সিরাজগঞ্জের প্রবীণ সাংবাদিক রফিকুল আলম আর নেই
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
রফিকুল আলম।
সিরাজগঞ্জ প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্য ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সাবেক জেলা প্রতিনিধি প্রবীণ সাংবাদিক রফিকুল আলম খান (৮৩) মারা গেছেন। রবিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
রফিকুল আলম দীর্ঘদিন দৈনিক আমার দেশ, দৈনিক প্রথম আলো, বাংলাদেশ বেতার, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক আজাদ, দৈনিক বাংলা ও দৈনিক বার্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যমে কাজ করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রফিকুল আলম ১৯৪৬ সালের (১০ ফেব্রুয়ারি) সদর উপজেলার ডুমুর বড়বাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম এলাহী বখশ তৎকালীন বিশিষ্ট আইনজীবী ছিলেন। তার মাতা মরহুমা ওয়াজেদা খানম।
রফিকুল আলম গ্রামের পাঠশালায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ১৯৫৬ সালে সিরাজগঞ্জ শহরের ভিক্টোরিয়া হাইস্কুলে ভর্তি হয়ে ১৯৬১ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। পরে ১৯৬৫ সালে সিরাজগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে বিএ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন।
পারিবারিক জীবনে তার স্ত্রী উম্মে সালমা একজন গৃহিণী। দুই মেয়ে ও এক সন্তানের জনক ছিলেন তিনি। বড় মেয়ে রাফিয়া সুলতানা সুমনা লন্ডন প্রবাসী। তিনি লন্ডনে বেসরকারি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে কর্মরত রয়েছেন। ছোট মেয়ে শারমিন সুলতানা শারমিন। একমাত্র ছেলে মাহমুদুল আলম জগন্নাথ বিশ্বদ্যিালয়ের ছাত্র ছিলেন। ২০১৩ সালের দিকে দিনাজপুরে তাবলীগ জামায়াতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যায়।
রফিকুল আলম ছাত্রজীবন থেকে লেখালেখি করতেন। ১৯৬৫ সালে দৈনিক সংবাদ পত্রিকার নিজস্ব সংবাদদাতা হিসেবে সাংবাদিকতায় প্রবেশ করেন। পরে ১৯৬৮ সালে প্রাচীনতম কাগজ দৈনিক আজাদ এর নিজস্ব সংবাদদাতা নিযুক্ত হন। ১৯৭৪ সালে দৈনিক আজাদ বন্ধ হয়ে গেলে তার সাংবাদিকতায় ছেদ পড়ে। পরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় রাজশাহী থেকে প্রকাশিত দৈনিক বার্তার নিজস্ব সংবাদদাতা হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর ১৯৮২ সালে রফিকুল আলম খান দৈনিক বাংলায় যোগ দেন। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে দৈনিক প্রথম আলো বের হয়। প্রতিষ্ঠানকালীন দৈনিক প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত হন। পরে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ বেতারের সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা হিসেবে কাজ শুরু করেন।
সাংবাদিকতা জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে রফিকুল আলম ১৯৭২ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক কিষাণ পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব নেন। সেখানে সুনামের সঙ্গে ৩ বছর দায়িত্ব পালন করে সাপ্তাহিক সমযুগ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন।
রফিকুল আলম বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির বৃহত্তর পাবনার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সিরাজগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবেও সাংবাদিকদের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি এস এম তফিজ উদ্দিন বলেন, ‘‘রফিকুল আলমের মৃত্যুতে মর্মাহত হয়েছি। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। তার কাছ থেকে আমি সাংবাদিকতার অনেক কিছু শিখেছি।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘কীভাবে সংবাদ লিখতে হয়, কীভাবে সংবাদ তৈরির আগে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়, আমাকে শিখিয়েছেন। এ রকম একজন মানুষকে আজ হারালাম।’’
এশা নামাজের পর সিরাজগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে রহমতগঞ্জ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
ঢাকা/রাসেল/বকুল