, পদ্মাসেতু চালু হলে ঘুম থেকে উঠেই পত্রিকা দেখতে পাব।’  

বাগেরহাটের পত্রিকা পরিবেশক মোকাদ্দেস আলী বলেন, ‘ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রায় সব পত্রিকা এনে হকারদের মাধ্যমে বিক্রি করে থাকি। শীতকালে কুয়াশা ছাড়াও বিভিন্ন দুর্যোগে ফেরি বন্ধ থাকায় পত্রিকা বিকেলে এসে পৌঁছায়। পদ্মা সেতু চালু হলে এই বিড়ম্বনা থেকে আমরা মুক্তি পাব।’

বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক শাহ আলম টুকু বলেন, ‘একটা সময় ছিল পত্রিকা হাতে পেতাম একদিন পরে। বর্তমানে ফেরি বিড়ম্বনার কারণে প্রায়শই দুপুরের দিকে পাই। দুপুরে পত্রিকা হাতে পাওয়ার কারণে অনেকে কিনতে চায় না। পদ্মা সেতু চালু হলে ফেরি বিড়ম্বনা থাকবে না, ঘুম থেকে ওঠার পর পাঠক পত্রিকা হাতে পাবে। আশা করা যায়, এতে পত্রিকার পাঠকও বাড়বে।’ 
 

/বকুল/  

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়