ঢাকা     সোমবার   ১৭ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৩ ১৪৩১

সিলেটে শিক্ষায় এগিয়ে আনোয়ারুজ্জামান-মাহমুদুল, সম্পদে নজরুল

নূর আহমদ, সিলেট || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:০৫, ২৮ মে ২০২৩   আপডেট: ১১:০৭, ২৮ মে ২০২৩
সিলেটে শিক্ষায় এগিয়ে আনোয়ারুজ্জামান-মাহমুদুল, সম্পদে নজরুল

বাঁ থেকে-আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, নজরুল ইসলাম বাবুল ও মাওলানা মাহমুদুল হাসান

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।  ৬ প্রার্থীর মধ্যে শিক্ষায় এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাফিজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান। আর সম্পদে এগিয়ে রয়েছেন জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল।

সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী (নৌকা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাফিজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা) ও জাকের পার্টির প্রার্থী মো. জহিরুল আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ আব্দুল হানিফ কুটু, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ছালাহ উদ্দিন রিমন মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হন। 

মনোনয়নপত্র জমাদানকারী ১১ প্রার্থীর মধ্যে সামছুন নুর তালুকদার, মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান খান, মাওলানা জাহিদ উদ্দিন, মো. শাহজাহান মিয়া, মোশতাক আহমেদ রউফ মোস্তফা নামের ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তাদের কেউই এখন পর্যন্ত মনোনয়ন ফিরে পাননি।

অপরদিকে নির্বাচনে বিএনপি দলীয় বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নির্বাচনে না আসায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে মূল প্রতিদ্বন্ধিতায় থাকবেন জাতীয় পার্টি প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল। তার সাথে থাকবেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান।

এই তিন প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদশালী জাতীয় পার্টির প্রার্থী শিল্পপতি মো. নজরুল ইসলাম বাবুল। তার বার্ষিক আয় ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৯ টাকা। তবে তিনি হলফনামায় নিজেকে স্বশিক্ষিত বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে, শিক্ষাগত যোগ্যতায় এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান। আনোয়ারুজ্জামান বিএ (সম্মান এবং মাহমুদুল হাসান এলএলবি পাস করেছেন।

হলফনামায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী নিজেকে বিএ (সম্মান) পাস বলে উল্লেখ করেন। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। বার্ষিক আয় ২ লাখ ৯৫ হাজার ৮৪ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদই আছে ৪১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪৮ টাকা। এর বাইরে অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে দুটি টিভি, একটি রেফ্রিজারেটর, দুটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) এবং দুই সেট সোফা, চারটি খাট, একটি টেবিল, ১০টি চেয়ার ও দুটি আলমারি। তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে আছে ৪৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার। আনোয়ারুজ্জামানের স্থাবর সম্পদের মধ্যে তিন বিঘা কৃষিজমি, ২৩ শতক অকৃষিজমি, একটি দালান ও একটি বাড়ি বা ফ্ল্যাট আছে। তবে তার কোনো দায় বা দেনা নেই। 

স্বশিক্ষিত জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম বাবুল পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি ফিজা অ্যান্ড কোং লিমিডেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেসার্স ফিজা এক্সিমের ব্যবস্থাপনা অংশীদার, পাথর আমদানিকারক ও দৈনিক একাত্তরের কথা পত্রিকার প্রকাশক। বাবুলের বার্ষিক আয় ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৯ টাকা। অস্থাবর সম্পদ আছে ২ কোটি ৩৪ লাখ ৫১ হাজার ৯৬৩ টাকার। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি, একটি টয়োটা প্রাডো, চারটি কার্গো ভ্যান, আটটি কাভার্ড ভ্যান ও একটি মোটরসাইকেল। এ ছাড়া তার স্ত্রীর নামে ২১ লাখ ১২ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে। নজরুলের স্থাবর সম্পদের মধ্যে ১৩৫ দশমিক ৭৮ শতক অকৃষিজমি, একটি ফ্ল্যাট এবং চারটি পাকা ও টিনশেড বাড়ি আছে। এছাড়া তার ব্যাংক ঋণ আছে পাঁচ কোটি ২৯ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৭ টাকা। বাবুলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটা মামলা তদন্তাধীন। এ ছাড়া অতীতে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হলেও সেগুলো থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান এলএলবি পাস। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অতীতে তার বিরুদ্ধে একটা মামলা হলেও বেকসুর খালাস পেয়েছেন। তার কোনো দায় বা দেনা নেই। মাহমুদুল হাসানের ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে। তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ২০ ভরি স্বর্ণালংকার। স্থাবর সম্পদের মধ্যে মাহমুদুলের যৌথ মালিকানায় বাণিজ্যিক দোকান ও বাড়ি আছে। এসব সম্পদের ৬ ভাগের ১ অংশ তার।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সিলেটকে বলা হয় দ্বিতীয় লন্ডন। প্রবাসী—অধ্যুষিত এ অঞ্চলের অনেক প্রার্থীর বিদেশে নাগরিকত্বও আছে। তাই হলফনামায় আরও কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। যেমন বিদেশি নাগরিকত্ব আছে কি—না, থাকলে সেখানকার সম্পদ ও আয়ের বিস্তারিত বিবরণ। প্রার্থীরা হলফনামায় সঠিক তথ্য দিয়েছেন কি না, সঠিকভাবে যাচাই—বাছাই করা উচিত।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফয়সল কাদির বলেন, প্রার্থীর ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি তাদের আয়, আয়ের উৎস, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, মামলা, দেনাসহ বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন। তা যাচাই বাছাই করা হয়েছে। যাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে তাদের তিনদিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। 

/টিপু/

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়