হাদি হত্যার বিচার দাবি
পঞ্চগড়ে বিক্ষোভকারীদের সরতে বলায় সেনাবাহিনীর ওপর চড়াও, লাঠিচার্জ
পঞ্চগড় প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে পঞ্চগড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় সড়ক থেকে সরে যেতে বলায় সেনা সদস্যদের ওপর চড়াও হন বিক্ষোভকারীরা। দুই পক্ষের মধ্যে ধ্বস্তাধ্বস্তি হয়। পরে লাঠিচার্জ করে বিক্ষোকারীদের সরিয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড় শহরের চৌরঙ্গী মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রবিবার দুপুর থেকেই ঢাকা-তেঁতুলিয়া সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছিলেন শিক্ষার্থীরা। যানজট নিরসনে শিক্ষার্থীদেরকে কর্মসূচি শেষ করতে বলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ধ্বস্তাধ্বস্তি হয়। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। পরে পঞ্চগড় সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, কর্মসূচি শেষ করার পর সেনাবাহিনী আক্রমণ করেছে। কয়েকজনকে বেধড়ক পিটিয়েছে। তাদের এমন আচরণে যানজট আরো বেড়ে যায় এবং পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়।
আন্দোলনের নেতা ফজলে রাব্বী ও মোকাদ্দেসুর রহমান সান বলেন, আমরা ওসমান বিন হাদির হত্যার বিচার দ্রুত কার্যকরের দাবিতে আন্দোলন করছিলাম। একপর্যায়ে কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করি। কিন্তু, তাৎক্ষণিক সেনা সদস্যরা আমাদের ওপর হামলা করে। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর কাছে কখনোই এটা কাম্য ছিল না।
পঞ্চগড় সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ শিক্ষার্থীদের বলেন, ওসমান হাদি হত্যার বিচারের পক্ষে আমরাও। আজকে আন্দোলনের কারণে যানজট তৈরি হলে একজন লেফটেন্যান্ট একাধিকবার সড়কের বাইরে গিয়ে কর্মসূচি চালাতে বলে। একপর্যায়ে যানজট নিরসনের জন্য তাদেরকে সরিয়ে দিতে গেলে লাঠিচার্জের ঘটনা হয়ত ঘটেছে। এটা হলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আমি দুঃখিত। তবে, আমাদের সদস্যরাও আহত হয়েছে, এটাও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উচিত হয়নি। এটা আমরা মিউচুয়ালি সলভ করতে চাই।
ঢাকা/নাঈম/রফিক