কেরাণীগঞ্জে চড়া দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ
কেরাণীগঞ্জ সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম
পিকআপে বহন করা হচ্ছে বোতলজাত গ্যাস।
সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৫০০-৭০০ টাকা বেশি দামে বোতলজাত গ্যাস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে কেরাণীগঞ্জের খুচরা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বেশি দাম দিয়ে কিনে আনার কারণে তারা বেশি দামে বোতলজাত গ্যাস বিক্রি করছেন। তাদের ভাষ্য, মূল সমস্যা পাইকার পর্যায়ে।
ক্রেতারা অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য ১ হাজার ৩০৬। স্থানীয় দোকানিরা তা অমান্য করে প্রতিটি সিলিন্ডার ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। প্রশাসনের যথাযথ তদারকির অভাবে খুচরা ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার লোভে ইচ্ছে মতো দাম বাড়িয়ে নিচ্ছেন। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ পড়ছে। এ কারণে দ্রুত বাজার মনিটরিংয়ের আহ্বান তাদের।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার নরন্ডি মোড়ের মুদি দোকানদার রফিকের দোকানে ক্রেতা হিসেবে যান এই প্রতিবেদক। তার কাছে রফিক জানান, তিনি প্রতিটি গ্যাস সিলিন্ডার ২ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। চড়া দামে কেনায় সামান্য লাভ করে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে হচ্ছে তাকে। সরকার নির্ধারিত দামে যদি পাইকাররা তাদের কাছে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করে, তাহলে তারাও একই দামে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করবেন বলে জানান তিনি।
কতো টাকা দরে ডিলারদের কাছ থেকে গ্যাস সিলিন্ডার কিনছেন সে সম্পর্কে জানতে চাইলে কিছু বলেননি তিনি।
শাক্তা এলাকায় রতন মিয়া প্রতিটি গ্যাস সিলিন্ডার ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রির কথা জানান।
অতিরিক্ত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির কারণ সম্পর্কে তিনি জানান, পাইকারদের কাছ থেকেই তাদের বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। যে কারণে ৩০ থেকে ৪০ টাকা লাভ করে ক্রেতাদের কাছে সিলিন্ডার বিক্রি করতে হচ্ছে তাকে।
গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেশি রাখার কারণ সম্পর্কে কেরাণীগঞ্জের কয়েকজন ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কেউ ফোন রিসিভ করেনি।
সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি বিষয়ে জানতে চাইলে আটি বাজরের ডিলার আসিফ কথা বলতে রাজি হননি।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উমর ফারুক বলেন, “সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঢাকা/শিপন/মাসুদ