সিরাজগঞ্জে জমজমাট গরম কাপড়ের বাজার
অদিত্য রাসেল, সিরাজগঞ্জ || রাইজিংবিডি.কম
যাছাই-বাছাই করে নিজের ও পরিবারের জন্য সিরাজগঞ্জের হকার্স মার্কেট থেকে গরম কাপড় কিনছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ
পৌষের ঠান্ডায় জবুথবু হয়ে পড়েছেন যমুনা পাড়ের শহর সিরাজগঞ্জের মানুষ। স্বপ্ল ও মধ্যম আয়ের মানুষ পুরাতন গরম কাপড় কিনতে ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ দোকনে ভিড় করছেন। শহরের হর্কাস মার্কেটের দোকানগুলোতে জমে উঠেছে বেচাকেনা। গত বছরের তুলনায় এ বছর পোশাকের দাম কিছুটা বেশি হলেও তা মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে এমনটি দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। তারা আশা করছেন, ৬ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে ব্যবসা।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সরেজমিনে দেখা গেছে, সিরাজগঞ্জ পৌর হর্কাস মার্কেট ও ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে ক্রেতারা তাদের চাহিদা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে কিনে নিচ্ছেন গরম পোশাক। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এসব দোকানে ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের মধ্যে তরুণ ক্রেতার সংখ্যাই ছিল বেশি।
ক্রেতারা জানান, এবার তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এ কারণে তারা গরম কাপড় কিনতে ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে যাচ্ছেন। সুযোগ বুঝে বিক্রেতারাও দাম হাঁকাচ্ছেন দ্বিগুন।
সিরাজগঞ্জ পৌর হকার্স মার্কেটে গরম কাপড় কিনতে আসা সাগর হোসেন বলেন, “এবারের শীত অন্যবারের তুলনায় বেশি মনে হচ্ছে। ছেলে-মেয়ের জন্য শীতের জামা কিনতে এসেছি। বিক্রেতারা দাম একটু বেশি চাচ্ছেন। গত সপ্তাহে যে পোশাক ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, আজ তার দাম ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা হাঁকাচ্ছেন। দামাদামি করে ৪৫০ টাকায় একটা জামা নিয়েছি।”
এস.এস রোডে পুরাতন ভ্রাম্যমাণ দোকানে শীতবস্ত্র কিনতে আসা রিকশা চালক সুজাব হোসেন বলেন, “বড় মার্কেটে গরম কাপড়ের দাম অনেক। শুনেছি, হর্কাস মার্কেট থেকে ৩০০ টাকায় বিদেশি পোশাক পাওয়া যায়। তাই এই মার্কেটে এসেছি। স্ত্রী, সন্তান ও আমার জন্য ১ হাজার টাকায় গরম কাপড় কিনতে পেরেছি।”
গরম কাপড়ের বিক্রেতা পলাশ শেখ বলেন, “সোয়েটার ও জ্যাকেট আমরা বিক্রি করি। অপেক্ষাকৃত কম দামে একটি জ্যাকেট বা সোয়েটার ক্রেতার হাতে তুলে দিতে পারলে আমাদেরও ভালো লাগে। ক্রেতার শরীরে পোশাক যখন মানানসই হয়, তখন তার মুখের হাসিই আমাদের মনে প্রশান্তি এনে দেয়।”
তিনি বলেন, “শীত এলেই পুরাতন গরম কাপড়ের কদর বাড়ে। এবার গতবারের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি, তবে তা মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে।”
অপর বিক্রেতা সিদ্দিক আলী বলেন, “বেশি বিক্রি হয় তরুণদের জ্যাকেট। যেসব নতুন জ্যাকেট বাজারে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়, একই ধরনের পুরাতন পোশাক আমরা ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি করি। এ জন্য আমাদের তরুণ ক্রেতা বেশি।” তিনি জানান, এসব পোশাক তারা চট্টগ্রাম থেকে কিনে আনেন। যা কোরিয়া, জাপান ও তাইওয়ান থেকে বাংলাদেশে আসে।
পাইকারি ব্যবসায়ী বাবলু শেখ বলেন, “শার্ট, প্যান্ট ও গেঞ্জিসহ নানা ধরনের পোশাক সারা বছর বিক্রি হয়। বেশি বিক্রি হয় বড় বাজার এলাকায়। ঝুঁকি ও উচ্ছেদ আতঙ্ক নিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে। হকার্স মার্কেটটি পুরোদমে চালু হলে ব্যবসার আরো প্রসার ঘটবে।”
সিরাজগঞ্জ পৌর হর্কাস মার্কেট মালিক সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন বলেন, “এই সমিতির আওতায় ১৫০ জন সদস্য রয়েছে। তারা প্রত্যেকেই পুরাতন পোশাক বিক্রির সঙ্গে জড়িত। চলতি মৌসুমে পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকার পুরাতন কাপড় বিক্রি হবে এমনটি আমরা আশা করছি।”
তাড়াশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “চলতি মৌসুমে জেলায় গত ৩ জানুয়ারি সকালে ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছিল। সেই থেকে যমুনা পাড়ের জেলার ৯টি উপজেলায় ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমেল হাওয়াও বইছে, যে কারণে শীতের তীব্রতা বেশি।”
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল বাছেত বলেন, “জেলার দুস্থ ও অসহায় মানুষদের মধ্যে প্রায় ২৬ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরো চাহিদার জন্য আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সেগুলো বিতরণ করা হবে।”
সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমিন বলেন, “এক সপ্তাহ ধরে ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমেল হাওয়া বয়ছে। ঠান্ডাজনিত সর্দি-কাশি, হাঁপানি, অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।”
ঢাকা/অদিত্য/মাসুদ