ঢাকা     বুধবার   ৩০ নভেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ১৬ ১৪২৯ ||  ০৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

নির্মাণ ব্যয় উসুলের পরেও ‘টোল আদায়’ শম্ভুগঞ্জ ব্রিজে

মাহমুদুল হাসান মিলন, ময়মনসিংহ  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৪৯, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২  
নির্মাণ ব্যয় উসুলের পরেও ‘টোল আদায়’ শম্ভুগঞ্জ ব্রিজে

শম্ভুগঞ্জ ব্রিজ

ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ১৯৯১ সালে ৪৫৫ মিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী ব্রিজ উদ্বোধন করা হয়। এ ব্রিজ পারাপারে ওই বছর থেকেই টোল দিয়ে আসছে বিভিন্ন যানবাহন। স্থানীয়দের কাছে ‘শম্ভুগঞ্জ ব্রিজ’ হিসেবে পরিচিত এ সেতু নির্মাণে খরচ হয়েছিল ৭২ কোটি টাকা।  

চালু হওয়ার ৩০ বছরের মাথায় এ ব্রিজের ইজারা বাবদ খরচের চার থেকে পাঁচ গুণ টাকা আয় হলেও এখনও টোলের ভার বইতে হচ্ছে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের। দীর্ঘ সময়েও টোল আদায় বন্ধ না হওয়ায় ক্ষুদ্ধ এই অঞ্চলের পরিবহন চালক, মালিক ও স্থানীয়রা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ ময়মনসিংহ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে ময়মনসিংহের পাটগুদাম এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের উপর প্রায় ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী ব্রিজ। এ ব্রিজ স্থানীয়দের কাছে ‘শম্ভুগঞ্জ ব্রিজ’ হিসেবে পরিচিত। উদ্বোধনের পর থেকেই আদায় করা হচ্ছে টোল। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে তিন বছর মেয়াদে ৪৮ কোটি টাকা ইজারা দেওয়া হয়েছে। উদ্বোধনের পর থেকে এই সেতু থেকেই নির্মাণ ব্যয়ের কয়েক গুণ রাজস্ব আদায় হয়ে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। 

শম্ভুগঞ্জ সেতু দিয়ে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর, মদন, মোহনগঞ্জ, তাড়াইল, কেন্দুয়া, কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, বিরিশিরি, ময়মনসিংহের তারাকান্দা, ফুলপুর, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, নান্দাইল, সিলেট, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ছোট-বড় ট্রাকসহ প্রতিদিন প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার যানবাহন চলাচল করে।

বর্তমানে প্রতিটি যানবাহন থেকে আকারভেদে ১৫ টাকা থেকে ২৫০ টাকা করে টোল আদায় করা হচ্ছে। হেভি ট্রাক ১৩৫ টাকা, মিডিয়াম ট্রাক ১০০ টাকা, মিনি ট্রাক ৭৫ টাকা, বড় বাস ৬৫ টাকা, মিনিবাস ৩৫ টাকা, মাইক্রোবাস ৪০ টাকা, প্রাইভেটকার ২০ টাকা, পাওয়ার টিলার ৬০ টাকা ও সিএনজি চালিত অটো রিকশা থেকে ১৫ টাকা টোল আদায় করা হচ্ছে।

এই সেতু দিয়ে চলাচলকারী ইমাম পরিবহনের চালক আনোয়ার কাদের বলেন, ‘দিন যত যাচ্ছে টোলের পরিমাণ আরো বাড়ছে। জন্মের পর থেকে দেখছি এই সেতু থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। এখনো টোলমুক্ত হয়নি, আদৌ হবে কি না তার কোনো নিশ্চয়তাও নেই।’

শহীদ মিয়া নামে এক ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালক বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। সামান্য আয় করি। এই সেতুর উপর দিয়ে যতবার যাই ১৫ টাকা করে দিতে হয়। জানিনা এই টোল কবে শেষ হবে।’

ময়মনসিংহ জেলা মটর মালিক সমিতির মহাসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এতো বছর পরেও বন্ধ হচ্ছে না টোল আদায়। জানি না কবে বন্ধ হবে। তবে আমরা পরিবহন মালিকরা সরকারের কাছে এই সেতুর টোল আদায় বন্ধের দাবি জানিয়েছি।’

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'জন উদ্যোগ' ময়মনসিংহ-এর আহবায়ক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু বলেন, ‘সরকার উন্নয়ন করে মানুষকে সেবা প্রদানের জন্য, ব্যবসা করার জন্য নয়। এই ব্রিজের নির্মাণ খরচ অনেক আগে উঠে গেলেও সরকার এখনো ব্রিজের টোল আদায় নিয়ে ব্যবসা করছে। অবিলম্বে এই টোল আদায় বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি।’ 

ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন, ’৩০ বছর হয়ে গেছে সেতুটি চালু হওয়ার। সরকারের টাকাও উঠে গেছে। কিন্তু এখনো টোল আদায় বন্ধ না হওয়া দুঃখজনক। এ বিষয়টি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করবো। যাতে এই সেতুতে টোল আদায় বন্ধ হয়।’

ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদের উপর নির্মিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর টোল আদায় বন্ধের কোনো নির্দেশনা নেই। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে কতোদিন টোল আদায় চলবে। তবে টোলের রেট আরও বাড়বে এবং খুব শিগগিরি ইলেকট্রনিক টোল আদায় পদ্ধতি চালু হবে।’

মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়