ঢাকা     সোমবার   ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ২৮ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

খুলনার নদী-খাল থেকে এক বছরে অর্ধশত লাশ উদ্ধার 

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৪০, ১১ জানুয়ারি ২০২৬  
খুলনার নদী-খাল থেকে এক বছরে অর্ধশত লাশ উদ্ধার 

খুলনায় কয়েকটি নদী ও খাল থেকে গত ১ বছরে ৫০টি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এগুলোর মধ্যে ৩২টির পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। বাকিগুলোর পরিচয় জানা যায়নি। লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বিভিন্ন থানায় ১৪টি হত্যা মামলা এবং ২৬টি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। সর্বশেষ ১১ জানুয়ারি পাইকগাছার কপোতাক্ষ নদী থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। 

খুলনা নৌ পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ৮ জন নারী, ৩৩ জন পুরুষ এবং ৭ জন শিশু। 

আরো পড়ুন:

খুলনার বিভিন্ন নদী ও খাল থেকে জানুয়ারিতে ১টি, ফেব্রুয়ারিতে ২টি, মার্চে ৪টি, এপ্রিলে ৩টি, মে মাসে ৬টি, জুনে ৬টি, জুলাইয়ে ৩টি, আগস্টে ৮টি, সেপ্টেম্বরে ৬টি, অক্টোবরে ৩টি, নভেম্বরে ৪টি এবং ডিসেম্বরে ২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

খুলনা নৌ পুলিশের এসপি মুহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ বলেছেন, “সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা ও পিরোজপুর নিয়ে নৌ পুলিশ খুলনা অঞ্চল গঠিত। গত এক বছরে নদী থেকে উদ্ধারকৃত ঘটনায় ১৪টি হত্যা মামলা, ২৬টি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মামলা ছাড়া ৮টি মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি। ১৪টি হত্যা মামলায় ৫ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “এখানকার নোনা পানি ও বৃষ্টিতে লাশগুলো দ্রুত পচে যায়। ৩ দিনের বেশি হলে টিস্যুগুলো পচে গেলে তার পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। জোয়ার-ভাটায় বিভিন্ন এলাকা থেকে লাশগুলো ভেসে আসে। সেক্ষেত্রে লাশ উদ্ধারের পর আমরা সারা দেশে খবর পাঠিয়ে দিই।”

মুহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, “কখনো কখনো ১-২ দিনের নবজাতক শিশুর লাশও পাওয়া যায়। পুলিশের মধ্যে একটি চর্চা আছে, এগুলোকে তারা হত্যা মামলা হিসেবে নেয় না। অথচ, শিশু তো হেঁটে আসেনি। তাকে কেউ না কেউ ফেলে যায়। তাই, শিশুদের মরদেহগুলো শনাক্ত করা যায় না। তবে, এগুলো আমরা হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করি।”

গত ৯ জানুয়ারি শুক্রবার খুলনার ৬ নম্বর ঘাট এলাকার ভৈরব নদে দুটি লাইটার ভেসেলের মাঝখান থেকে রাজীব নামের এক যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

খুলনা নৌ পুলিশ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আক্তার জানান, দুপুরের পর লাশ রাজীবের দুই স্ত্রীর কাছে দেওয়া হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবারকে বলা হয়েছে। তার মাথার পেছনে গভীর আঘাতের চিহ্ন আছে। ওই আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে খুলনার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। 

তিনি জানান, ৩ জানুয়ারি থেকে রাজীব নিখোঁজ ছিলেন। এক সপ্তাহ পর তার ফুলে-ফেঁপে ওঠা লাশ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ হওয়ার দিনই তাকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা/নূরুজ্জামান/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়