কালিয়াকৈর-মাওনা সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ
রেজাউল করিম, গাজীপুর || রাইজিংবিডি.কম
কালিয়াকৈরে-মাওনা আঞ্চলিক সড়ক
কালিয়াকৈরে-মাওনা ২৮ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়কের সৌন্দর্য আকৃষ্ট করে সবাইকে। দুই পাশে সারি সারি গজারি গাছ সড়কটিকে দিয়েছে আলাদা সৌন্দর্য। তবে, এসব সৌন্দর্য ছাপিয়ে দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের চিত্র। এই সড়কে প্রায় প্রতিদিনই ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ।
সড়কটিকে রাতে ডাকাতি দিনে দুর্ঘটনার স্থান বলেছেন স্থানীয়রা। গত দেড় মাসে এই সড়কে অর্ধশত দুর্ঘটনা ঘটেছে। মারা গেছেন অন্তত ২৫ জন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ফুলবাড়িয়া হয়ে যাওয়া যায় শ্রীপুরের মাওনা পর্যন্ত। মাওনা হয়ে ময়মনসিংহে যাওয়া যায় খুব সহজে। আঞ্চলিক সড়ক হলেও এটি ২০ থেকে ২৫ ফুট প্রশস্ত। ফলে প্রতিদিন শত শত যানবাহন এই সড়কে চলাচল করে।
সড়কটি দিয়ে যাওয়ার সময় ১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। এসব বাঁকে শালবন ও ঝোপঝাড় থাকায় এক পাশ থেকে অন্য পাশের যানবাহন দেখা যায় না। যে কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। গত এক মাসে অন্তত ৫০ দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত দেড় মাসে মারা গেছেন অন্তত ২৫ জন।
গত শুক্রবার দুপুরে কালিয়াকৈর-মাওনা আঞ্চলিক সড়কের বড়চালা এলাকায় হাসপাতালে ভর্তি অসুস্থ বাবাকে দেখতে যাওয়ার পথে একই পরিবারের তিনজনসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়। রবিবার (২০ জুলাই) সকালেও সড়কটিতে ঘটেছে দুর্ঘটনা। একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও হাইয়েস গাড়ি দুমড়েমুচড়ে যায়। মারা যান একজন।
চালকদের ভাষ্য, গাছের কারণে বাঁকগুলোর এক পাশ থেকে অন্য পাশ দেখা যায় না। অটোরিকশা, মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় চালকরা অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।
এলাকাবাসী বলেন, মাওনা-কালিয়াকৈর সড়কের দুই পাশে গভীর বন থাকায় সামনের যানবাহন কম দেখা যায়। ফাঁকা রাস্তায় গাড়ির গতি থাকে বেশি। ফলে সড়কের বাঁকে গিয়ে চালকরা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, ঘটে দুর্ঘটনা। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ট্রাক সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনায় পড়ে। মাটিবাহী ট্রাক চলাচল করে এই সড়কে। মাটি সড়কে পড়ে বৃষ্টির পানিতে তা পিচ্ছল হয়ে যায়। যা দুর্ঘটনার আরো একটি কারণ। নির্জন এলাকা হওয়ায় এই সড়কে ডাকাতের কবলেও পড়তে হয় যাতায়াতকারীদের।
নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের জেলা সভাপতি রাকিব হাসান বলেন, “দ্রুত সময়ের মধ্যে এই আঞ্চলিক সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করতে হবে। ১০ মিনিট পর পর মাওনা পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিদিন এই সড়কে দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এই সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।”
কালিয়াকৈরে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার আহামেদ বলেন, “ইতোমধ্যেই কালিয়াকৈর-মাওনা আঞ্চলিক সড়কে নিরাপত্তা জোরদার ও সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, “সড়কটিতে যাতায়াতকারী গাড়ির চালকদের সতর্ক করা হয়েছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের সড়কের প্রতিটি বাঁকে গতি কমিয়ে চলাচল করতে বলা হয়েছে।”
ঢাকা/মাসুদ
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশকে তেল পরিবহণের সুযোগ করে দিয়েছে ইরান