জিতেও বার্সার স্বপ্নভঙ্গ, এক যুগ পর ফাইনালে আতলেতিকো
কাম্প নউয়ের গ্যালারিতে তখন বিশ্বাস আর আশার ঢেউ। অসম্ভবকে সম্ভব করার লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বার্সেলোনা। তিন গোল করে ম্যাচ জিতেও শেষ পর্যন্ত ফাইনালের দরজা খুলল না তাদের জন্য। দুই পর্ব মিলিয়ে ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে কোপা দেল রের শিরোপার লড়াইয়ে জায়গা করে নিল আতলেতিকো মাদ্রিদ।
চার গোলের ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপায় কাতালানরা। বল দখলে ছিল প্রায় ৭১ শতাংশ সময়। পুরো ম্যাচে ২১টি শট নেয় তারা, যার ৯টি ছিল লক্ষ্যে। আতলেতিকোর ৭ প্রচেষ্টার মাত্র ২টি ছিল লক্ষ্যে।
২৯ মিনিটে লামিনে ইয়ামালের দুর্দান্ত পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মার্ক বের্নাল। এরপর যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ান রাফিনিয়া। প্রথমার্ধেই ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় বার্সেলোনা।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ফ্লিকের দল। ৭২ মিনিটে জোয়াও কান্সেলোর ক্রস থেকে ভলিতে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন বের্নাল। তখনও হাতে ছিল প্রায় ১৮ মিনিট। আর মাত্র একটি গোল পেলেই দুই পর্ব মিলিয়ে সমতা।
শেষ সময়টায় একের পর এক আক্রমণ চালাল বার্সেলোনা। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে জেরার্দ মার্তিনের শট ক্রসবার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। যোগ করা সময়েও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ইয়ামাল।
অন্যদিকে গোলরক্ষক হুয়ান মুস্সোর একাধিক দুর্দান্ত রক্ষণ আতলেতিকোকে বাঁচিয়ে রাখে।
বার্সেলোনা পুরো ম্যাচে প্রায় ৬৫০টির বেশি পাস দিয়েছে, সফলতার হার ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ। তবে গোলের সামনে শেষ স্পর্শে ঘাটতি তাদের স্বপ্ন ভেঙে দেয়।
২০১২-১৩ মৌসুমে শেষবার এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতেছিল আতলেতিকো মাদ্রিদ। দীর্ঘ ১২ বছর পর আবারও ফাইনালে উঠল দিয়েগো সিমেওনের দল। শিরোপার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে রেয়াল সোসিয়েদাদ অথবা আথলেতিক বিলবাও।
এই ম্যাচে জয় পেয়েছে বার্সেলোনা, কিন্তু উৎসব করেছে আতলেতিকো। ফুটবলের নির্মম সৌন্দর্য এখানেই- সবচেয়ে বেশি আক্রমণ, সবচেয়ে বেশি সুযোগ, এমনকি তিন গোলের জয়ও কখনও কখনও যথেষ্ট হয় না।
ঢাকা/আমিনুল