ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৪ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ৩১ ১৪৩৩ || ২৬ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

৭৫০ কোটি টাকা ঋণে কাজী রফিক, নির্বাচন করবেন নিজ খরচে

বগুড়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:০৭, ৮ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১০:১৫, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
৭৫০ কোটি টাকা ঋণে কাজী রফিক, নির্বাচন করবেন নিজ খরচে

কাজী রফিকুল ইসলাম।

মাথার ওপরে ঋণের বোঝা নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন কাজী রফিকুল ইসলাম। নির্বাচনী মাঠে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তিনি। তার ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলে ঋণের পরিমাণ প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা। তিনি নিজের ব্যক্তিগত আয় থেকে নির্বাচনের জন্য ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ের ঘোষণাও দিয়েছেন।

কাজী রফিকুল ইসলাম বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি, বগুড়া জেলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সদস্য। ২০০১ সালে বগুড়া-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিলকৃত হলফনামা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

হলফনামায় কাজী রফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন, তিনি ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেছেন। পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার স্ত্রী কাজী রশিদা ইসলামের পেশাও দেখানো হয়েছে ব্যবসা। ও.কে এন্টারপ্রাইজ, ও.কে প্রোপার্টিজ, ও.কে ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে একাধিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে রয়েছেন কাজী রফিক। র‌্যান্স রিয়েল এস্টেট নামে একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালক তিনি।

আয়ের উৎস হিসেবে হলফনামায় কাজী রফিক কৃষিখাত থেকে বাৎসরিক আয় এক লাখ টাকা। বাড়ি ভাড়া পান এক লাখ ৬৮ হাজার টাকা। শেয়ার, বন্ড ও আমানাত আছে ১৪ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫৯ টাকা। বছরে কোম্পানি থেকে সম্মানীভাতা পান ১২ লাখ টাকা।

হলফনামার অস্থাবর সম্পদের বিবরণীতে বলা হয়েছে, কাজী রফিকের নগদ অর্থ আছে ৩৬ কোটি ৭৮ লাখ ৬৪ হাজার ৯২৬ টাকা। ৯টি ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা আছে ৮১ লাখ ৩৮ হাজার ৯০০ টাকা। ফখরুল ইসলাম সিকিউরিটিজ লিমিটেডে আছে ২ কোটি ২ লাখ ২৯ হাজার ১৭ টাকা।

চার প্রতিষ্ঠানে শেয়ার আছে ২৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৫১০ টাকার শেয়ার মালিক কাজী রফিক। যার বর্তমান মূল্য দেখিয়েছেন ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৬৮ হাজার ১৫২ টাকা।

স্ত্রীর নামে ব্যাংকে জমা আছে ৪৬ লাখ ৬৬ হাজার ৯৭০ টাকা। চার প্রতিষ্ঠানে শেয়ার আছে ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ৮ লাখ ৭২ হাজার ৭৯৫ টাকার শেয়ার। যার বর্তমান মূল্য ২ কোটি ৪ লাখ ৭৭ হাজার ১৭৩ টাকা।

কাজী রফিকের নামে ৩০ লাখ টাকা মূল্যের একটি প্রাইভেটকার আছে। নিজের নামে না থাকলেও স্ত্রীর নামে ৬০ হাজার টাকার স্বর্ণালঙ্কার আছে। এর বর্তমান মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার।

হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, তার নিজের নামে ইলেকট্রনিক পণ্য আছে দেড় লাখ টাকার। আর স্ত্রীর নামে আছে ৮০ হাজার টাকার পণ্য। আসবাবপত্র আছে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার। স্ত্রীর নামে আসবাবপত্র আছে ৭০ হাজার টাকার। কাজী রফিকের নামে ২৪ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৮ টাকার আগ্নেয়াস্ত্র আছে।

কাজী রফিকের কৃষি জমি আছে সাড়ে ২১৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্ত্রীর ২৪ শতাংশ। অকৃষি জমি ৩৮ শতাংশ। স্ত্রীর নামে অকৃষি জমির পরিমাণ উল্লেখ না করলেও তার মূল্য দেখিয়েছেন ১ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

নিজের নামে বাড়ি দেখিয়েছেন তিনটি। এসব মিলে তার স্থাবর সম্পত্তির বর্তমান মূল্য দেখিয়েছেন ১ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এবং স্ত্রীর মোট স্থাবর সম্পত্তির আর্থিক মূল্য দেখানো হয় ১ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, কাজী রফিক নিজের বিরুদ্ধে এন.আই অ্যাক্টে ৪টি মামলা থাকার কথা হলফনামায় উল্লেখ করেন। সবগুলোয় তিনি জামিনে আছেন। এর মধ্যে দুটিতে রিট পিটিশন করা হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলাগুলো স্থগিত আছে।

কাজী রফিকের ব্যক্তিগত ঋণ আছে ২৬১ কোটি ৬০ লাখ ৭৬ হাজার ৭১ টাকা। এর মধ্যে ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ঋণের পরিমাণ ২৬১ কোটি ৫৮ লাখ ৭৫ হাজার ৪০৬ টাকা।

তার প্রতিষ্ঠান ও.কে এন্টারপ্রাইজ, ও.কে প্রোপার্টিজ লিমিটেড এবং ও.কে ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের নামে ঋণ আছে ৪৮৪ কোটি ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার ১৭২ টাকা। এছাড়া র‌্যান্স রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের সাবেক পরিচালক হিসেবে একটি ঋণের জামিনদার তিনি। তবে এই ঋণের পরিমাণ উল্লেখ করেননি কাজী রফিক।

২০২৫ সালে বগুড়া-১ এর প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম সরকারকে কর দিয়েছেন ৩ লাখ ৮০ হাজার ৬১৫ টাকা।

কাজী রফিকের হলফনামায় বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাড়ি ভাড়া ও ব্যবসা থেকে আয়ের ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করবেন তিনি। এই নির্বাচনী ব্যয়ে আত্মীয়-স্বজন বা অন্য কোনো উৎস থেকে অর্থের যোগানের প্রয়োজন নেই কাজী রফিকের।

ঢাকা/এনাম/এস

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়