ঢাকা     সোমবার   ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ২৯ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

ঠাকুরগাঁওয়ে এলপিজি সংকটে গ‍্যাস স্টেশন বন্ধ, যান চলাচল ব্যাহত

মঈনুদ্দীন তালুকদার হিমেল, ঠাকুরগাঁও || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৪৪, ১২ জানুয়ারি ২০২৬  
ঠাকুরগাঁওয়ে এলপিজি সংকটে গ‍্যাস স্টেশন বন্ধ, যান চলাচল ব্যাহত

এলপিজি সংকটে ঠাকুরগাঁওয়ে গ‍্যাস স্টেশন বন্ধ রয়েছে।

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ‍্যাসের (এলপিজি) চলমান সংকটে ঠাকুরগাঁওয়ে যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহকারী গ‍্যাস স্টেশন বন্ধ রয়েছে। এতে জেলায় গ্যাসচালিত গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকছে। কবে নাগাদ এর সমাধান হবে তার উত্তর মিলছে না। 

জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে এলপিজির তীব্র সংকটে জেলার প্রায় সব এলপিজি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জেলার হাজারের অধিক এলপিজিচালিত যানবাহনের ওপর। গাড়ির মালিক ও চালকেরা জ্বালানি না পেয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস পাচ্ছে না। এক্ষেত্রে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে পেট্রোল ও অকটেন ব্যবহারে খরচ দ্বিগুণ বেড়েছে। যাতে সাধারণ যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়ায় গুনতে হচ্ছে।

এলপিজিচালিত গাড়ির চালক আলমগীর বলেন, ‘‘পাঁচদিন হয়ে গেল কোথাও এলপিজি গ্যাস পাচ্ছি না। বিকল্প হিসেবে পেট্রোল বা অকটেন দিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এতে করে জ্বালানি খরচ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আমরা বিপাকে পড়বো।’’  

আরেক চালক শাকিল বলেন, ‘‘আমি ভাড়ায় গাড়ি চালাই। জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীর কাছে অতিরিক্ত ভাড়া চাইতে হচ্ছে কিন্তু হঠাৎ বাড়তি ভাড়া কেউ দিতে চায় না। যাত্রী ফিরে যাচ্ছে।’’

ঠাকুরগাঁওয়ের মন্দির পাড়ার বাসিন্দা রকি আজম বলেন, ‘‘আমি আজ একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করতে গিয়েছিলাম। ২ হাজার টাকার ভাড়া, তারা সাড়ে ৩ হাজার টাকা চাচ্ছে। হঠাৎ এভাবে ভাড়া বেড়ে গেলে আমাদের জন্য সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক। দ্রুতই এর সমাধান চাই।’’

এদিকে, কবে নাগাদ গ্যাস পাওয়া যাবে তার উত্তর দিতে পারছে না ঠাকুরগাঁওয়ের অটোগ্যাস স্টেশন সংশ্লিষ্টরা। আমদানি নির্ভর এই গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় সংকট তৈরি হয়েছে। 

উত্তর বাংলা কনভারসন এন্ড এলপিজি ফিলিংস্টেশনের পরিচালক তাসনিমুল হাসান তাকি বলেন, ‘‘আমরা বার বার চাহিদা দিলেও গ্যাস পাচ্ছি না। ৬ দিন থেকে আমাদের স্টেশনে এলপিজি নেই। গাড়িগুলো বার বার এসে ফিরে যাচ্ছে। কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে, তা ঠিক বলা যাচ্ছে না।’’ 

চলমান এই এলপিজি গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ে রান্নার কাজে ব্যবহৃত সিলিন্ডারের ক্ষেত্রেও। অধিকাংশ খুচরা দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।  কিছু দোকানে পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত দাম চাচ্ছে। এতে করে অনেকে বৈদ্যুতিক চুলার দিকে ঝুঁকছে।

ঠাকুরগাঁও হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা তানভীর জানান, যেহেতু পাইপলাইন গ্যাস ব্যবস্থা নেই। শহরের বহুতল ভবনে রান্নার কাজে এলপিজি সিলিন্ডারের উপর নির্ভর করতে হয়। তবে এলপিজি সিলিন্ডার এখন পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু ক্ষেত্রে পাওয়া গেলেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। 

নিমবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বিশাল বলেন, ‘‘আমার বাসায় সিলিন্ডারে রান্না হতো। তবে বর্তমান বাজারমূল্য অসহনীয়। তাই আজ একটা বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছি।’’ 

ঠাকুরগাঁও সুশাসনের জন্যে নাগরিক সুজনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, ‘‘হঠাৎ করে পরিবহন খরচ ও রান্নার ব্যয় বেড়ে গেছে। দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব পড়েছে। বিষয়টি সরকারের গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানের পথ বের করা উচিত।’’  
 

ঢাকা/বকুল 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়