ধর্ষণের অভিযোগে নারীর মামলা, এলাকাবাসীর অভিযোগ নারীকে নিয়ে
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই নারী দুই যুবক শাহীনুর রহমান ও হাসানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, ধর্ষণের অভিযোগ সত্য নয়। তারা এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানববন্ধন করার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ এসে মানববন্ধনের ব্যানার কেড়ে নেয়। পরে মানববন্ধন পণ্ড হয়ে যায়।
এলাকাবাসী বলছেন, ওই নারী দেহ ব্যবসায়ী। নিজের অপকর্ম ঢাকতে তিনি মিথ্যা মামলা করেছেন। এর আগেও বিভিন্ন সময় তার অসামাজিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে।
শহরের নদীপাড়া এলাকার প্রায় ২০ জনের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তাদের অভিযোগ, ওই নারী দেহ ব্যবসায়ী। এর আগেও যশোরসহ বিভিন্ন স্থানে সে ধরা পড়েছে। সেসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রয়েছে। তাকে এলাকায় এ ধরনের কাজ না করার জন্য অনেকবার বলা হয়েছে। কিন্তু সে কর্ণপাত করেনি।
গত শনিবার কোলাবাজার এলাকার সোহান ও ইমন নামে দুই যুবক ওই নারীর বাসায় গেলে ঘটনার সূত্রপাত। এ সময় স্থানীয়রা তাদের আটক করে ওই নারীসহ গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে। এলাকাবাসী বলছেন, ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণের জন্য উভয়পক্ষের ডিএনএ টেস্ট করা হোক।
এ প্রসঙ্গে জানতে সোহানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘ঘটনার দিন আমরা ওই এলাকায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। ওই নারীর সঙ্গে দেখা হলে নতুন বাড়ি দেখাতে তিনি আমাদের ডেকে নিয়ে যান।’’
এ দিকে ধর্ষণ মামলার বাদী ও ওই নারীর বাড়ির ভাড়াটিয়া সুমি খাতুন বলেন, ‘‘আমি গত ৪ মাস ধরে এই বাড়িতে ভাড়া থাকি। বাড়ির মালিক বিধবা। সেদিনের ঘটনার পর ওই মহিলা যে স্বীকারোক্তি দিয়েছে সব মিথ্যা। এই বাড়িতে যে পরিমাণ পুরুষ মানুষ আসে আমি অবাক হয়ে যাই। ওই মহিলা এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে।’’
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় যুবক রুবেল হোসেন বলেন, ‘‘যে দুটি ছেলেকে ওই বাসা থেকে ধরা হয়েছিল তারা মুসলমান। একজন বিধবা হিন্দু নারীর কাছে রাতে দুই যুবকের কী কাজ থাকতে পারে? ওই মহিলাকে এর আগেও একাধিকবার নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু সে কিছুই তোয়াক্কা করে না। সেদিন এলাকাবাসী তাকে হাতেনাতে ধরেছে এবং মারধর করেছে।’’
যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দেওয়া হয়েছে তারা ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত নন বলেও দাবি করেন রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, ‘‘ওই নারীকে মারধর করার কারণে সে শাহীন ও হাসানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে।’’
জামাল হোসেন নামে আরেক যুবক বলেন, ‘‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ওই নারী ও দুই ছেলেকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ সময় ছেলে দুটির কাছে এখানে আসার কারণ জানতে চাইলে তারা বলে, ওই নারী তাদের ডেকে এনেছে। এবং এক হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছে। পরে গ্রামবাসীর সামনেই ওই নারী ছেলেদের টাকা ফেরত দেয়।’’
আড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘‘এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে আমরা মানববন্ধন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ করতে দেয়নি। যে দুই যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে সেটি একদমই মিথ্যা। প্রয়োজনে উভয়পক্ষের ডিএনএ পরীক্ষা করা হোক।’’
ওই নারীর অসামাজিক কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন যশোর রেল স্টেশন এলাকার যুবক রাব্বি হোসেন। তিনি বলেন, ‘‘ওই নারী রেল স্টেশনের পাশে এক সময় ভাড়া থাকতো। সেখানেও তিনি একবার আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েছিল।’’
এ ব্যাপারে জানতে ওই নারীর মোবাইলে ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ দিকে মামলার প্রধান আসামি শাহীনুর রহমান বলেন, ‘‘খবর পেয়ে ওই এলাকায় আমি দেখতে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি ওই নারীসহ দুজনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। আমি ঘটনার প্রতিবাদ করেছি। এখন মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে হয়রানি করছে।’’
‘‘আমি ডিএনএ টেস্ট করাতে রাজি আছি,’’ বলেন শাহীনুর রহমান।
কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, ‘‘এক নারী বাদী হয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন। আমরা মামলা রেকর্ড করেছি। একজনকে আটক করা হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তারা একটা মানববন্ধন করতে চেয়েছিল কিন্তু বর্তমানে নির্বাচনী আচরণবিধির ব্যাপারে তাদের বুঝানো হয়েছে। এরপর তারা বাড়ি চলে যায়। আমরা মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ওই নারীকে হাসপাতালে পাঠিয়েছি।
ঢাকা/শাহরিয়ার//