ঢাকা     শুক্রবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৯ ||  ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

টাঙ্গাইলে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ৬

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৫২, ৬ অক্টোবর ২০২২   আপডেট: ২১:০০, ৬ অক্টোবর ২০২২
টাঙ্গাইলে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ৬

দুর্ঘটনায় বাস ও মাইক্রোবাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়

টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপ্রান্তে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে মা-ছেলেসহ ছয় জন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাশের গোলচত্বর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ছয় জন আহত হয়েছে।

নিহতরা হচ্ছেন, মাইক্রোবাসের চালক কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কুটুম্বপুর গ্রামের মৃত ফজলুল হকের ছেলে দুলাল হোসেন (৫২), মাইক্রোবাসের আরোহী বগুড়া সদরের জলসিড়ি গ্রামের হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী মালেকা বানু ওরফে রুবি (৬৫) ও তার ছেলে রিফাত আল হাসান (৩৫), মাইক্রোবাস চালকের সহযোগী কুমিল্লার সুশীল চন্দ্র শীল (৪৫), বাসের আরোহী পাবনার বিএডিসির যুগ্ম পরিচালক (সার) জহিরুল ইসলাম (৫০), নাটোর সদরের বড়াই গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে তামিম (৭)।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা একতা পরিবহনের দ্রুতগামী বাস বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজন ভেঙে উত্তরবঙ্গগামী লেনে ঢুকে পড়ে। এ সময় উত্তরবঙ্গগামী মাইক্রোবাসের সঙ্গে সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে  যায়। ঢাকাগামী বাসটি রাস্তায় উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলে মাইক্রোবাসের চালকসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। বাসের আহত নয় জনকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আরও তিন জনের মৃত্যু হয়।

বাসের যাত্রী জান্নাতুল খাতুন জানান, সকাল ৭টার দিকে বাসটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পার হওয়ার কিছুক্ষণ পরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রোড ডিভাইডারের উপর দিয়ে পার্শ্ববর্তী লেনে আছড়ে পড়ে। এ সময় উত্তরবঙ্গগামী মাইক্রোবাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। আহত নয় জনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তিন জনের মৃত্যু হয়। বাসের হেলপার, সুপারভাইজারসহ বাকি ছয় জনকে সেখানে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা বাসের যাত্রী নাটোরের নলডাঙ্গার মনির হোসেন বলেন, ‘আমার ভাগ্নে উৎসবকে নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলাম। উৎসবের ঢাকায় চাকরির ইন্টারভিউ ছিল। বাসটি নিমিশেই এপাশ থেকে অপর পাশে উল্টে গিয়ে মাইক্রোবাসের ওপর পড়ে যায়। কখনও ভাবিনি এখান থেকে বেঁচে ফিরতে পারবো। আল্লাহর রহমতে আমরা মামা-ভাগ্নে দুজনেই বেঁচে আছি।’

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, এ দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছে।

মাইক্রোবাসের আরোহী নিহত রুবি বেগমের আত্মীয় মো. পিটু জানান, রুবি বেগম কুমিল্লায় তার মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে মাইক্রোবাস ভাড়া করে ছেলে রিফাতকে সঙ্গে নিয়ে বগুড়া ফিরছিলেন।

পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ পুলিশের কাছে আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের পরিবারের কেউ না আসলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি ও পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার  দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসক জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়াও টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল হাসেমকে প্রধান করে বিআরটিএ, পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের প্রতিনিধিদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।  

সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধুর সেতু পূর্ব থানার উপসহকারী পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম জানান, নিহতের স্বজনরা এসে পৌছেছে। লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

কাওছার/ইভা/বকুল  

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়