ঢাকা     সোমবার   ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ২৮ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

ভোটের আগে ফল ঘোষণার মতো পরিস্থিতি হয়েছে: মান্না

বগুড়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:১৫, ১১ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ২০:০২, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, বর্তমান অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কোনো কিছুর কন্ট্রোল নিতে পারেনি। পুলিশ এখন পর্যন্ত প্রো-অ্যাকটিভ তো দূরের কথা, একটিভও নয়। বহু জায়গাতে দেখছি, পুলিশ প্রায় নীরব ভূমিকা পালন করছে। শুধু মবোক্রেসি নয়, পরিস্থিতি এমন—ভোটের আগে ফলাফল ঘোষণা হয়ে যাওয়ার মতো হয়েছে। 

বগুড়া-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এর আগেও আমি বগুড়া থেকে নির্বাচন করেছি। তার বিরোধিতা করতে গিয়ে যে ‘মবোক্রেসি’ করা হয়েছে, তা খুবই অশুভ ইঙ্গিত বহন করে। 

তিনি মনে করেন, জেলা প্রশাসক বিচলিত হয়ে মনে করেছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানোই ভালো। তা না হলে মনোনয়ন বাতিলের কোনো কারণ ছিল না।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, কারা বিরোধিতা করেছে, এটা সবাই জানে, পত্রিকাতেও প্রকাশ হয়েছে। আমার মুখ দিয়ে বলানোর মধ্যে যদি তৃপ্ত থাকে, সেটা ভিন্ন জিনিস। কাজেই আমার প্রতিদ্বন্দ্বী সেখানে কে আছে, এটা সবাই জানে। নাম এজন্য বলব না, কারণ সম্পর্ক তিতা করতে চাই না। কিন্তু, আমি কোনোভাবে যারা ভুল করছেন, তাদের খাতির করে বলব না, এটা করছি না।  আমি সম্পর্ক রাখতে চাই। আমি মনে করি, লড়াই সামনে আরো হবে। সেই লড়াইয়ে যত বেশি ঐক্য নিজেরা করতে পারি, সেটাই ভালো। বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও তো শক্তি আছে। বাইরের শক্তি আছে। আমরা সবাই মিলে এই শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইটা যেন করতে পারি। এজন্যই নামটি বলছি না।

প্রচারণার সময় মবোক্রেসির আশঙ্কা করছেন কি না, এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, অনেক কিছুরই আশঙ্কা করছি। কারণ, অনেস্টলি বললে, এই অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কোনোকিছুর কন্ট্রোল নিতে পারেনি। পুলিশ এখন পর্যন্ত প্রো-অ্যাকটিভ তো দূরের কথা, অ্যাকটিভও নয়। বহু জায়গাতে দেখছি, পুলিশ প্রায় নীরব ভূমিকা পালন করছে। শুধু মবোক্রেসি নয়, মানে পরিস্থিতি এমন—ভোটের আগে ফলাফল ঘোষণা হয়ে যাবার মতো হয়েছে না? এটাকে অন্যায় বলছি না, কিন্তু পরিস্থিতি এমন হয়েছে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বী একটা তো নাই। তারা অন্যায়-অত্যাচারের কারণে পরিত্যক্ত, বিতাড়িত। তারা এখন ভোট করতে পারছে না। অতএব, কোনো কোনো শক্তি একক হয়ে গেছে। এর ফলে প্রশাসন মনে করছে, তাদেরকেই যেকোনোভাবে সার্ভ করার চেষ্টা করি।

তিনি প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, এটাই চূড়ান্ত বিষয় নয়। যেটা নিয়ম, আপনারা সেটাই করুন। গণতন্ত্রের যে নিয়ম সেটাই করুন। এর পরে কে ক্ষমতায় যাবে, কে এমপি হবে, এটা দেখে খাতির যদি করে, তবে বাক্স (ব্যালট বাক্স) নিয়ে গেলেও তারা সম্ভবত কিছু বলবে না। এগুলো সতর্ক থাকা ভালো। এটা আমি নির্বাচনি প্রক্রিয়ার সমালোচনা করার জন্য বলছি না। বরং, এটাকে আরো সমুন্নত করা ও উন্নত করার জন্য বলছি।  

গত ২ জানুয়ারি শুক্রবার যাচাই-বাছাইয়ে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান৷ মনোনয়ন বাতিলের কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, হলফনামার এফিডেভিডে একইদিনে আইনজীবী ও প্রার্থীর সই থাকতে হয়। কিন্তু, মান্না যেদিন সই করেছেন, আইনজীবী তার এক দিন আগেই সই করেছেন। মান্না যেসব মামলায় খালাস পাওয়ার কথা লিখেছেন, সেগুলোর কাগজপত্র দেননি। আর সম্পদের যে বিবরণী দিয়েছেন, তাতে ত্রুটি আছে। পরে রিটার্নিং কর্মকর্তার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেন মান্না।

ঢাকা/এনাম/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়